রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি ভ্রমণ গাইড

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি কে ঘিরে। রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি কোথায় অবস্থিত, রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি এর ইতিহাস, কেন যাবেন রায়েরকাঠী জমিদার বাড়িতে, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এ নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন টি সাজানো হয়েছে। আশা করি, আমাদের মূল্যবান প্রতিবেদনটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন।

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি কোথায়?

বিভাগ জেলা উপজেলা ইউনিয়ন
বরিশাল  পিরোজপুর সদর

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

ভারতবর্ষে মোগল সম্রাট শাহজাহান শাসনামলে পিরোজপুরের রায়েরকাঠি নামক জায়গা এই জমিদার বাড়িটির গোড়াপত্তন হয়। মূলত এখানে বন-জঙ্গল ছিল। এগুলো পরিষ্কার করেই এখানে এই বাড়িটি তৈরি করা হয়। যার ফলে এখানের নামকরণ করা হয় রায়েরকাঠি। মোগল সম্রাটের শাসনামলে যুবরাজ সেলিম অর্থাৎ সম্রাট জাহাঙ্গীর বিদ্রোহ করে বর্তমান পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বাগেরহাট জেলার কিছু অংশ নিয়ে “সেলিমাবাদ” নামে একটি পরগণা সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে তিনি উক্ত এলাকার রাজস্ব আদায়ের জন্য মোদন পালকে দায়িত্ব দেন। মোদন পাল আবার তার ছেলে শ্রীনাথকে উক্ত রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেন।

রাজস্ব আদায়ের জন্য শ্রীনাথ বর্তমান ঝালকাঠির লুৎফুবাদ নামক গ্রামে একটি কাছারিঘর স্থাপন করেন এবং সেখান থেকে অতি সু-দক্ষতার সাথে রাজস্ব আদায়ের কাজ পরিচালনা করতে থাকেন। যার ফলস্বরূপ তিনি মোগল সম্রাটের কাছ থেকে “রাজা” উপাধি লাভ করেন। এরপর রাজা শ্রীনাথের ছেলে রুদ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী বর্তমান পিরোজপুরের রায়েরকাঠি এলাকায় বিশাল বন-জঙ্গল পরিষ্কার করে জমিদার বাড়ি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি জমিদার বাড়ি তৈরির সময় কালী মন্দিরও তৈরি করছিলেন।

এই কালী মন্দির তৈরি করতে গিয়ে তিনি তখনকার সময়ের নিম্নবর্ণের হিন্দু পাঁচজনের মুণ্ডু কেটে তার উপর মূর্তি স্থাপন করেন। পরবর্তীতে তার এই নিষ্ঠুর কার্যক্রমের কথাটি ঢাকার প্রাদেশিক সুবেদার শাহবাজ খানের কানে যায়। এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে বিচার করে রুদ্র নারায়ণকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। যা হাজার হাজার মানুষের সামনে বাঘের খাঁচায় তাকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি খাঁচার মধ্যে বাঘের সাথে লড়াই করে বাঘকে মেরে ফেলেন। এ খবর সুবেদারের কাছে গেলে তিনি রুদ্র নারায়ণের মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করে দেন। এতে রুদ্র নারায়ণ তার এই নিষ্ঠুর কৃতকর্মে লজ্জিত হয়ে জমিদার বাড়িতে না ফিরে ছেলে নরোত্তম নারায়ণ রায়কে জমিদারীত্ব দিয়ে কাশি চলে যান। সেখানে তিনি আমৃত্যু সন্ন্যাস জীবন পালন করেন।

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ির অবকাঠামো ?

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি, এখানে তৈরি করা হয়েছিল বাড়ির প্রবেশদ্বার, রাজভবন, নহবৎখানা, অতিথিশালা, নাট্যশালা, অন্ধকূপ এবং অসংখ্য মন্দির। ছোট বড় প্রায় দু’শ অট্টালিকা ছিলো। এছাড়াও রয়েছে মন্দিরের নকশায় নির্মিত কয়েকটি মঠ। তন্মধ্যে ৪০ বা ৫০টি গগণচুম্বী অট্টালিকা রাজবাড়ির শোভাবর্ধন করতো। বর্তমানে ভাল এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত মিলিয়ে মোট ৭টির মত ভবন এখনো মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। জমিদার বাড়ির কালী মন্দিরে ২৫ মন ওজনের শিব লিঙ্গ।

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ির বরতমান অবস্থা ?

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি অযত্ন ও অবহেলার কারণে এখন আর তেমন কিছু আর অবশিষ্ট নেই এখানে। বাসভবন, জলসাঘর, বিচারালয়, সুড়ঙ্গপথ সবকিছুই ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন কয়কটি মঠ ও মন্দির ছাড়া আর তেমন কিছু নেই। আর যেগুলো রয়েছে, সেগুলোও প্রায় ধ্বংসের মুখে। দেয়ালে লতাপাতা, গাছগাছালি ও শ্যাওলায় জরাজীর্ণ হয়ে রয়েছে।

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়িতে কেন যাবেন ?

ভ্রমন পিপাসু মানুষ দের কে যদি এই কথা জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তারা এই কথা অহেতু হাসির ছলে উড়িয়ে দিবে । কারন, ভ্রমন পিপাসু মানুষদের কাছে এই কথা মূল্যহীন । তবুও বলি,

  • রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি একটি দর্শনীয় স্থান ।
  • রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি মনোরম, যা আপনার মনকে প্রফুল্ল করে তুলবে ।

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়িতে ভ্রমন করলে আপনি হতাশ হবেন না । এটি আমরা হরফ করে আপনাদের জানান দিয়ে দিতে পারি ।

কিভাবে রায়েরকাঠী জমিদার বাড়িতে যাবেন ?

যে কোন স্থান হতে বাস যোগে, ট্রেন যোগে ও বিমানের মাধ্যমে বরিশাল যেতে পারেন। তারপর চাঁপাইনবাবগঞ্জ হতে দারাসবাড়ি মসজিদে যাওয়ার উপায় নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

বরিশাল বাস টার্মিনাল থেকে রায়েরকাঠী জমিদা্র বাড়ি

বরিশাল জেলা বাস স্ট্যান্ড থেকে বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি, ইজিবাইক/ অটোরিক্সা যোগে দারাসবাড়ি মসজিদ যাওয়া যায়। গাড়ি থেকে নেমেই রাস্তার পাশে দারাসবাড়ি মসজিদ দেখা যায়।

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়ি থাকবেন কোথায়?

দেশের নানা প্রান্ত থেকে দারাসবাড়ি মসজিদ ভ্রমনে ভ্রমনযাত্রী আসতে পারে, যাদের একদিনের মধ্যে ভ্রমন করে আবার বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভবপর হয়ে ওঠেনা । তাই আপনার ভ্রমনে চিন্তা কোনো প্রকার না আসে সে জন্য ক্ষুদ্র প্রয়াসে বরিশাল, পিরোজপুর সদরের আশে পাশের কিছু হোটেলের নাম তুলে ধরছি । যেখানে, আপনি সেফলি থাকতে পারবেন । ম্যাপে পিরোজপুর সদরের আশে পাশের কিছু হোটেলের নাম ও তাদের খরচ সম্পর্কে দেওয়া হলো,

রায়েরকাঠী জমিদার বাড়িকে নিয়ে আমাদের প্রতিবেদনটি আশা করি আপনাদের ভালও লেগেছে । আমাদের প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না । পরিশেষে,ধন্যবাদ আমাদের প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য।