,


রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ৮ উইকেটে জয়ী

রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ৮ উইকেটে জয়ী

সপ্তম জয় তুলে নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে ২য় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচ শেষে ৭টি ম্যাচে জয় নিয়ে শেষ চারের তালিকায় নিজেদের অবস্থান অনেকটা চূড়ান্ত করে রেখেছে বিরাট কোহলির দল।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ১৩তম আসরের ৩৯তম ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মুখোমুখি হয় ব্যাঙ্গালোর, যে ম্যাচে ব্যাঙ্গালোর জিতেছে ৮ উইকেটে। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে কলকাতা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৮৪ রান জড়ো করে।

শুরুতেই একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় নাইটরা। দ্বিতীয় ওভেরে মহম্মদ সিরাজের বলে আউট হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরত যান রাহুল ত্রিপাঠী। এরপর এসে প্রথম বলেই খাতা না খুলে বোল্ড হন নীতিশ রানা। ৩ রানে ২ উইকেট পড়ে যায় কেকেআরের। তৃতীয় ওভারে ১ রান করে আউট হয়ে যান শুভমান গিল। তার উইকেট নেন নবদীপ সাইনি। চতুর্থ ওভারে মহম্মদ সিরাজের তৃতীয় শিকার হন টম ব্যান্টন। ১০ রান করে আউট হন তিনি। পাওয়ার প্লে একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কেকেআরের ইনিংস।

এরপর কেকেআরের ইনিংস কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান ও সহ অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক। কিন্তু সেই পার্টনারশিপও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নবম ওভারে দলের ৩২ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেট পড় কেকেআরের। ৪ রান করে যুজবেন্দ্র চাহলের বলে আউট হন দীনেশ কার্তিক। এরপর ক্রিজে আসেন প্যাট কামিন্স। কিন্তু ১৩ তম ওভারে আউট হয়ে যান প্যাট কামিন্স। ১৫ ওভার শেষে নাইটদের স্কোর দাঁড়ায় ৫২ রানে ৬ উইকেট। ১৬ তম ওভারে সপ্তম উইকেটের পতন হয় কেকেআরের। যুজবেন্দ্র চাহলের তৃতীয় শিকার হন কেকেআর অধিনায়ক ইয়ন মর্গ্যান। ৩০ করে আউট হন তিনি। এরপর কুলদীপ যাদব ও লকি ফার্গুসন কেকেআরের ইনিংস যতটা সম্ভব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ২০ ওভারের শেষ বলে ১২ রান করে রান আউট হন কুলদীপ। ২০ ওভার শেষে কেকেআরের স্কোর দাঁড়ায় ৮৪ রানে ৮ উইকেট।

ব্যাঙ্গালোরের পক্ষে মোহাম্মদ সিরাজ তিনটি ও যুজবেন্দ্র চাহাল দুটি উইকেট শিকার করেন। একটি করে উইকেট পেয়েছেন নবদীপ সাইনি ও ওয়াশিংটন সুন্দর।

মাত্র ৮৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভাললই করে আরসিবির দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও দেবদূত পাড়িকল। অ্যারন ফিঞ্চ একটু ধরে ব্যাট করলেও, আক্রমণাত্বক ব্যাটিং করেন দেবদূত পাড়িকল। প্রথম থেকেই ওভার পিছু ৭-৮ রানের গড়ে ব্যাট করতে থাকে দুই ওপেনার। শুরুতে আরসিবিকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন কেকেআরের বোলাররা। ৬ ওভারের পাওয়ার প্লে শেষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৪৪ রান। কিন্তু সপ্তম ওভারে আরসিবির প্রথম উইকেটের পতন হয়। ১৬ রান করে লকি ফার্গুসনের বলে আউট হন অ্যারন ফিঞ্চ। একই ওভারে রান আউট হয়ে প্যাভেলিয়নে ফেরত যান দেবদূত পাড়িকল। তিনি করেন ২৫ রান। ৭ ওভার শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ৪৬ রানে ২ উইকেট।

এরপর আরসিবির ইনিংসের রাশ ধরেন বিরাট কোহলি ও গুরকিরাত সিং মান। ১০ ওভার শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ৬৩ রানে ২ উইকেট। একটু ধীর গতিতে আরসিবিকে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যান আরসিবি অধিনায়ক ও গুরকিরাত সিং মান। ১১ ওভার শেষে আরসিবির স্কোর দাঁড়ায় ৬৭ রান। ১২ তম ওভারে রানের গতিবেগ বাড়ান গুরকিরাত সিং মান। কয়েকটি বাউন্ডারি মারেন তিনি। ১২ ওভার শেষে কোহলি ব্রিগেডের স্কোর দাঁড়ায় ৭৭ রানে ২ উইকেট। ৬ ওভার ৩ বল বাকি থাকতেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। ১৮ রানে অপারিজত থাকেন বিরাট কোহলি ও ২১ রানে অপরাজিত থাকেন গুরকিরাত সিং মান। এই জয়ের ফলে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল বিরাট কোহলির দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: