মুসা খান মসজিদ – ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান

মুসা খান মসজিদ - ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি মুসা খান মসজিদ কে ঘিরে। মুসা খান মসজিদ কোথায় অবস্থিত, ইতিহাস, কাঠামো, কেন যাবেন, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এ নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন টি সাজানো হয়েছে। আশা করি, প্রতিবেদনটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন।

মুসা খান মসজিদ, বারো ভূঁইয়াদের একমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শন। বাহ্যিক চাকচিক্য হারালেও নান্দনিক নির্মাণ শৈলীতে তৈরি এ স্থাপনা এখনও সচল রয়েছে জামে মসজিদ হিসেবে। কার্জন হল চত্ত্বরে অবস্থিত এ মসজিদে নিয়মিত জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। তবে পর্যাপ্ত যত্ন ও তত্ত্বাবধানের অভাবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পূরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত মসজিদটি হারিয়েছে তার স্বাতন্ত্র্য। ঢাকা শহরে বিনত বিবির মসজিদ এর পাশাপাশি এটি প্রাক-মুঘল স্থাপত্যের একটি নিদর্শন। প্রায় প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীর পদচারণয় মুখরিত হয়। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের নিকট এটি ঢাকার অন্যতম একটি দর্শনীয় স্থান।

নামকরণ

ইতিহাসখ্যাত বারোভুঁইয়াদের অন্যতম মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর পুত্র মুসা খানের নামে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে।

মুসা খান মসজিদের অবস্থান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল প্রাঙ্গণে শহীদুল্লাহ হলের উত্তর-পশ্চিম কোণে এই প্রাচীন মসজিদটি অবস্থিত।

  • জেলাঃ ঢাকা
  • উপজেলাঃ ঢাকা

ইতিহাসের পাতায় মুসা খান মসজিদ

পিতা ঈশা খাঁর মতো অতটা পরাক্রমশালী ও খ্যাতিমান না হলেও বাংলার ইতিহাসে মুসা খানের নাম একেবারে উপেক্ষণীয় নয়।

বিশেষ করে, রাজধানী ঢাকার প্রতিষ্ঠাতা সুবাদার ইসলাম খান এখানে আসার পথে যাঁদের প্রবল বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন, দিওয়ান মুসা খান তাঁদের অন্যতম। বেশ কয়েক দফা প্রবল লড়াই হয়েছিল দিওয়ান বাহিনীর সঙ্গে সুবাদার বাহিনীর। তার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে মির্জা নাথানের বাহারিস্তান-ই-গায়বীতে।

শেষ পর্যায়ে অবশ্য মুসা খান সুবাদার ইসলাম খানের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। সুবাদারের সঙ্গে সম্পর্কও সহজ হয়ে এসেছিল একপর্যায়ে। কার্জন হলের পশ্চিম দিকের চত্বরটি ‘বাগে-মুসা খান’ বা মুসা খানের বাগান বলে পরিচিত ছিল একসময়।

মুসা খান মসজিদ এর কাঠামো

বাংলার বারো ভুঁইয়াদের স্মৃতি বিজড়িত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট প্রাচীন এই মসজিদটি মুসা খানের পুত্র মাসুম খান কতৃক মসজিদটি নির্মিত হয়। মুসা খান মসজিদের কাছে চিরনিদ্রায় শায়িত আছে মুসা খান।

উঁচু প্লাটফর্মের ভিত্তির উপর তৈরী বেদীর ভেতরে ছোট ছোট প্রকোষ্ঠ রয়েছে। পূর্ব দিকে খোলা বারান্দাযুক্ত মসজিদের দেয়ালে ৩টি এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকে দুইটি খিলান দরজা রয়েছে। আর পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে তিনটি মেহরাব। প্রধান মেহরাব বাদে অপর দুইটি মেহরাব আকারে অপেক্ষাকৃত ছোট। দেয়ালে মোগলরীতির বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মুসা খান মসজিদের চার কোণে ৪টি আট কোণ বুরুজ সহ মোট ১৬টি বুরুজ ও মিনার রয়েছে। এছাড়া মুসা খান মসজিদের সামনে ভাষাবিদ ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লার সমাধি রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের পশ্চিম দিকের চত্বর এক সময় বাগে-মুসা খান বা মুসা খানের বাগান নামে পরিচিত ছিল।

মুসা খান মসজিদ কেন যাবেন?

ভ্রমন পিপাসু মানুষ দের কে যদি এই কথা জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তারা এই কথা অহেতু হাসির ছলে উড়িয়ে দিবে । কারন, ভ্রমন পিপাসু মানুষদের কাছে এই কথা মূল্যহীন। তবুও বলি,

  • বাংলার বারো ভুঁইয়াদের স্মৃতি বিজড়িত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট প্রাচীন নিদর্শনটি দেখতে পারবেন।
  • মুসা খানের সমাধি আছে
  • ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লার সমাধি আছে
  • মুসা খানের বাগান আছে

দেখার মট অনেক কিছু আছে, সব মিলিয়ে দেখে ভালো লাগবে।

টিকেট মূল্য

মুসা খান মসজিদ পরিদর্শন করতে কোন প্রকার ফি প্রদান করতে হয় না।

পরিদর্শনের সময়

দিনের যে কোন সময় পরিদর্শন করতে পারেন।

মুসা খান মসজিদ প্যালেস কীভাবে যাবেন ?

বাসেঃ ঢাকার যেকোন জায়গা থেকে বাসে করে শাহবাগ হয়ে কার্জন হলের সামনে এসে পায়ে হেটেই মুসা খান মসজিদে যেতে পারবেন।

কোথায় খাবেন ?

খাবারের জন্য পুরান ঢাকার রয়েছে বিশেষ ঐতিহ্য। আল রাজ্জাক, হাজীর বিরিয়ানি, কাশ্মির কাচ্চি, বিউটি বোডিং কিংবা সুলতানের চা নিঃসন্দেহে আপনার খাবার হিসেবে বেছে নিতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

আপনি যদি ঢাকার বাইরে থেকে আসেন তবে আপনি ঢাকার মধ্যে যে কোন হোটেলে থাকতে পারেন।

যদি দূরে থেকে আসেন তবে এই সুযোগে রোজ গার্ডেন, আহসান মঞ্জিল, শহীদ মিনার, মেডিক্যাল কলেজ, দোয়েল চত্তর, সরোয়ার্দী উদ্যান, চারুকলা ইনস্টিটিউট, জাতীয় জাদুঘর অথবা টিএসসি তে ঘুরে যেতে পারেন।

মুসা খান মসজিদের ম্যাপ

মুসা খান মসজিদের গুগল ম্যাপ যুক্ত করা হয়েছে। যা দেখে আপনি সহজেই আপনার পথ খুজে পাবেন।

আরও পড়ুন