,


স্ক্যাম ১৯৯২ ওয়েব সিরিজ রিভিউ

স্ক্যাম ১৯৯২ ওয়েব সিরিজ রিভিউ

স্ক্যাম ১৯৯২ ওয়েব সিরিজের রিভিউ পড়ার আগে। স্ক্যাম ১৯৯২ হিন্দি ওয়েব সিরিজ মুভির অভিনেতা, অভিনেত্রী, নির্মাতাসহ সকল কলাকুশলী ও মুক্তি সম্পর্কিত সকল তথ্য নিচের প্রদত্ত লিংক থেকে জেনে আসুন।

স্ক্যাম ১৯৯২ ওয়েব সিরিজ

স্ক্যাম ১৯৯২ ওয়েব সিরিজ সম্পর্কিত তথ্যাদি জানা থাকলে আমাদের রিভিও পড়ে মজা পাবেন এবং আপনি আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারবেন। আর হ্যা আপনি চাইলে আপনার প্রিয় মুভি বা তারকার সম্পর্কে আপনার মতামত বা রিভিউ লিখে আমাদের পাঠাতে পারেন। তো কথা না বাড়িয়ে শুরু করা যাক……

স্ক্যাম ১৯৯২ ওয়েব সিরিজ রিভিউঃ ব্রিলিয়ান্ট মেকিং অ্যান্ড পারফরমেন্স

  • পার্সোনাল রেটিংঃ ৯/১০
  • রিভিউকারীঃ আরিয়ান

সিরিজটি দেখা শুরু করছিলাম অনেক আগে কিন্তু কাজের চাপে শেষ করতেই পারছিলাম না, কাল ফাইনালি দেখে শেষ করলাম। আর আজ আমার প্রিয় প্লাটফর্ম একটি বাংলাদেশে ওয়েব সিরিজটির রিভিউ লিখতে বসে গেছি। আর এখন নিয়মিত মুভি বা সিরিজ নিয়ে লেখার চেষ্টা করছি। বরাবরের মতোই একটু ব্যতিক্রমভাবে অর্থাৎ আমার নিজের মতো করে কয়েকটি পয়েন্ট উল্লেখপূর্বক রিভিউ লিখছি। আশা করি সবার ভালো লাগবে।

টাইটেল

প্রথমেই বলে নেই ওয়েব সিরিজটির টাইটেল সম্পর্কে, ইন্ডিয়ার শেয়ার বাজারের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারির প্রকাশ পেয়েছিল ১৯৯২। তাই সেই কেলেঙ্কারিকে স্ক্যাম ১৯৯২ বলা হয়। সেই সময় সাংবাদিক সুচেতা দালাল এবং দেবাশীষ বসুর বই দ্য স্ক্যাম: হু ওয়ান, হু হু হু হু হু গট অ্যাওয়ে লিখেছিলো, সেটা থেকে গল্প নেওয়া হয়েছিল, গল্পের বিষয়ে পড়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

যেহেতু সিরিজটি সেই কেলেঙ্কারির সম্পর্কিত তাই সিরিজটির নাম স্ক্যাম ১৯৯২ দেওয়া হয়েছে। টাইটেল একদম পার্ফেক্ট ছিলো।

কাস্টিং, রোল ও অভিনয়

এবার আশা যাক কাস্টিং, রোল ও অভিনয়ের দিকে। এই অংশে মূল চরিত্রের কিছু তারকাদের সম্পর্কে আলাদা আলাদা ভাবে জানা যাক।

প্রতীক গান্ধীঃ হর্ষদ মেহতা চরিত্রে প্রতীক গান্ধী পারফেক্ট ছিলো। এই অভিনেতা বা চরিত্র সম্পর্কে বলার আগে কিছু কথা বলে নেই। বরাবরই বাস্তবঘটনা বা বায়োপিক হলে আগে সেটা সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকে, অনেক ঘাটাঘাটি করি, যখন এই সিরিজটির ব্যাপারে জানলাম তখন অনেক ঘাটাঘাটি করলাম অনেক কলাম, নিউজ পরলাম, উইকিতে পরলাম, অনেক ভিডিও বা হর্ষদ মেহতার ইন্টারভিউ এবং সেই সময়ের নিউজ গুলি দেখে ছিলাম। যার কারণে হর্ষদ মেহতা সম্পর্কে, তার কথা বলা, আচরণ ও তার কার্যকলাপ সম্পর্কে ইতিমধ্যেই জানতে পারছিলাম।

কথা গুলি বলার পেছনে কারণ হলো, প্রতীক গান্ধীকে হর্ষদ মেহতার হুবহু কপি লাগছিল। সে অনেক সুন্দরভাবে হর্ষদ মেহতার চরিত্রটি উপস্থাপন করেছেন। আমি আগে তার কোন কাজ দেখি নাই। তবে এখন থেকে দেখবো মনে হচ্ছে। সে তার অভিনয়ের স্কীল দেখিয়ে দিয়েছেন আমাদের। সাঞ্জু মুভিতে রণবীর যেমন চরিত্রে ঢুকেগেছিলো ঠিক তেমনি দেখতে মিলেছে প্রতীকের অভিনয়ে। আমার কাছে বেস্ট ছিলো প্রতীক গান্ধীর অভিনয়।

শ্রেয়া ধনবন্তরীঃ ওয়েব সিরিজটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিলো সুচেতা দালাল, চরিত্রটিতে কাস্ট করা হয়েছিল শ্রেয়া ধনবন্তরীকে। তবে সুচেতা দালাল চরিত্রের গল্পে কিছুটা কমতি লক্ষ্য করেছি। বাস্তব জীবণে সুচেতা দালাল একটু অন্য রকম, যা তার ইন্টারভিউয়ে লক্ষ্য করেছি। তবে শ্রেয়া ধনবন্তরী অনেক ভালো অভিনয় করেছে।

এছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে অনেক অভিনয় করেছেন। সবাই সবার অভিনয়ের বেস্টটাই দিয়েছেন সিরিজটিতে। একটা মজার বিষয় হচ্ছে, ওয়েব সিরিজের সকল চরিত্রের আসল নামই ছিলো, কোথাও কোন নাম পরিবর্তন বা লুকানোর বিষয়টা ছিলো না।

মেকিং

মেকিং এর কথা বলতে গেলে প্রথমেই আমার মনে আসে হংসল মেহতা ও জয় মেহতার কথা, তিনি অনেক সুন্দরভাবে সিরিজটি নির্মাণ করেছেন। কোথাও এক বিন্দুও কমতি মনে হয় নাই। তিনি চরিত্র ও গল্পকে বাস্তব সম্মতভাবে উপস্থাপন করার জন্য ছোট থেকে ছোট বিষয়েও নজর দিয়েছেন, যা আমার অনেক পছন্দনীয় ছিল। ওয়েব সিরিজটি নির্মাণের ঘোষণা পর থেকে দর্শকমহলে অনেকটা কৌতুহল ছিলো। যা যথার্থভাবে পরিপূর্ণ করেছেন বলে আমার মনে হয়েছে। তা না হলে সনিলিভের মতো প্লাটফর্ম থেকে এতোটা জনপ্রিয়তা কাম্য ছিলো না। এক কথায় বলতে গেলে বলবো খুবই ভালো ছিলো।

প্লট

এবার সিরিজটির প্রাণ অর্থাৎ গল্প নিয়ে বলা যাক। ১৯৯২ সালে ভারতের শেয়ার বাজারের কেলেঙ্কারির উপর ভিত্তি করে সাংবাদিক সুচেতা দালাল এবং দেবাশীষ বসু ”দ্য স্ক্যাম: হু ওয়ান, হু হু হু হু হু গট অ্যাওয়ে” নামে একটি বই লিখেছিলেন। যা থেকেই নাকি সিরিজটি নির্মিত হয়েছে। আমি বইটি পড়ি নাই তাই এক্সার্টলি বলতে পারবো না গল্পটি হুবহু এমনই ছিলো কিনা। গল্পে শেয়ার বাজার, শেয়ার বাজারে কালো কাজকর্ম, শেয়ার বাজারের অপকর্মে লিপ্ত মানুষ, ব্যাংকের কার্যকলাপ ও ভারতের শেয়ার বাজারের বিগ বুল হর্ষদ মেহতার সম্পর্কে সকল বিষয়াদি বিসদ ভাবে উঠে এসেছে।

যা আমার মতো মানুষ জনদের বোঝার সুবিধা করে দিয়েছে। ছোট বেলা থেকে শুধু শেয়ার বাজার শব্দটি শুনে এসেছি। কিন্তু কি ভাবে এবং কারা এগুলি অপারেট করে এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলে তা সিরিজটি দেখে জেনেছি।

তবে কেন জানি আমার কাছে মনে হইছে গল্পটাতে হর্ষদ মেহতার পয়েন্ট অব ভিউ গুলি তুলে ধরার অনেক চেষ্টা করেছে। যাই হোক যেহেতু বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে সেহেতু বেশী কিছু না বলি, কারণ কোন কিছু ভালোভাবে না জেনে কমেন্টস করা ঠিক না।

গল্পে কোন কিছু হাইড করে নাই এবং সবার সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে বিষয়টা ভালো লেগেছে।

ওভারঅল

সর্বোপরি বলা যায়, ভালো সিরিজটি অনেক ভালো ছিলো। আপনি যদি না দেখে থাকেন তবে দেখে নিতে পারেন। আপনার সময় নষ্ঠ হবে এটুকু বলতে পারি। সিরিজটি ১০ এপিসোড অর্থাৎ ৮ ঘন্টা+, তারপরেও আমার একটুও বিরক্তি লাগে নাই। যাই হোক, একই গল্পে অভিষেক বচ্চনের বিগ বুল আসছে সেটা কেমন হবে এখন সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি।

আজকের মতো বিদায় নিচ্ছি আবার সময় করে অন্য কোন ওয়েব সিরিজ, টিভি সিরিজ অথবা মুভি নিয়ে লিখবো। আপনাদের রিভিউটি ভালো খারাপ যাই লাগুক কমেন্ট করে জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

সর্বশেষ




%d bloggers like this: