,


অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর উদ্দ্যোগ জরুরি

অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর উদ্দ্যোগ জরুরি

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটছে যার ফলে ঝরছে বহু প্রান ধ্বংস স্তূপে পরিণত হচ্ছে রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ । যার মধ্যে বনানী ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের ইতিহাসে ভয়াবহ বেদনা বিধুর একটি ঘটনা ।

যার মধ্যে দিয়ে বিশ্ববাসী কাছ থেকে দেখেছে মৃত্যু কতটা নির্মম হয়, কতটা মর্মান্তিক হয় দেখেছে মানুষের অসহায়ত্ব ।

এফ আর টাওয়ারে আটকে আছে মানুষ আগুনের লেলিহান লেলিহান শিখার তাপ হতে বাঁচতে তাঁদের আহাজারি আর আর্তনাদ কেও বা ঝুঁকি নিয়ে রেলিং বেঁয়ে নামছে কেও বা বাঁচার তাগিদে লাফিয়ে পড়ে মৃত্যু বরণ করছে । নিমতলি ,চকবাজার্‌, গুলশান ,বনানীর ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ভাবিয়ে তুলছে দেশবাসীকে অগ্নি দুর্ঘটনার নিরাপত্তা কতটুকু ?

অগ্নি দুর্ঘটনায় আমাদের প্রস্তুতি,, উদ্যোগ বা সচেতনতা কত্টূকূ ?অগ্নিকান্ড ঘটতেই পারে বিভিন্ন ভাবে । কিন্তু আমাদের প্রতিরোধ ব্যাবস্থা কতটুকু ? বিশেষজ্ঞদের মতে আগুণ লাগার পাঁচ মিনিট হচ্ছে বিপদজনক সময় । ছোট একটি আগুণ যদি প্রথম পাঁচ মিনিটেই নেভানো সম্ভব হয় তাহলে সেটি কোন দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়না ।

এই পাঁচ মিনিট স্থানীয়দের আগুণ নেভানোর কাজ করতে হয় । এই সময় ফায়ার সার্ভিসের উপর নির্ভর করলে চলবে না কিন্তু অগ্নি নির্বাপণে যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকায় এই ছোট আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটছে ।

তাই আগুণ নেভানোর কাজে শুধুমাত্র ফায়ার সার্ভিসের উপর নির্ভরতার কারণে এর ক্ষয়ক্ষতি কমানো যাচ্ছে না । তাই ভবিষ্যতে বড় বড় অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা থেকেই যাচ্ছে । তাই অগ্নি নির্বাপণে সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ সহ বেসরকারি পর্যায়ে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যাবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে ।

এছাড়াও অগ্নি নির্বাপণে আমাদের বিশ্ব মানের প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে । প্রতিটা বড় বড় অগ্নি দুর্ঘটনায় আমরা প্রযুক্তির অভাববোধ করি । আমাদের দেশে বহুতল ভবন গুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যাবস্থা অপ্রতুল ।ভবন গুলোতে অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র বলতে বুঝি ফায়ার স্টিংগুসার যা অগ্নি নির্বাপণে যথেষ্ট নয় ।

কোন কোন ভবনে ফায়ার স্টিংগুসার থাকলেও তা মেয়াদ উত্তীর্ণ আবার ভবনের বাসিন্দারা এর ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞ যার ফলে প্রয়োজনের সময় এটি কাজে আসছে না। বহুতল ভবন গুলোতে অগ্নি নির্বাপণে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা জরুরি যা হল স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংলার,আন্ডার গ্রাউন্ড পানির রিজার্ভ , তাপ রোধক দরজা ,জানালা, ফায়ার ফাইটিং পাম্প হাউস ,স্মোক ও হিট ডিটেকশন সিস্টেম ,ফায়ার লিফট ,এক্সিট ডোর ,অটোমেটিক ফায়ার ডিটেকশন যার ফলে আগুণ লাগলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে ।

উন্নত বিশ্বে বহুতল ভবনে আগুণ লাগলে আটকে পড়া মানুষদের লাফিয়ে পরার জন্য বিশেষ ধরণের নেট বা এয়ার ব্যাগ ব্যাবহার করা হয় যাতে আটকে পড়া মানুষ লাফিয়ে পরে জীবন রক্ষা পায় ।

যা বনানী ট্র্যাজেডিতে ছিল অনুপস্থিত যার ফলে জীবন বাঁচাতে লাফিয়ে পরে অনেকের মৃত্যু হয় । অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে আরেকটি কার্যকর ব্যাবস্থার নাম হল ফায়ার হাইড্রেন্ট বিশ্বের প্রায় সবগুলো বড় বড় শহরে এই ফায়ার হাইড্রেন্ট ব্যাবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে কিন্তু অপরিকল্পিত ঢাকা সহ দেশের বড় বড় শহর গুলোতে হাইড্রেন্ট ব্যাবস্থা এখনও গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি ।

যার ফলে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহের অভাবে দ্রুত আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্বব হচ্ছে না যার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হচ্ছে । আরেকটি ব্যাবস্থা যা ঢাকা সহ বড় বড় শহর গুলোতে পানির জলাধার ,ছোট ছোট জলাশয় বা খাল সহ পানির রিজার্ভার তৈরি করতে হবে যেন অগ্নি নির্বাপনে এই জলাধার গুলো পানির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা যায় ।

ঢাকা সহ বাংলাদেশরে প্রায় সব বিভাগীয় শহরে নতুন নতুন সুউচ্চ ভবন নির্মিত হচ্ছে এই সকল ভবন মালিকগণ যতোটা তাদের ভবনে সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সচেতন ততটায় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যাবস্থায় অসচেতন যার ফলে অগ্নি দুর্ঘটনায় ব্যাবপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে ।

হংকং দুবাই সিঙ্গাপুর অঞ্চলে সুউচ্চ ভবন অনেক বেশি হংকং এর বেশি ভাগ ভবন গুলো ৫০ তলা সেগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ও ভূকম্পন প্রতিরোধ ব্যাবস্থা সঠিক ভাবে গড়ে তোলা তাই সেখানে আমাদের দেশের মত এমন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায় না । অথচ আমাদের দেশে এফ আর টাওয়ারের মত ভবন কতটা অনিরাপদ ?

আমাদের দেশে ৮০ ভাগ অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটে শর্টসার্কিট থেকে যার অন্যতম কারণ নিম্ন্ মানের ক্যাবল ও ইলেক্ট্রিক সামগ্রী ব্যবহার। বাংলাদেশে যে পরিমান নিম্ন্ মানের ক্যাবল বা ইলেকট্রিক সামগ্রী ব্যবহার করা হয় তা অন্য কোনো দেশে ব্যবহৃত হয় না। আমাদের এই বিষয়ে অধিক সচেতন হতে হবে।

আমাদের দেশে একের পর এক বহুতল ভবন গড়ে উঠছে কিন্তু এগুলো ইমারত বিধিমালা, বিল্ডিং কোড না মেনেই এবং অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মিত হচ্ছে। যার ফলে ভবিষ্যতে বড় ধরণের অগ্নি ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। আমাদের দেশে বাস্তবটা হচ্ছে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে ব্যাপক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটছে কিন্তু কার্যকর কোন ব্যাবস্থা নেই বললেই চলে , এর সাথে দায়ি ব্যাক্তিরা শাস্তি পাচ্ছে না তাই একের পর এক অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে ।

অগ্নি দুর্ঘটনা রোধে সাধারণ জনগনের মাঝে সচেতনতা বাঁড়াতে হবে তেমনি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি ।

লেখক : মোঃ আল আমিন নাহিদ
নির্বাহী রানার অটোমোবাইলস লিমিটেড
বি এস সি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ( ম্যাকানিক্যাল )
কৰ্মস্থলঃ ভালুকা ময়মনসিংহ
০১৭৩৭৩৫০২১৪

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

সর্বশেষ

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আপডেট

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৩৮,২৯২
সুস্থ
৭,৯২৫
মৃত্যু
৫৪৪

বিশ্বে

আক্রান্ত
৫,৭১৯,০৫১
সুস্থ
২,৪৫৬,৪৪৭
মৃত্যু
৩৫৩,০৬০

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আপডেট

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
১,৫৪১
২২
৩৪৬
৬,২২২
সর্বমোট
৩৮,২৯২
৫৪৪
৭,৯২৫
২৫৯,২৫৬
%d bloggers like this: