,


ঘরে ফেরার সময় কান্না!
ঘরে ফেরার সময় কান্না!

ঘরে ফেরার সময় কান্না!

ডেস্ক রিপোর্টারঃ ‘দিলবার দিলবার…’ এই গান দিয়েই সবাইকে নাচিয়েছেন তিনি। এই গানের ভিডিও মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টায় দেখা হয়েছিল দুই কোটিবার। এটিই প্রথম আর এটিই এখন পর্যন্ত একমাত্র। ভারতের আর কোনো গানের ভিডিওর এই রেকর্ড নেই। এ পর্যন্ত ইউটিউবে গানটি দেখা হয়েছে ৫৬ কোটি ৮৩ লাখ ৪০ হাজারবার!

যাঁর কারণে এই গান ‘জনপ্রিয় পার্টি সং’ হয়েছে, তিনি নোরা ফাতেহি। কানাডার নৃত্যশিল্পী। অভিনয় করেছেন হিন্দি, তেলেগু আর মালায়ালাম ছবিতে। ঝলক দেখিয়েছেন রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’ আর ‘ঝলক দিখলা যা’র নবম সিজনে। এখন তিনি ভারতের সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জনকারী নৃত্যশিল্পীদের একজন। ইউটিউবে চলছে ‘বাটলা হাউস’ ছবিতে তাঁর ‘ও সাকি সাকি রে’ গান-ভিডিওর জ্বর। ১৫ জুলাই মুক্তি পাওয়ার পর ইউটিউবে গানটির পাশে ভিউসংখ্যা দেখাচ্ছে ৬ কোটি ৬২ লাখ ২৪ হাজার। সময়ের সঙ্গে বড় হচ্ছে এই সংখ্যা।

সামনে লাইন ধরে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বরুণ ধাওয়ান ও শ্রদ্ধা কাপুরের সঙ্গে তাঁর অভিনীত ‘স্ট্রিট ড্যান্সার’। এই ছবি মুক্তি পাবে ২০২০ সালের ২৪ জানুয়ারি।

আজ অনেকে নোরা ফাতেহিকে বলছেন, বলিউডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ড্যান্সার। কিন্তু যখন ক্যারিয়ার গড়তে সুদূর কানাডা থেকে ভারতে উড়াল দিয়েছিলেন তিনি, সেই দিনগুলো আজকের মতো এত আলোকোজ্জ্বল আর তারা-ঝলকানিময় ছিল না।

এত দিন পর তাই কথা বলেছেন সেসব অন্ধকারাচ্ছন্ন হোঁচট খাওয়া দিন নিয়ে। পিঙ্কভিলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি ভারতে ক্যারিয়ার গড়তে এসে তাঁর তখনকার সঞ্চয় ২০ লাখ রুপি খুইয়েছিলেন। আলাপের শুরু করেছিলেন একেবারে শুরু থেকে, ‘ক্যারিয়ার গড়তে আসা বিদেশিদের জন্য ভারত খুব কঠিন জায়গা। আমাদের যে কী পরিমাণ সংগ্রাম করতে হয়, তা খুব কম মানুষ কল্পনা করতে পারে। তারা আমাদের সব অর্থ কেড়ে নেয়।’

তারা কারা? নোরা ফাতেহি বললেন, ‘যে এজেন্সির মাধ্যমে আমি কানাডা থেকে ভারতে এসেছিলাম, তারা খুব রূঢ় ছিল। খারাপ ব্যবহার করত। আমি বুঝতে পারছিলাম, কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে। আমাকে ভুল পথে পরিচালিত করা হয়। আমি তাদের ছাড়তে চাই। বিনিময়ে তারা আমার সব অর্থ রেখে দেয়। আমি তাতেই রাজি ছিলাম। এভাবে আমি তাদের থেকে মুক্ত হই। তবে আমার বিশ্বাস ছিল, দিন ফিরবে। আর সেদিন এই অর্থের জন্য আমার কোনো আফসোস থাকবে না।’

এরপর নোরা বলেছেন তাঁর সংগ্রামের দিনগুলোর কথা, ‘আটটা মেয়ের সঙ্গে রুম ভাগ করে থাকতে হতো আমাকে। আমি যখন মাত্র কাজ করতে শুরু করেছি, তখন সেই মেয়েরা আমার পাসপোর্ট চুরি করে। বাধ্য হয়ে আমাকে ভারত ছাড়তে হয়। ফিরে যেতে হয় কানাডায়।’

এরপর সব শক্তি জড়ো করে আবার দ্বিতীয়বারের মতো সংগ্রাম শুরু করেন ২৭ বছর বয়সী এই বলিউড তারকা। তখন তিনি হিন্দি শেখা শুরু করেন। আর সঙ্গে যোগ হয় অডিশনের ভয়াবহ সব অভিজ্ঞতা। নোরার ভাষায়, ‘আমি বোধ হয় সবকিছুর জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। সবাই এমনভাবে আমার মুখের ওপর হাসাহাসি করত, যেন আমি একটা সার্কাস! প্রতিবার ঘরে ফেরার সময় পুরো রাস্তা কাঁদতাম। একজন তো তাচ্ছিল্যের সঙ্গে হাত নেড়ে বিদায় করতে করতে আমাকে বলেছিল, “যেখান থেকে এসেছ, সেখানেই ফিরে যাও। এখানে তোমার কিছুই হবে না।” তখন ঘরে ফেরার সময় আমি কাঁদতাম। সেদিন নিজেকে বলেছিলাম, আমাকে দিয়ে হবে। আমাকে দিয়ে হতেই হবে।’

হয়েছেও তাই। সেই দিনগুলো বদলেছে, রঙিন হয়েছে। পেরেছেন নোরা ফাতেহি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

সর্বশেষ

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আপডেট

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
১৬২,৪১৭
সুস্থ
৭২,৬২৫
মৃত্যু
২,০৫২

বিশ্বে

আক্রান্ত
১১,৫৭২,১৪০
সুস্থ
৬,৫৪৩,০৫৪
মৃত্যু
৫৩৭,০৪৭

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আপডেট

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৭৩৮
৫৫
১,৯০৪
১৩,৯৮৮
সর্বমোট
১৬২,৪১৭
২,০৫২
৭২,৬২৫
৮৩২,০৭৪
%d bloggers like this: