,


জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর

জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর কে ঘিরে। জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর কোথায় অবস্থিত, ইতিহাস, কাঠামো, কেন যাবেন, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এ নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন টি সাজানো হয়েছে। আশা করি, প্রতিবেদনটি পড়ে আপনাদের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি জানতে পারবেন।

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। একটি দেশের জন্মের পথে বিরল যে আত্মত্যাগ সেই আত্মত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত এক জননী। শহীদ শাফী ইমাম রুমীর গর্বিত মা। তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, লেখিকা, কথাসাহিত্যিক এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল বিরোধী আন্দোলনের নেত্রী। একাত্তরের স্মৃতিকথা নিয়ে তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ক্র্যাক প্লাটুন এক অনবদ্য নাম। দুর্ধর্ষ চতুর এবং দুঃসাহসী রুমী, আজাদ, বদি, বকর সহ একদল তরুণের গেরিলা আক্রমণ পাকিস্তান শিবিরকে ক্রমাগত দিশেহারা করে দিয়েছিলো। তাদের বীরত্ব গাঁথা আজও তরুণদের উদ্দীপ্ত করে, অনুপ্রেরণা দেয়। সেই দুর্ধর্ষ ক্র্যাক প্লাটুনের অন্যতম সদস্য জাহানারা ইমামের ছেলে শহীদ রুমী সম্পর্কে আমাদের কে না জানে। যে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় ইন্সটিটিউটে পড়ার সুযোগ ছেড়ে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয় এবং পাকিস্তান বাহিনীর নির্মম অত্যাচারে শহীদ হন।

জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘরের অবস্থান

স্বাধীনতার এই অগ্নিশিখা শহীদ শাফী ইমাম রুমী এবং শহীদ জননী জাহানারা ইমামের স্মৃতি সংরক্ষণে পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে তাদের নিজ বাড়ীতে গড়ে তোলা হয় শহীদ জননী জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর।

জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর কেন যাবেন?

২০০৭ সালে সম্পূর্ণ ব্যক্তি উদ্যোগে জাহানারা ইমামের ছেলে এবং শহীদ রুমীর ছোট ভাই সাইফ ইমাম জামি এই জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর আন্দোলন সংগ্রামের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই এই জাদুঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বাড়ীর দোতলায় একটি বড় হল রুম এবং একটি অফিস কক্ষের সমন্বয়ে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত। ইমাম পরিবারের নানা স্মৃতিচিহ্ন এবং ব্যবহার্য জিনিশ পত্র এখানে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়েছে। শহীদ রুমী এবং জাহানারা ইমামের আলোক চিত্রের পাশাপাশি, তাদের প্রাপ্ত বিভিন্ন সম্মাননা, রুমীর জন্মদিনের উপহার এয়ারগান, ব্যবহৃত তবলা, স্কুল জীবনের ছবি, নিজের মাকে নিয়ে করা নানা উক্তিও সাজানো আছে এখানে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় আগরতলা থেকে ছোট মামাকে নিয়ে লেখা রুমীর চিঠি, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সহ মৃত্যুর পূর্বে জাতীর উদ্দেশ্যে লিখে যাওয়া জাহানারা ইমামের চিঠিও এখানে প্রদর্শনের জন্য রয়েছে। এক পাশে আছে একটি লাইব্রেরী। লাইব্রেরীতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে লেখা অনেক মূল্যবান বই।

জাহানারা ইমাম এবং শহীদ রুমীর সম্পর্কে জানতে ও জাহানারা ইমামের মুল্যবান বই পড়তে জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘর ঘুরে আসতে পারেন।

ব্যয়

জাদুঘরে প্রবেশে কোন ফি দিতে হয় না।

পরিদর্শনের সময়

প্রতি শনিবার সকাল ১০ টা হতে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এছাড়া বিভিন্ন জাতীয় দিবসেও জাদুঘরটি উন্মুক্ত থাকে।

কীভাবে যাবেন ?

ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে বাস বা সিএনজিতে এলিফ্যান্ট রোডে পৌঁছে ৩৫৫ শহীদ জননী জাহানারা ইমাম সরণির কনিকা নামের বাসায় গেলেই জাহানারা ইমাম স্মৃতি জাদুঘরে যেতে পারবেন।

কোথায় খাবেন ?

ঢাকার শহরের আনাচে-কানাচে অগণিত ভালো ভালো হোটেল ও রেস্টুরেন্ট আছে। আপনি সেগুলি থেকে আপনার পছন্দের খাবার খেতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

ঢাকার শহরের আনাচে-কানাচে অগণিত ভালো ভালো আবাসিক হোটেল। আপনি সেগুলিতে অনায়াসে থাকতে পারেন।

ম্যাপ

তিন নেতার মাজারের গুগল ম্যাপ যুক্ত করা হয়েছে। যা দেখে আপনি সহজেই আপনার পথ খুজে পাবেন।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: