জিঞ্জিরা প্রাসাদ – দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি জিঞ্জিরা প্রাসাদ কে ঘিরে। জিঞ্জিরা প্রাসাদ কোথায় অবস্থিত, ইতিহাস, কাঠামো, কেন যাবেন, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এই সকল বিষয় নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন টি সাজানো হয়েছে। আশা করি, প্রতিবেদনটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন।

জিঞ্জিরা প্রাসাদ (জিনজিরা প্রাসাদ) একটি ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি। সোয়ারীঘাট সংলগ্ন বড় কাটরা প্রাসাদ বরাবর বুড়িগঙ্গন, ওপারে জিনজিরা। জিনজিরা-জাজিরার অপভ্রংশ, যার অর্থ আইল্যান্ড বা দ্বীপ। এ দ্বীপে ১৬৮৯-১৬৯৭ খ্রিস্টাব্দে জিনজিরা প্রাসাদ ‘নওঘরা’ নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন সুবেদার নওয়াব ইব্রাহিম খাঁ। আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগে শহর থেকে জিনজিরার মধ্যে চলাচলের জন্য একটি কাঠের পুল ছিল। পলাশীর যুদ্ধে সর্বস্বান্ত সিরাজদ্দৌলার পরিবার পরিজনকে জরাজীর্ণ জিনজিরা প্রাসাদে প্রেরণ করা হয়েছিল। ।

নামকরণ

প্রখ্যাত ব্রিটিশ লেখক জেমস টেইলর তার ‘টপোগ্রাফি অব ঢাকা’ গ্রন্থে নবাব ইব্রাহিম খাঁকে জিঞ্জিরা প্রাসাদের নির্মাণ ও নামকরণ করেছিলেন।

অবস্থান

বুড়িগঙ্গা নদীর ওপারে কয়েক শ’ গজ দূরে অবস্থিত।

  • জেলাঃ ঢাকা
  • উপজেলাঃ কেরানীগঞ্জ

ইতিহাস

সোয়ারীঘাট সংলগ্ন বড় কাটরা প্রাসাদ বরাবর বুড়িগঙ্গন, ওপারে জিনজিরা। জিনজিরা-জাজিরার অপভ্রংশ, যার অর্থ আইল্যান্ড বা দ্বীপ। এ দ্বীপে ১৬৮৯-১৬৯৭ খ্রিস্টাব্দে জিনজিরা প্রাসাদ ‘নওঘরা’ নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন সুবেদার নওয়াব ইব্রাহিম খাঁ।

আজ থেকে প্রায় ৪০০ বছর আগে শহর থেকে জিনজিরার মধ্যে চলাচলের জন্য একটি কাঠের পুল ছিল। পলাশীর যুদ্ধে সর্বস্বান্ত সিরাজদ্দৌলার পরিবার পরিজনকে জরাজীর্ণ জিনজিরা প্রাসাদে প্রেরণ করা হয়েছিল। আর সেই সাথে নবাব আলিবর্দী খাঁর দুই কন্যা­ঘসেটি বেগম ও আমেনা বেগমকেও আনা হয়। তারা দু’জনই পিতার রাজত্বকালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

অবশেষে এক দিন পরিচারিকাদের সাথে একই নৌকায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সে দিন বুড়িগঙ্গার তীরের জিনজিরা প্রাসাদে বন্দীদের নিয়ে রক্ষীদল উপস্খিত হয়েছিল। উল্লেখ্য, নবাব আলিবর্দী খাঁ ও তার পরিবার আগেই এখানে স্খান লাভ করেছিল।

এভাবে পরাজিত নবাবের পরিবার-পরিজন জিনজিরা প্রাসাদে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তার পর মীরজাফরের পুত্র মীরনের চক্রান্তে ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দের গ্রীষ্মের কোনো এক সন্ধ্যায় সিরাজ পরিবার জিনজিরা প্রাসাদ থেকে নেমে বুড়িগঙ্গা নদীর বুকে এক নৌকায় আরোহণ করে।

নৌকা যখন বুড়িগঙ্গা ও ধলেশ্বরীর সঙ্গমমূলে ঢাকাকে পেছনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছিল তখন মীরননিযুক্ত ঘাতক বাকির খান নৌকার ছিদ্রস্খান খুলে দিয়ে নৌকাটি ডুবিয়ে দেয়।কিছু বুঝে ওঠার আগেই সবাই তলিয়ে যান বুড়িগঙ্গায়।

কাঠামো ও সংগ্রহ

এ প্রাসাদটির নির্মাণশৈলী বড় কাটরার আদলে হলেও কক্ষ ও আয়তন অনেক কম। পশ্চিমাংশে দু’টি সমান্তরাল গম্বুজ, মাঝ বরাবর ঢাকনাবিহীন অন্য একটি গম্বুজ ও পূর্বাংশ দোচালা কুঁড়েঘরের আদলে পুরো প্রাসাদের ছাদ। প্রাসাদের পূর্বাংশে ছাদ থেকে একটি সিঁড়ি নিচে নেমে গেছে। স্খানীয়রা এ প্রাসাদকে হাবেলী নগেরা বা হাওলি নগেরা বলে।

এ প্রাসাদের তিনটি বিশেষ অংশ আজো আংশিক টিকে আছে­ তাহলো­ প্রবেশ তোরণ, পৃথক দু’টি স্খানে দু’টি পৃথক প্রাসাদ, একটি দেখতে ফাঁসির মঞ্চ ও অজ্ঞাত অন্যটি প্রমোদাগার।

কয়েক একর জমির ওপর এ প্রাসাদ নির্মাণ করা হয়েছিল অবকাশ যাপন ও চিত্তবিনোদনের প্রান্তনিবাস হিসেবে। চার দিকে সুনীল জলরাশির মাঝখানে একখণ্ড দ্বীপ ভূমি জিনজিরা।

নারিকেল-সুপারি, আম-কাঁঠালসহ দেশীয় গাছগাছালির সবুজের সমারোহে ফুলে ফুলে শোভিত অপূর্ব কারুকার্যখচিত মোগল স্খাপত্যশৈলীর অনুপম নিদর্শন জিনজিরা প্রাসাদ।

স্থানীয়দের মতে মোগল আমলে লালবাগ দুর্গের সঙ্গে জিঞ্জিরা প্রাসাদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার জন্য বুড়িগঙ্গার তলদেশ দিয়ে একটি সুড়ঙ্গ পথ তৈরি করা হয়েছিল। এপথে মোগল সেনাপতি ও কর্মকর্তারা আসা-যাওয়া করত।

লালবাগ দুর্গেও এমন একটি সুড়ঙ্গ পথ রয়েছে বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বলা হয়ে থাকে এই সুড়ঙ্গ পথে যে একবার যায় সে আর ফিরে আসে না। তবে ইতিহাসে এ সম্পর্কে জোরালোভাবে কিছু বলা নেই।

কেন যাবেন?

ভ্রমন পিপাসু মানুষ দের কে যদি এই কথা জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তারা এই কথা অহেতু হাসির ছলে উড়িয়ে দিবে । কারন, ভ্রমন পিপাসু মানুষদের কাছে এই কথা মূল্যহীন। তবুও বলি,

পলাশীর যুদ্ধে সর্বস্বান্ত সিরাজদ্দৌলার পরিবার পরিজনের প্রকৃত ইতিহাস জানতে সাহায্য করবে।

টিকেট মূল্য

বিনামূল্যে জিঞ্জিরা প্রাসাদ পরিদর্শন করতে পারবেন।

পরিদর্শনের সময়

দিনের যে কোন সময় জিঞ্জিরা প্রাসাদ করতে পারবেন।

কীভাবে যাবেন ?

ঢাকার গুলিস্তান হতে সদরঘাট এসে বুড়িগঙ্গা নদী পার হয়ে সোয়ারীঘাট সংলগ্ন বড় কাটরায় পৌঁছে স্থানীয় যে কাউকে জিজ্ঞাসা করলেই জিঞ্জিরা প্রাসাদের সন্ধান পেয়ে যাবেন।

কোথায় খাবেন?

যেহেতু পুরান ঢাকা এলাকায় আসবেন সেক্ষেত্রে এখানকার বিখ্যাত কাজি আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানি, হোটেল রয়েলের পেস্তা বাদামের শরবত, বেচারাম দেউড়ি রোডে নান্নার মোরগ পোলাও, লালবাগ শাহী মসজিদের সাথে মোহন মিয়ার জুস এবং হানিফের তেহরি সহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের স্বাদ নিতে পারেন।

কোথায় থাকবেন?

রাজধানী ঢাকার প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই কম বেশি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এখানে ৫ তারকা মানের হোটেল থেকে শুরু করে সাধারণ মানের হোটেলও পাবেন। ৫ তারকা হোটের মধ্যে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ, হোটেল লা মেরিডিয়েন, র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ফকিরাপুল, পল্টন, গুলিস্তান এবং পুরান ঢাকাতে কম খরচে থাকার অসংখ্য আবাসিক হোটেল রয়েছে।

ম্যাপ

জিঞ্জিরা প্রাসাদ গুগুল ম্যাপে যুক্ত করা হয়েছে। যা দেখে আপনি সহজেই আপনার পথ খুজে পাবেন।

আরও পড়ুন

This post was last modified on 21/09/2020 8:22 am

নির্বাহী সম্পাদক

Leave a Comment

Recent Posts

লেনোভো আইডিয়াপ্যাড মিক্স ৩২০ ল্যাপটপের দাম ও স্পেসিফিকেশন

আপনার বাজেটের মধ্যে বাজারে কোন ল্যাপটপ পাবেন, তা জানতে ল্যাপটপের স্পেসিফিকেশন ও বাজার মূল্য জানা… Read More

25/10/2020

লেনোভো আইডিয়াপ্যাড মিক্স ৩১০ ল্যাপটপের দাম ও স্পেসিফিকেশন

আপনার বাজেটের মধ্যে বাজারে কোন ল্যাপটপ পাবেন, তা জানতে ল্যাপটপের স্পেসিফিকেশন ও বাজার মূল্য জানা… Read More

25/10/2020

ইএসপিএন ক্রিকইনফো অ্যাপস ডাউনলোড – ESPNcricinfo

ইএসপিএন ক্রিকইনফো বহুল ব্যবহৃত একটি ক্রিকেট স্কোরবোর্ড ও নিউজ আপডেট অ্যাপস। যার সাহায্যে ক্রিকেটের লাইভ… Read More

25/10/2020

শাওমি এমআই নোট টেন লাইট এ ফোনের দাম ও স্পেসিফিকেশন

গ্লোবাল টেকনোলজি লিডার শাওমি 'ডিসপ্লে দুর্দান্ত, ব্যাটারি অফুরন্ত' ট্যাগলাইনের বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এসেছে তাদের জনপ্রিয়… Read More

24/10/2020

লেনোভো আইডিয়াপ্যাড ৫২০ ল্যাপটপের দাম ও স্পেসিফিকেশন

আপনার বাজেটের মধ্যে বাজারে কোন ল্যাপটপ পাবেন, তা জানতে ল্যাপটপের স্পেসিফিকেশন ও বাজার মূল্য জানা… Read More

24/10/2020

লেনোভো আইডিয়াপ্যাড ৫২০ এস ল্যাপটপের দাম ও স্পেসিফিকেশন

আপনার বাজেটের মধ্যে বাজারে কোন ল্যাপটপ পাবেন, তা জানতে ল্যাপটপের স্পেসিফিকেশন ও বাজার মূল্য জানা… Read More

24/10/2020

This website uses cookies.