,


“টাকার জন্য বেধড়ক পেটান ওসি”
“টাকার জন্য বেধড়ক পেটান ওসি”

“টাকার জন্য বেধড়ক পেটান ওসি”

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ আমার ছোট ভাই রিয়াদ হোসেন ঢাকায় তার ব্যবসায়িক মালামাল আনতে গেলে ঢাকার ওয়ারী থানার পুলিশ তাকে আটক করে। এ ঘটনায় প্রথমে পুলিশ জানায়, তাকে চুরির ঘটনায় আটক করা হয়েছে। পরে রিয়াদের নামে মামলায় দেখানো হয়, রিয়াদকে ঢাকার ভাসমান হেরোইন ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান দেওয়া হয়েছে। পরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রিয়াদের সাথে কথা বলতে গেলে জানান, ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান টাকার জন্য তাকে বেধড়ক পিটিয়েছেন। রিয়াদ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে জানান রিয়াদ। এসময় রিয়াদ ওসির কাছে বলেছিল, আমি গরীব মানুষ, টাকা কোথায় পাবো। তারপরও ছাড় দেওয়া হয়নি রিয়াদকে। মিথ্যা একটি মামলায় ফাঁসানো হয়েছে আমার ছোট ভাইকে। ১৭ মে আমার ভাইয়ের সাথে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে দেখা করে জানতে পাই পুরো ঘটনায় তাকে ফাঁসানোর বিষয়টি।

রবিবার বেলা ১১টার দিকে গাইবান্ধা শহরের ভিএইড রোডের সৈয়দ কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকার ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান ও বাদী এসআই রঞ্জিত সরকারের বিরুদ্ধে গাইবান্ধার রিয়াদ হোসেনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন রিয়াদ হোসেনের বড় ভাই জাভেদ হোসেন। এ ব্যাপারে পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপির পুলিশ কমিশনার ও ওয়ারী জোনের ডিসি বরাবর তিনটি অভিযোগ দাখিল করেছেন জাভেদ হোসেন। যা তদন্তাধীন রয়েছে।

জাভেদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন, রিয়াদ হোসেন পেশায় একজন লেদমিস্ত্রি। রিয়াদ গাইবান্ধা পৌর এলাকার পূর্বপাড়ার মৃত মিজাম উদ্দিনের ছেলে। গত ৯ মে তিনি ওয়ার্কসপের মালামাল ক্রয় করতে ঢাকার জয়কালি মন্দির সংলগ্ন হোটেল ওসমানিয়ায় ওঠেন। ১৩ মে বিকেলে তার স্ত্রী ববি বেগমের সাথে মোবাইলফোনে কথা বলার পর থেকে তার মোবাইলফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাত ৯টার পর রিয়াদের চাচাতো শ্যালক সেলিম রিয়াদের মোবাইল নম্বরে কল করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়ারী থানার একজন রিয়াদের মোবাইলটি রিসিভ করে বলেন, রিয়াদকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

১৪ মে সকালে ঢাকা জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলাম আমাকে ফোন করে বলেন, আপনার ভাই রিয়াদ হোসেন ওয়ারী থানায় চুরির মামলায় আটক আছে। কিছুক্ষণের মধ্যে তাকে আদালতে পাঠানো হবে, তাকে জামিন করাতে চাইলে আমার সাথে দেখা বা বিকাশে টাকা দিন। পরে আমি তাকে দুই হাজার টাকা পাঠিয়েও দিই।

এরপর (১৪ মে) দুপুরে আমাকে ওয়ারী থানার এসআই রঞ্জিত সরকার কল দিয়ে বলেন, রিয়াদ এখন আমাদের থানায় চুরি মামলায় আটক আছে। তারপর তিনি বলেন, আমি পরে ফোন দিচ্ছি। এই বলে তিনি ফোনটি কেটে দেন। তার কিছুক্ষণ পর ওয়ারী থানা থেকে দেলোয়ার নামের একজন কনস্টেবল পরিচয় দিয়ে বলেন, চুরির ঘটনায় রিয়াদ ওয়ারী থানায় আটক আছে। পরে সেদিনই আমি বিকেল তিনটার দিকে আমার অ্যাডভোকেট এর নিকট জানতে পাই তাকে কোর্টে পাঠানো হয়নি।

পরদিন ১৫ মে দুপুরে ওয়ারী থানা থেকে আমার ভাইকে কোর্টের গারদখানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আমি আমার অ্যাডভোকেট জহুরুল ইসলামকে মামলার নকল তুলতে বলি এবং মামলার কাগজ হাতে পেয়ে জানতে পাই, আমার ভাইকে কোন চুরির মামলায় না, তাকে ১৪ মে রাতের ঘটনায় এক হাজার নয়শত তিনটি পুরিয়াসহ ঢাকার ভাসমান মাদক ব্যবসায়ী দেখিয়ে আদালতে মামলা উপস্থাপন করা হয়। যা আদৌও সত্য নয়। সম্পুর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। রিয়াদের কাছে টাকা না পেয়ে পুলিশ এই মিথ্যা মাদকের মামলায় আমার ভাইকে ফাঁসিয়েছে।

১৫ মে দুপুরে আমি সাথে সাথে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) মফিজ মিয়াকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নিরুপায়। আমাকে সকালে ওসি সাহেব বলেন, তোমাকে এই মামলার আইও হতে হবে, তাই আমি আইও হয়েছি। পরে মামলার বাদী এসআই রঞ্জিত সরকারকে ফোন দিলে তিনি বলেন, আপনিতো আমাদের সাথে কোন যোগাযোগ করলেন না, আমি কি করবো। যদি যোগাযোগ করতেন তবে এটা হতোনা। পরে আমি ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমানকে ফোন দিলে তিনি আমাকে থানায় চায়ের দাওয়াত দিয়ে ফোনটি কেটে দেন।

১৪ মে দিনের বেলা এসআই রঞ্জিত সরকারের সাথে মোবাইলে কথা বলার কললিষ্ট, একই দিন দুপুরে থানার কনস্টেবল দেলোয়ার কর্তৃক আমার ভাইকে চোর হিসেবে আটকের বিবরণের রেকর্ড ও পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মফিজ মিয়া এবং ওসি আজিজুর রহমানের সাথে মোবাইলের সকল কথোপকথন আমার কাছে রেকর্ড করা আছে।

আমার ভাইকে যদি ১৪ মে রাতে মাদক বিক্রি করার সময় আটক করা হয় তবে ১৩ মে কেন রিয়াদকে গ্রেপ্তার করা হলো। কেনই বা আমাকে ১৪ মে দুপুরে এসআই রঞ্জিত সরকার ও কনস্টেবল দেলোয়ার আমাকে কল করলো। আমি ১৭ মে শুক্রবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রিয়াদের সাথে দেখা করে জানতে পাই, ওসি নিজে দুই দিন টাকার জন্য রিয়াদকে বেধড়ক মেরেছে।

পুলিশের এ অন্যায়ের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে জাভেদ হোসেন বলেন, ওয়ারী থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, ফোন রেকর্ড ও ফোন কল যাচাই করলে ওয়ারী থানার দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

আমি ইতোপূর্বে উপরোক্ত ঘটনাসমূহ পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করেছি। কিন্তু ঘটনার দেড় মাস অতিবাহিত হলেও ওসি এবং এসআই এর অনৈতিক ও উদ্দেশ্যমূলক কর্মকা-ের জন্য বিভাগীয় কোন ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। তাই এ সংবাদ সম্মেলনে আমি রিয়াদের তার অসহায় পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সুষ্ঠু বিচার পেতে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিয়াদ হোসেনের স্ত্রী ববি বেগম, রিয়াদের শ্বশুড় আঃ বাকী ও রিয়াদের তিন কন্যা শিশু জান্নাত, জোনাকী ও জ্যোতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

সর্বশেষ

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আপডেট

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৪৭,১৫৩
সুস্থ
৯,৭৮১
মৃত্যু
৬৫০

বিশ্বে

আক্রান্ত
৬,২০৩,৫৭০
সুস্থ
২,৭৬৫,৪২৯
মৃত্যু
৩৭১,৮৫৫

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আপডেট

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
২,৫৪৫
৪০
৪০৬
১১,৮৭৬
সর্বমোট
৪৭,১৫৩
৬৫০
৯,৭৮১
২৯৭,০৬৪
%d bloggers like this: