,


যে কারণে বগুড়া সংরক্ষিত আসনে সুমনা রায় যোগ্য প্রার্থী
সুমনা রায়

যে কারণে বগুড়া সংরক্ষিত আসনে সুমনা রায় যোগ্য প্রার্থী

কে হচ্ছেন বগুড়া মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ? জল্পনা কল্পনা চলছে সর্বত্রই ।

গত ১ লা জানুয়ারি নির্বাচন এর গেজেট প্রকাশও হয়েছে । আইন অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।যার ফলে আগামী এপ্রিল এর মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচন শেষ করতে হবে ।

ইতিমধ্যে সরকারী দল মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করেছেন ।সংবিধান অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা আসন ৫০ টি এই সংখ্যা কে ৩০০ নির্বাচনী এলাকা দিয়ে ভাগ করলে যে ফল পাওয়া যাবে তার সাথে একেকটি দলের যতজন সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন তার সংখ্যা দিয়ে গুণ করলে যে সংখ্যা পাওয়া যায় তা হবে ওই দল বা জোটের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা সে মোতাবেক আওয়ামী লীগ পাবে ৪৩ টি জাতীয় পার্টি পাবে ৪ টি , ঐক্যফ্রন্ট পাবে ১ টি অন্যান্য দল পাবে ২ টি ।

আওয়ামী লীগের টানা তৃতীয়বারের মত বিশাল বিজয়ের পরে মন্ত্রীসভা গঠিত হবার পর তারা খুব দ্রুতই সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যদের সংসদে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়। তাই ইতিমধ্যেই সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন পেতে জোর তদ্বির লবিং শুরু করেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যেই নতুন মন্ত্রীসভায় নতুনদের ঠাই দিয়ে চমক দেখিয়েছেন । সংরক্ষিত মহিলা আসনেও এমন যোগ্য সৎ, শিক্ষিত, জনপ্রিয়ও সবার কাছে গ্রহণ যোগ্য ব্যাক্তিকে মনোনীত করে আরেকটি চমক দেখাবেন বলে সবাই আশা করছেন ।

সাধারণত ৬ টি আসনের বিপরীতে ১ জন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য হতে পারে। সে মোতাবেক বগুড়া -জয়পুরহাট অঞ্চলের জন্য একজন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য থাকবেন ইতিমদ্ধেই এ অঞ্চলের সম্ভব্য প্রার্থীরা বিষয়টি নিয়ে দলের কাছে জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা দলের কাছে বিগত দিনের কর্মকাণ্ড দলের জন্য তাঁদের অবদান, ত্যাগ তুলে ধরছেন ।

যাদের মধ্যে এগিয়ে আছেন বগুড়ার বহুল প্রচারিত দৈনিক চাঁদনী বাজার সম্পাদক সুমনা রায়। যুদ্ধাহত পরিবারে তার জন্ম। সুমনা রায়ের পরিবারের মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে আত্ম বিসর্জনের বেদনা বিঁধুর ট্রাজেডিময় এক ইতিহাস।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর আল বদর আল শামস এদেশে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ, অগ্নি-সংযোগ ,লুটপাট শুরু করেন বাদ যায়নি বগুড়াও। ১৯৭১ সালের ২৬ এপ্রিল তার দাদু (নানা ) মনমথ নাথ কুন্ডু তার পরিবার পরিজন নিয়ে তার ভায়রা ভাই ক্ষিতিশ কুন্ডুর বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেই সময় নাগর নদের অববাহিকায় বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় চৌধুরীপাড়ায় পরদিন ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল এক নারকীয় হত্যাযজ্ঞ তান্ডব নীলা চালায় পাকহানাদার বাহিনী তাদের এ হত্যাযজ্ঞে নির্মম ভাবে প্রাণ হারান তার দাদু (নানা ) মনমথ কুণ্ডু দিদি মা (নানি ) দূর্গা রানী কুন্ডু মামা কালাচাঁদ কুন্ডু ,৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মামী শেফালী কুন্ড সহ ৮ জন।

পাকিস্থানি হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে পালাতে গিয়ে পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন তার মামাত দুই ভাই শিশু সুব্রত কুণ্ডু (৬) ও পলাশ কুণ্ডু (৪)। তারা আজও সেই ক্ষতচিহ্ন বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছেন।

সেই সময় পাক হানাদার বাহিনীর তান্ডব নীলা এতটাই ভয়ংকর ছিল যে তাদের নিহত স্বজনদের ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী সংস্কার করতে পর্যন্ত পারেননি তাঁরা ।

স্থানীয় ব্যক্তিদের সহযোগিতায় চৌধুরী বাড়ির পেছনে পিটাহারি গাছের নিচে তাদের পুঁতে রাখা হয়। নিহতদের স্মরণে ইতিমধ্যেই সরকার চৌধুরী বাড়ির পেছনে বধ্যভূমি সৃতিস্তম্ভ্য নির্মাণ কাজ হাতে নিয়েছেন।

ছাত্র জীবন থেকেই সুমনা রায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া দল মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারি দলের জন্য যার অকৃত্রিম ভালবাসা ত্যাগ দেখিয়েছেন । ছাত্র জীবনেই তিনি জড়িয়ে পরেন রাজনীতিতে । সে সময় বগুড়া আজিজুল হক কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন । দলীয়ও সূত্র জানায় এবার যারা পূর্বে সংসদ সদস্য হননি দলের দুর্দিনে যারা পাঁশে ছিলেন এমন ব্যাক্তিকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে।

আমরা মনে করি সে দিক থেকেও সুমনা রায় এগিয়ে ছাত্রজীবন থেকে যিনি আওয়ামী লীগের জন্য ত্যাগ শিকার করে আসছেন ।

১৯৯৭ সালে তার স্বামী বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তৎকালীন সময়ে সরকারী দলের নানা রকম চক্রান্ত, হামলা, মামলার নির্যাতনের শিকার হয়ে কখন ফেরারি আসামী হয়েছেন কখনও বা জেলে গেছেন।সেই সময় একজন সুমনা রায় কে কখনো জেল গেটে কখন বা কোর্টের বারান্দায় ছোঁটা ছুটি করতে হয়েছে একদিকে সন্তান পরিবার পরিজনদের দেখাশোনা অন্য দিকে অন্যদিকে স্বামীর মুক্তির জন্য দৌড়ঝাঁপ । সবমিলিয়ে তাকে বিভীষিকাময় দিন পার করতে হয়েছে তবুও তিনি সামান্যতম বিচলিত হননি বরং বজ্ঞবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সকল বৈরি ও প্রতিকূল পরিবেশে অসীম ধৈর্য্য, দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সাথে মোকাবেলা করেছেন। তবুও দলের জন্য কাজ করে গেছেন নিরলস ভাবে।

২০০৫ সালে তিনি যখন দৈনিক চাঁদনী বাজারের দায়িত্ব নেন তখন পত্রিকাটি রুগ্ন অবস্তায় ছিল প্রায় বন্ধ হবার মত অবস্থা । প্রতিদিন পত্রিকাটি প্রকাশ করে সময় মত পত্রিকাটি পাঠকের হাতে তুলে দেওয়ায় সেই সময় ছিল বড় চ্যালেঞ্জ । সে সময় রাজনৈতিক প্রতিকূল ও বৈরি পরিবেশের মধ্যে তার সৃজনশীল মেধা, প্রজ্ঞা ,দৃঢ়তা, দূরদৃষ্টি এবং সাহসী পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে চাঁদনী বাজারকে এ অঞ্চলের জনপ্রিয়ও পত্রিকায় পরিণত করেছেন । তার পর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ।

বি এন পি -জামায়াত অধ্যুষিত এ এলাকায় বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া অসাম্প্রদায়িক চেতনার উদার পন্থী দল আওয়ামী লীগ কে জনসাধারণ ও গণমানুষের মাঝে তুলে ধরতে তিনি ও তার পত্রিকা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন ।

এছারাও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে, যা এ অঞ্চলে দলের ভাবমূর্তি উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে । এক রকম বলাচলে তিনি এ অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির শক্তিশালী প্রচার মাধ্যাম বা গণমাধ্যম তৈরিতে সমর্থ হয়েছেন। তিনি একজন মেধাবী, বিচক্ষণ ও দক্ষ ব্যাক্তি । তিনিই বাংলাদেশের প্রথম মহিলা সম্পাদক তিনি সাংবাদিকদের সেকেন্ড হোম খ্যাত প্রেস ক্লাব তথা বগুড়া প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন ।

একজন ব্যাক্তি সুমনা রায় এ অঞ্চলের সকল শ্রেণী -পেশা ও দল মত নির্বিশেষে সকলের কাছে গ্রহণ যোগ্য ও প্রিয় ব্যাক্তি তাকে মনোনয়ন দিলে সবার কাছে যেমন গ্রহণ যোগ্যতা পাবে তেমনি এ অঞ্চলের গনমানুষের মাঝে দলের ভাবমূর্তি উজ্জল হবে বলে আমরা আশা করছি ।

এছারাও গণমাধ্যম গণমানুষের কথা বলে গণমাধ্যম গনমানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায় গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ তিনি যেহেতু একটি গণমাধ্যমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি এ অঞ্চলের গনমানুষের ভাষা ভাল বুঝবেন। তিনি তার মেধা ,দক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে এ অঞ্চলের নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় তাদের জীবন মান উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প গুলো বাস্তবায়নে ব্যাপক অবদান রাখতে পারবেন। সুমনা রায় একজন সফল মানুষ। একজন সফল মানুষই পারে সফলতা এনে দিতে একজন সফল মানুষই পারে সফলতার পথ দেখাতে তার মাধ্যমেই আসবে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সফলতা। একজন জনপ্রতিনিধি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি। তাই তাকে সৎ ও গ্রহণ যোগ্য ,মেধাবী ,দক্ষ মানুষ হতে হবে । আমরা মনে করি সুমনা রায় একজন মেধাবী ,সৎ ,দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তি তাই তিনি এ অঞ্চলের নারী শিশু ও গণমানুষের ভাগ্য উন্ননে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারবেন ।

পরিশেষে বলা চলে , আমাদের মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নিজেও তার পিতা বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সহ প্রাণ প্রিয় আপনজনদের হারিয়েছেন, যা ছিল বাঙালী জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কিত অধ্যায় । তাই তিনি স্বজন হারানোর ব্যাথা সবচেয়ে ভাল বোঝেন ।তিনি মহান মুক্তি যুদ্ধে আত্মবিসর্জন কারি , যুদ্ধাহত এ পরিবারের প্রতি সহানুভূতি, সহমর্মিতা এবং মমত্ববোধ দেখাবেন বলে আমরা আশা করছি ।

আমরা মনে করি শহিদ পরিবারের সদস্য সুমনা রায় কে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দিলে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মবিসর্জন কারি যুদ্ধাহত এ পরিবারের শহিদদের প্রতি যতাযথ সন্মান প্রদর্শন করা হবে এবং যার মধ্য দিয়ে রচিত হবে ক্ষুধা মুক্ত ,দারিদ্র মুক্ত লাখো শহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ ।

লেখক : প্রাবন্ধিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

সর্বশেষ

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আপডেট

বাংলাদেশে

আক্রান্ত
৩৮,২৯২
সুস্থ
৭,৯২৫
মৃত্যু
৫৪৪

বিশ্বে

আক্রান্ত
৫,৭২৮,০২০
সুস্থ
২,৪৬১,২৫৫
মৃত্যু
৩৫৩,৬৬১

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আপডেট

সর্বশেষ (গত ২৪ ঘন্টার রিপোর্ট)
আক্রান্ত
মৃত্যু
সুস্থ
পরীক্ষা
১,৫৪১
২২
৩৪৬
৬,২২২
সর্বমোট
৩৮,২৯২
৫৪৪
৭,৯২৫
২৫৯,২৫৬
%d bloggers like this: