সাজেক ভ্যালি ভ্রমণ গাইড – সাজেক যাওয়ার উপায়, থাকার ব্যবস্থা ও খরচসহ

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি সাজেক ভ্যালিকে ঘিরে। সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত, সাজেক ভ্যালি এর ইতিহাস, কেন যাবেন সাজেক ভ্যালি, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এ নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন টি সাজানো হয়েছে। আশা করি, আমাদের মূল্যবান প্রতিবেদনটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন।

Table of Contents

সাজেক ভ্যালি

বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার অন্তগর্ত বাঘাইছড়ি উপজেলায় সাজেক ভ্যালিতে অবস্থিত। বর্তমান সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য সাজেক। এখানে প্রতি বছর লক্ষাধিক দর্শনার্থী ঘুরতে যায়। সাজেক ত্রিপুরী ভ্যালি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১৮০০ ফুট উচ্চতার অবস্থিত, যেন এক প্রাকৃতিক ভূ-স্বর্গ। প্রকৃতি এখানে সকাল বিকাল রঙ বদলায়। চারপাশে সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো বিস্তীর্ণ পাহাড় সারি, আর তুলোর মতো মেঘ, এরই মধ্যে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে রয়েছে নৈস্বর্গিক সাজেক ভ্যালি।

সাজেক ভ্যালি যাওয়ার উপায়

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সরাসরি সাজেক যাওয়ার কোন বিমান, বাস, ট্রেন বা লঞ্চ নেই। তবে কয়েকটি রুট দিয়ে যাওয়া যান নিচে রুট গুলি উল্লেখ পূর্বক বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবো।

  • বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিমানে/ট্রেনে চট্রগ্রাম এসে, তারপর কদমতলি বাস স্ট্যান্ড থেকে এসি/নন এসি বাসে খাগড়াছড়ি আসতে হবে।
  • তবে বাসের যাত্রীরা চাইলে ঢাকা বা দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ি আসতে পারেন। তবে সৌদিয়া ও শান্তি পরিবহণের নন এসি বাস গুলি ঢাকা থেকে সরাসরি দীঘিনালা যায়, তাই যারা কম খরচে ভ্রমণ করতে চান তাদের জন্য সৌদিয়া ও শান্তি পরিবহণে ভ্রমণ করা ভালো হবে।
  • খাগড়াছড়ি থেকে চাদের গাড়ি/বাইক/সিএনজিতে করে দীঘিনালা হয়ে সাজেক আসতে হবে।

নিচে আমরা রাজধানী/ঢাকা কেন্দ্র করে সব গুলি রুটের গাড়ি ভাড়া উল্লেখপূর্বক বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করেছি……

ঢাকা টু সাজেক বাস ভাড়া

ঢাকা টু সাজেক যাওয়ার সরাসরি কোন বাস বা প্রাইভেট কার নেই। পাহাড়ি এলাকা ও সেনাবাহিনীদের অনুমতিতে প্রবেশ করতে হয় বিধায় ইচ্ছে করলেও আপনি যাইতে পারবেন না।

তাই আপনাকে ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি অথবা ঢাকা থেকে দীঘিনালা যেতে হবে, তারপর সেখান থেকে সাজেক ভ্যালি যেতে হবে। নিচের অংশ থেকে জেনে নিন বিস্তারিত।

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি যাওয়ার উপায় (বাস)

ঢাকার ফকিরাপুল, গাবতলী ও সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে খাগড়াছড়িগামী বাসগুলো ছেড়ে যায়৷ এদের মধ্যে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সৌদিয়া, শ্যামলি, শান্তি পরিবহন, এস আলম ও ঈগল বাস অন্যতম। এসি বাসের জনপ্রতি আসন ভাড়া বাসভেদে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকার মধ্যে এবং নন-এসি বাস ভাড়া ৭৫০ টাকা। ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির দূরত্ব প্রায় ২৭৬ কিলোমিটার এবং বাসে করে খাগড়াছড়ি পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৬ থেকে ৭ ঘন্টা।

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির বাস ভাড়াঃ

বাস নন এসি সিটের ভাড়া এসি সিটের ভাড়া
হানিফ এন্টারপ্রাইজ ৭৫০ টাকা ১৬০০ টাকা
সৌদিয়া ৭৫০ টাকা
শ্যামলি ৭৫০ টাকা
শান্তি পরিবহন ৭৫০ টাকা
এস আলম ৭৫০ টাকা
ঈগল ৭৫০ টাকা
গ্রীন লাইন ১৬০০ টাকা
সেন্ট মার্টিন হুন্দাই ১৬০০ টাকা

আপনি চাইলে খাগড়াছড়ি থেকে খোলা জিপ বা চান্দের গাড়িতে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা আর্মি ক্যাম্প হয়ে সাজেক ভ্যালি যেতে পারবেন। কিন্তু খাগড়াছড়ি থেকে তুলনামূলক বেশী ভাড়া গুণতে হবে। যারা এসি বাসের যাত্রী তাদের অবশ্য খাগড়াছড়ি থেকেই চান্দের গাড়িতে সাজেক ভ্যালি হবে। আর যারা অল্প ব্যয়ে ঘুরার প্ল্যান করেছেন তাদের জন্য দীঘিনালা থেকে সাজেক ভ্যালি যাওয়া বেশি ভালো হবে। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিমি, যেতে সময় লাগে ১ ঘন্টা। খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা বাস ভাড়া ৬০ টাকা, মোটর সাইকেল জনপ্রতি ভাড়া ১৫০ টাকা।

ঢাকা থেকে দীঘিনালা যাওয়ার উপায় (বাস)

ঢাকার ফকিরাপুল, গাবতলী ও সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে দীঘিনালাগামী বাসগুলো ছেড়ে যায়৷ এদের মধ্যে সৌদিয়া ও শান্তি পরিবহন বাস অন্যতম। নন-এসি বাসের জনপ্রতি আসন ভাড়া ৮২০ টাকা। ঢাকা থেকে দীঘিনালার দূরত্ব প্রায় ২৯১ কিলোমিটার এবং বাসে করে সিলেট পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘন্টা।

ঢাকা থেকে দীঘিনালার বাস ভাড়াঃ

বাস নন এসি সিটের ভাড়া এসি সিটের ভাড়া
সৌদিয়া ৮২০ টাকা
শান্তি পরিবহন ৮২০ টাকা

দীঘিনালা থেকে সাজেক ভ্যালি যাওয়ার উপায়

দীঘিনালা থেকে বাইক, সিএনজি ও চাদের গাড়িতে চড়ে সাজেক ভ্যালিতে যেতে হবে। আপনাদের সুবিধার্থে জানিয়ে রাখছি, দীঘিনালায় একটি সেনানিবাস রয়েছে। দীঘিনালায় সেনাবাহিনীর অনুমতি নিয়ে এরপর সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত বাকি রাস্তা আপনাকে যেতে হবে সামরিক বাহিনীর এসকোর্টে। দীঘিনালা থেকে সেনাবাহিনীর এসকোর্ট শুরু হয় সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে। তাই ওই সময়ের আগেই আপনাকে পৌঁছতে হবে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালায়। নইলে একবার সকালের এসকোর্ট মিস করলে আবার এসকোর্ট পেতে অপেক্ষা করতে হবে বিকেল ৩-৪ টা অবধি। তবে বিকেলের এসকর্ট মিস করলে পরের দিন সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

দীঘিনালায় চালকরাই সেনাবাহিনীর অনুমতি নেয় যার কারণে হাতে থাকা আধা ঘণ্টার জন্য ঘুরে আসতে পারেন হাজাছড়া ঝরনা থেকে। সাথে সেরে নিতে পারেন গোসলটাও। কারণ সাজেকে পানির খুব অভাব। তবে চিন্তার কিছু নেই, গোসল ও অন্যান্য কাজের জন্য দরকারি পানি প্রতিদিন ট্রাকে করে পৌঁছে যায় সাজেকে। পানি ব্যবহারে সাজেকে আপনাকে মিতব্যয়ী হতে হবে।

অবশ্যই গাড়ি ঠিক করার আগে কি কি দেখতে চান তা জানিয়ে দরদাম করে নিন। আর পিকনিক কিংবা পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসলে বাস বা প্রাইভেট কার নিয়ে দীঘিনালা পর্যন্ত যেতে পারবেন। সরাসরি সাজেক ভ্যালি কোন সুযোগ নেই, পাহাড়ি রাস্তা হওয়ায় বাইক, সিএনজি ও চাদের গাড়িতে যেতে হয়, তবে চাদের গাড়িতে যাওয়া বেশী নিরাপদ।

দীঘিনালা থেকে সাজেক যাওয়ার ভাড়াঃ

আপনি দীঘিনালা থেকে চাদের গাড়ি, সিএনজি ও বাইক রিজার্ভ নিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন।

চাদের গাড়ি ৫০০০-৬০০০ টাকা
সিএনজি ১৫০০-২০০০ টাকা
বাইক ১০০০-১৫০০ টাকা

তবে গ্রুপ আকারে চাঁদের গাড়ি রিজার্ভ নিয়ে ঘুরে আসাই ভালো। যদি এক-দুইজন থাকেন তবে কোন গ্রুপের সাথে যুক্ত হয়ে যাওয়া ভালো।

দীঘিনালা থেকে সাজেক যাওয়ার দীঘিনালা থেকে সাজেক যাওয়ার জীপ বা চাঁদের গাড়ির ভাড়াঃ

সাজেক যাওয়া ও আসা ৫০০০-৬০০০ টাকা
সাজেক ১ রাত্রি যাপন ৮০০০ টাকা
সাজেক ১ রাত্রি যাপন, আলুটিলা, রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ সহ ৯০০০-১০০০ টাকা
সাজেক ২ রাত্রি যাপন ৯৫০০ টাকা
সাজেক ২ রাত্রি যাপন, আলুটিলা, রিচাং ঝর্ণা ও ঝুলন্ত ব্রিজ সহ ১১৫০০-১২০০০ টাকা

সিজন টাইমে চান্দের গাড়ির ভাড়া তুলনামূলক বেশী থাকে। অন্যান্য সময় এর রেটের চেয়ে কমে গাড়ি নিতে পারবেন। তবে ভালোভাবে কথা বলে নিবেন, কি কি ঘুরে দেখবেন সে বিষয়ে অবশ্যই আলোচনা করে নিবেন।

সাজেক ভ্যালির হোটেল ও আবাসন (রিসোর্ট ও কটেজ)

দেশের নানা প্রান্ত থেকে সাজেক ভ্যালি ভ্রমনে ভ্রমনযাত্রী আসতে পারেন। ক্ষুদ্র প্রয়াস হিসেবে সাজেক ভ্যালি এর আশে পাশের প্রায় শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ আছে । এক রাতের জন্যে রুম নিতে রিসোর্ট ভেদে ১৫০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া লাগবে। ছুটির দিনে যেতে চাইলে আগে মাসখানেক আগে থেকেই বুকিং দিয়ে রাখা ভালো, নয়তো ভালো রুম পাবার নিশ্চিয়তা কম। আর কম দামে থাকতে চাইলে আদিবাসী কটেজ গুলোতে থাকতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নতুন নতুন অনেক কটেজ হয়েছে। সাজেকের সব কটেজ থেকেই মোটামুটি সুন্দর ভিউ পাওয়া যায়। যেখানে, আপনি সেফলি থাকতে পারবেন ।

সাজেকের রিসোর্ট ও কটেজ

সাজেক ভ্যালি এর আশে পাশের প্রায় শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ আছে । এক রাতের জন্যে রুম নিতে রিসোর্ট ভেদে ১৫০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া লাগবে।

রিসোর্ট রুংরাং (Resort RungRang)

সাজেকের বেস্ট রিসোর্ট গুলোর একটি রিসোর্ট রুংরাং। রিসোর্টে বসেই দিগন্তজোড়া সারি সারি পাহাড় এবং মেঘের উড়োউড়ি দেখার জন্য আদর্শ। নান্দ্যনিক ইন্টেরিওর ডিজাইনে সাজানো এই রিসোর্টে আছে ৪টি ডাবল এবং ৪টি কাপল রুম। ছুটির দিনে ডাবল বেড রুম ভাড়া ৩৫০০ টাকা এবং কাপল ২৮০০ টাকা। অন্য সকল দিনে ডাবল বেড রুম ভাড়া ২৮০০ এবং কাপল ২০০০ টাকা। বুকিং এর জন্যে যোগাযোগ নাম্বার: 01884710723, 01869-649 817

সাজেক রিসোর্ট (Sajek Resort)

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত রিসোর্ট সাজেক রিসোর্ট। নন এসি রুম গুলোর ভাড়া ১০,০০০ – ১৫,০০০ টাকা। আছে খাবারে ব্যবস্থা। সেনাবাহিনিতে কর্মরত বা প্রথম শ্রেনীর সরকারি কর্মকর্তাদের জন্যে ডিসকাউন্ট রয়েছে। যোগাযোগ করতে পারেন এই নাম্বারেঃ 01859-025694 / 01847-070395 / 01769-302370<

রুন্ময় রিসোর্ট (Runmoy Resort)

মোট ৫ টি রুম আছে। প্রতিটি কক্ষে ২ জন থাকতে পারবেন। নিচ তলার রুম ভাড়া ৪৪৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে ২ জন থাকতে পারবেন। ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। উপরের তলায় দুইটি কক্ষ আছে ভাড়া ৪৯৫০ টাকা। প্রতিটি কক্ষে দুই জন থাকতে পারবেন। এটাতেও ৬০০ টাকা দিয়ে অতিরিক্ত বেড নিতে পারবেন। যোগাযোগ: 0186547688

মেঘপুঞ্জি রিসোর্ট (Meghpunji Resort)

সুন্দর ইকো ডেকোরেশনের ও আকর্ষণীয় ল্যান্ডস্কেপিক ভিউ সহ মেঘপুঞ্জিতে আছে ৪টি কটেজ, প্রতিটি কটেজে সর্বোচ্চ ৪ জন থাকা যাবে। ভাড়া ৪০০০-৪৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01815-761065

ম্যাডভেঞ্চার রিসোর্ট (Madventure Resort)

রিসোর্টের প্রতি তলায় আছে প্রশস্ত বারান্দা। ২৪ ঘন্টা ইলেকট্রিসিটি ও পানির ব্যবস্থা আছে। ম্যাডভেঞ্চার রিসোর্টে প্রিমিয়াম কাপল রুম ভাড়া ৪০০০ টাকা, কাপল ক্লাসিক রুম ভাড়া ৩৫০০ টাকা এবং ডাবল ক্লাসিক রুম ভাড়া ৩৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01885-424242

মেঘ মাচাং (Megh Machang)

সুন্দর ভিউ ও তুলনামূলক কম খরচে থাকার জন্যে মেঘ মাচাং রিসোর্ট অনেকের পছন্দ। আছে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা। মেঘ মাচাং-এ পাঁচটি কটেজ আছে । ভাড়া ৩৫০০-৪৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01822-168877

জুমঘর ইকো রিসোর্ট (Jumghor Eco Resort)

থাকার জন্যে এই রিসোর্টে পৃথক কটেজে মোট ৬টি কাপল রুম রয়েছে। প্রতিটি রুমে সর্বোচ্চ ৪ থাকার ব্যবস্থা আছে। কটেজ প্রতি ভাড়া ৪০০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01884-208060

লুসাই কটেজ (TGB Lushai Cottage)

সুন্দর ডেকোরেশন ও ভালো ল্যান্ডস্কেপিক ভিউয়ের টিজিবি লুসাই কটেজে কাপল, ফ্যামিলি কিংবা গ্রুপের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরির কক্ষ রয়েছে। এসব রুমের ভাড়া ২৫০০ টাকা থেকে ৪৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01634-198005

আলো রিসোর্ট (Alo Resort)

সাজেকের একটু আগে রুইলুই পাড়ায়। ৬ টি রুমের মধ্যে ডাবল রুম ৪ টি (২টি বেড)। ভাড়া ১০০০-১৫০০ টাকা। যোগাযোগঃ 01841-000645। এ ছাড়া আরও কম খরচে থাকতে চাইলে আদিবাসিদের ঘরেও থাকতে পারবেন। জনপ্রতি ১৫০-৩০০ টাকায় থাকা যাবে। ফ্যামিলি বা কাপল থাকার জন্যে আদর্শ না হলেও বন্ধু বান্ধব মিলে একসাথে থাকা যাবে।

সাজেক ভ্যালির রিসোর্ট ও কটেজের ভাড়া

সাজেকে আপনি ৬০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়ার রুম পেয়ে যাবেন। বিভিন্ন ধরনের কটেজগুলিতে সিংগেল রুম, ফ্যামিলি রুম সহ বিভিন্ন ধরনের রুম আছে। ব্যাচেলর বা পরিবারের ভ্রমণ উপভোগ করতে রিসোর্ট বা কটেজ গুলির সাথে যাওয়ার আগেই যোগাযোগ করে নিবেন।

সাজেক ভ্যালির খাবার ব্যবস্থা

সাজেক ভ্যালি অবস্থিত রেস্টুরেন্টের মধ্যে জাফলং ভিউ রেস্টুরেন্ট, সীমান্ত ভিউ রেস্টুরেন্ট এবং জাফলং পর্যটক রেস্টুরেন্ট উল্লেখযোগ্য। সিলেট শহরে খেতে চাইলে জিন্দাবাজার এলাকায় অবস্থিত পানসী, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্টুরেন্টের সুলভ মূল্যে পছন্দমত খাবার খেতে পারবেন। এই রেস্টুরেন্টগুলো অনেক রকম ভর্তা, খিচুড়ি এবং মাংসের পদের জন্য সবার কাছে সমাদৃত। সকালের নাস্তা করতে পারবেন জনপ্রতি ৫০-১০০ টাকায় এবং দুপুর বা রাতের খাবার খেতে খরচ হবে ১৫০-৩০০ টাকা।

সাজেক ভ্যালির কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান

  • আলুটিলা গুহা
  • রিছাং ঝরনা
  • দেবতার পুকুর
  • হর্টিকালচার পার্ক
  • তৈদুছড়া ঝরনা
  • বিডিআর স্মৃতিসৌধ
  • মায়াবিনী লেক
  • শান্তিপুর অরণ্য কুঠির

সাজেক ভ্যালির ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা

  • গ্রুপ করে গেলে ভাল খরচ কম হবে।
  • কিছু কিনতে বা খেতে চাইলে দরদাম করে নিন।
  • যেহেতু সাজেক ভ্যালি সীমান্তবর্তী এলাকা, তাই সীমান্ত এলাকার নির্দেশনা মেনে চলুন।
  • গাড়ি ঠিক করার সময় দরদাম করুন।
  • পানিতে নামার সময় সতর্ক থাকুন, পাথর উত্তোলনের ফলে অনেক যায়গা বেশ গভীর।
  • স্থানীয়দের সাথে সুন্দর ব্যবহার করুন।
  • এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন যা প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর।
  • সঠিক সময়ে এসকোর্ট দেওয়া।
  • সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের ছবি তোলা যাবে না।
  • স্থানীয় লোকজনের ছবি তোলার আগে অবশ্যই অনুমতি নিয়ে নেবেন।
  • ছুটির দিনে কটেজ পাওয়ার ঝামেলা এড়াতে বেশ কয়েক দিন আগে (এক মাস) বুকিং দিন।
  • রবি, এয়ারটেল বা টেলিটক সিম সঙ্গে নিন।
  • সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র রাখুন।
  • সঙ্গে করে পাওয়ার ব্যাংক নিয়ে যান।
  • জিপের ছাদে বা মোটরসাইকেলে সতর্ক থাকুন।
  • দুই-তিন দিনের জন্য সাজেক গেলে চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করার দরকার নেই।
  • শুধু যাওয়ার জন্যই গাড়ি নিন। আসার সময় অন্য গাড়িতে আসুন।
  • দীঘিনালা থেকে ফোন করেও গাড়ি নেওয়া যাবে।

সাজেক ভ্যালি সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নত্তোর

সাজেক ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?

বিভাগ জেলা উপজেলা ইউনিয়ন
চট্টগ্রাম  রাঙ্গামাটি বাঘাইছড়ি সাজেক

সাজেক ভ্যালি কেন যাবেন ?

ভ্রমন পিপাসু মানুষ দের কে যদি এই কথা জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তারা এই কথা অহেতু হাসির ছলে উড়িয়ে দিবে । কারন, ভ্রমন পিপাসু মানুষদের কাছে এই কথা মূল্যহীন ।

সাজেক ভ্যালি-এর বাংলাদেশ সীমান্তে দাঁড়ালে ভারত সীমান্ত-অভ্যন্তরে থাকা উঁচু উঁচু পাহাড়শ্রেণী দেখা যায়। এসব পাহাড় থেকে নেমে আসা ঝরণা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া ভারতের ডাউকি বন্দরের ঝুলন্ত সেতুও আকর্ষণ করে অনেককে। এছাড়া সর্পিলাকারে বয়ে চলা ডাওকি নদীও টানে পর্যটকদের। মৌসুমী বায়ুপ্রবাহের ফলে ভারত সীমান্তে প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ায় নদীর স্রোত বেড়ে গেলে নদী ফিরে পায় তার প্রাণ, আর হয়ে ওঠে আরো মনোরম। ডাওকি নদীর পানির স্বচ্ছতাও সাজেক ভ্যালি-এর অন্যতম আকর্ষণ। পহেলা বৈশাখে বাংলা নববর্ষকে ঘিরে সাজেক ভ্যালি-এ আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলা। এই মেলাকে ঘিরে উৎসবে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো এলাকা। বর্ষাকাল আর শীতকালে সাজেক ভ্যালি-এর আলাদা আলাদা সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। বর্ষাকালে বৃষ্টিস্নাত গাছগাছালি আর খরস্রোতা নদী হয় দেখার মতো। তাছাড়া পাহাড়ের মাথায় মেঘের দৃশ্যও যথেষ্ট মনোরম।

কিভাবে সাজেক ভ্যালি যাবেন ?

আপনারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বাস, ট্রেন, বিমান বা প্রাইভেট কারে যেতে পারবেন। আপনি যদি ট্রেন/বিমানে যেতে চান তবে প্রথমে চট্টগ্রাম যেতে হবে তারপর খাগড়াছড়ি হয়ে সাজেক ভ্যালি যেতে হবে।

বাসে যেতে হলে খাগড়াছড়ি যেতে হবে। মাত্র কয়েকটি বাস সাজেকের নিকটবর্তী দীঘানালায় যায়, তবে এসি বাস যায় না।

সাজেক ভ্যালি থাকবেন কোথায়?

সাজেক ভ্যালি, দীঘানালায় বিভিন্ন রকমের হোটেল, কটেজ আছে। অল্প-বেশী ভাড়াইয় থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অবশ্যই আগেই বুকিং দিয়ে যাবেন।

উপসংহার

সাজেক ভ্যালি প্রকৃতির কন্যা হিসাবে পরিচিত। রাঙ্গামাটি জেলার দর্শনীয় স্থান গুলোর মধ্যে সাজেক ভ্যালি সবার পছন্দ। আপনিও আপনার প্রিয় মানুষদের আথে প্রকৃতির সতেজ স্বাদ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করে আসতে পারেন।

সাজেক ভ্যালিকে নিয়ে আমাদের প্রতিবেদনটি আশা করি আপনাদের ভালও লেগেছে । আমাদের প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না । পরিশেষে, ধন্যবাদ আমাদের প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *