আহসান মঞ্জিল – ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান

আহসান মঞ্জিল - ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি আহসান মঞ্জিল কে ঘিরে। আহসান মঞ্জিল মসজিদ কোথায় অবস্থিত, আহসান মঞ্জিল এর ইতিহাস, আহসান মঞ্জিল এর কাঠামো, কেন যাবেন আহসান মঞ্জিল, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এ নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন টি সাজানো হয়েছে। আশা করি, প্রতিবেদনটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন।

ঢাকার আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থাপনার একটি  হলো আহসান মঞ্জিল (গোলাপী প্রাসাদ)। পূর্বে এটি ঢাকার নবাবদের আবাসিক প্রাসাদ ও জমিদারীর সদর কাচারি হিসেবে ব্যবহার হতো।

১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে “মুসলিমলীগ” প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়। এ পর্যন্ত আহসান মঞ্জিল কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। সর্বশেষ সংস্কার করা হয়েছে অতিসম্প্রতি। বর্তমানে এটি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃক পরিচালিত একটি জাদুঘর।

নামকরণ

নওয়াব আবদুলগণি আহসান মঞ্জিলের প্রতিষ্ঠা করে এবং তিনি তার জেষ্ঠ্য পুত্র খাজা আহসানুল্লাহর নামানুসারে এর নামকরণ করেন। প্রাসাদের রং গোলাপী হওয়ায় এটি কে গোলাপী প্রাসাদ অথবা পিঙ্কপ্যালাসও বলা হয়।

আহসান মঞ্জিলের অবস্থান

আহসান মঞ্জিল পুরনো ঢাকার ইসলামপুরের কুমারটুলী এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত।

  • জেলাঃ ঢাকা
  • উপজেলাঃ ইসলামপুর

ইতিহাসের পাতায় আহসান মঞ্জিল

অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে জালালপুর পরগনার জমিদার শেখ এনায়েতউল্লাহ আহসানমঞ্জিলের বর্তমান স্থান রংমহল নামে একটি প্রমোদ ভবন তৈরি করেন। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র রংমহলটি এক ফরাসি বণিকের নিকট বিক্রি করে দেন।

বাণিজ্যকুটির হিসাবে এটি দীর্ঘদিন পরিচিত ছিল। এরপরে ১৮৩৫-এ বেগম বাজারে বসবাসকারী নওয়াব আবদুল গণির পিতা খাজাআলীমুল্লাহ এটি ক্রয় করে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তিতে নওয়াব আবদুল গণি ১৮৭২ সালে প্রাসাদটি নতুন করে নির্মাণ করেন।

১৮৯৭ সালে ১২ই জুন ঢাকায় হওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পে আহসান মঞ্জিলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। প্রাসাদের দক্ষিণের বারান্দা সহ ইসলামপুর রোড সংলগ্ন নহবতখানাটি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে।

পরবর্তীকালে নবাব খাজা আহসানুল্লাহ তা পুনঃনির্মাণ করেন।

আহসান মঞ্জিল এর কাঠামো

এটি ঢাকার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যের একটি চিহ্ন। এই প্রাসাদের ছাদের উপর রয়েছে একটি বিশালাকার গম্বুজ।একসময় এই গম্বুজের চূড়াটি ছিল ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ।মূলভবনের বাইরের য়েছেত্রি-তোরণ বিশিষ্ট প্রবেশদ্বার। উপরে ওঠার সিঁড়িগুলোও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দু’টিমনোর মখিলান আছে যা সবচেয়ে সুন্দর।

আহসান মঞ্জিলের অভ্যন্তরে দু’টি অংশ আছে। বড় অঙ্কন কক্ষ, লাইব্রেরি, কার্ডরুম, রাষ্ট্রীয়রুমে এবং অন্যান্য দুটি অতিথি কক্ষ আছে পূর্ব অংশে যা রঙ্গমহল নামে পরিচিত। আর অন্দরমহল রয়েছে পশ্চিম অংশে। নাচঘর, হিন্দুস্তানিরুম ও অন্যান্য আবাসিক কক্ষ এ অংশের অন্তর্ভুক্ত। নিচতলায় রয়েছে দরবারগৃহ ও ভোজনকক্ষ।

কাঠের তৈরি একটি সুন্দর কৃত্রিম ছাদ দিয়ে ড্রয়িংরুম এবং জালসাঘর সজ্জিত। একটি বড় ডাইনিংহল এবং কিছু ছোটকক্ষ পশ্চিম অংশে অবস্থিত। সুন্দরহোয়াইট, সবুজ ও হলুদ রঙের সিরামিক টাইলস দিয়ে বানানো ডাইনিং –এর মেঝে এবং দরবার হলগুলোর প্রশংসা না করে পারা যায়না।

আর একটি রয়েছে বিখ্যাত দোকান-ঘর, যেখানে নবাব তাদের মূল্যবান দ্রব্যাদি সংরক্ষণ করতেন।এটি ভূমিতলদেশের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিতপাঁচটি কক্ষের মাঝখানের কক্ষ।

আহসান মঞ্জিল থেকে ৪০০০ টির ও বেশি বস্তু সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো দর্শানার্থীদের জন্য প্রতিদিন প্রদর্শিত হয়। রংমহলের ৩১ টি কক্ষেরমধ্যে ২৩ টি কক্ষে এগুলো প্রদর্শন করা হচ্ছে। এগুলির মধ্যে ৯ টি রক্ষিত ছবি রয়েছে যা ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে তোলা হয়েছে।

আহসান মঞ্জিল কেন যাবেন?

ভ্রমন পিপাসু মানুষ দের কে যদি এই কথা জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তারা এই কথা অহেতু হাসির ছলে উড়িয়ে দিবে । কারন, ভ্রমন পিপাসু মানুষদের কাছে এই কথা মূল্যহীন। তবুও বলি,

  • আহসান মঞ্জিল একটি ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান ও একটি জাদুঘর।
  • আহসান মঞ্জিল অত্যন্ত মনোরম, যা আপনার মনকে প্রফুল্ল করে তুলবে।
  • প্রাসাদের ছাদের উপর রয়েছে একটি বিশালাকার গম্বুজ, য়েছেত্রি-তোরণ বিশিষ্ট প্রবেশদ্বার, সিঁড়িগুলো, রঙ্গমহল ও অন্দরমহল সহ সবকিছু দেখার মতো।

টিকেট মূল্য

সাধারণ দর্শনার্থীদের আহসান মঞ্জিল পরিদর্শন করতে জনপ্রতি ২০ টাকা দিয়ে প্রবেশ টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের জন্য আহসান মঞ্জিলে কোন টিকিটের প্রয়োজন হয় না। আর আগে থেকে আবেদন করলে ছাত্র-ছাত্রীরাও বিনামূল্যে আহসান মঞ্জিল জাদুঘর দেখতে পারে। নিচের ছক থেকে সকল সকল শ্রেণীর দর্শনার্থীদের টিকিটের মুল্য জেনে নিনঃ

টিকিটের শ্রেণী টিকিটের মূল্য
সাধারণ দর্শনার্থী জনপ্রতি ২০ টাকা
অপ্রাপ্ত শিশুরা (১২ বছরের নিচে) জনপ্রতি ১০ টাকা
বিদেশী দর্শনার্থী জনপ্রতি ১০০ টাকা
প্রতিবন্ধী দর্শনার্থী ফ্রী
ছাত্র-ছাত্রীরা ফ্রী (পূর্বে আবেদনপূর্বক)

পরিদর্শনের সময়

আহসান মঞ্জিল পরিদর্শন করা যায় দর্শনার্থীদের নিম্নে প্রদত্ত সময়ের মধ্যে আসতে হবে। তাই ছক দেখে সময় জেনে নিনঃ

বার সময়সূচী
শনিবার থেকে বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট – বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট
শুক্রবার বিকেল ৩ টা – রাত ৮ টা

বৃহস্পতিবার এবং অন্যান্য সরকারী ছুটির দিনে আহসান মঞ্জিল জাদুঘর সম্পূর্ন বন্ধ থাকে।

আহসান মঞ্জিল কীভাবে যাবেন ?

বাস যোগেঃ ঢাকার যেকোন জায়গা থেকে গুলিস্তান আসতে হবে। তারপর ঢাকার গুলিস্তান থেকে সরাসরি বাস সার্ভিস পাওয়া যায়। প্রথমে বাসে করে সদরঘাট বাস স্ট্যান্ডে যেতে হবে। তারপর রিক্সায় ২০-৩০ টাকায় আহসান মন্জিল।

রিক্সা বা সিএনজিঃ রিক্সা বা সিএনজি তে করে গুলিস্থানের নর্থ সাউথ রোড ধরে নয়াবাজার মোড় হয়ে বাবুবাজার ব্রিজ দিয়ে এগুলে ইসলামপুর পৌঁছে যাবেন। আর ইসলামপুর আসলে আহসান মঞ্জিল যাওয়ার রাস্তা যে কাউকে জিজ্ঞাস করলেই দেখিয়ে দিবে। তাছাড়া প্রায় বেশীরভাগ রিক্সা বা সিএনজির ড্রাইভার চেনে।

বেসরকারি গাড়ি, ট্যাক্সিঃ আপনি খুবই সহজে বেসরকারি গাড়ি, ট্যাক্সিতে করে যেতে পারেন।

পায়ে হেঁটেঃ আবার আপনি চাইলে সরাসরি পুরান ঢাকার সদরঘাট এলাকায় এসে পায়ে হেঁটে আহসান মঞ্জিল যেতে পারবেন।

আহসান মঞ্জিলের ম্যাপে

গুগুল ম্যাপে আহসান মঞ্জিলের পথে যুক্ত করা হয়েছে। যা দেখে আপনি সহজেই আপনার পথ খুজে পাবেন।

আরও পড়ুন