,


শাকিব খান ২০–এও নাম্বার ওয়ান
শাকিব খান ২০–এও নাম্বার ওয়ান

শাকিব খান ২০–এও নাম্বার ওয়ান

ডেস্ক রিপোর্টারঃ বাংলা সিনেমায় এ সময়ের সেরা নায়ক কে? প্রশ্নটা করলে সবার আগে যে জবাব আসবে, সেটা সহজেই আন্দাজ করা যায়। নামটি হলো—শাকিব খান। দুই দশক পেরিয়েছে শাকিবের অভিনয়জীবন। এ সময়ের মধ্যে কত আলোচনা, সমালোচনা, বিতর্ক, প্রশংসা তাঁর হিসাব নেই। চলচ্চিত্রে শাকিবের অভিনয়ের ২০ বছর উপলক্ষে আনন্দ বসেছিল আড্ডায়। নায়ক শাকিব আর ব্যক্তি শাকিব—দুজনেরই দেখা মিলল সেখানে।


শাকিবের সিনেমা শাকিবের স্বপ্ন

২০ বছর ধরে পর্দা মাতিয়ে চলছেন চিত্রনায়ক শাকিব খান। দেশের সীমানা পেরিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সিনেমাজগতেও নিজের ছাপ ফেলেছেন। বর্তমানে চলচ্চিত্রে একক রাজত্ব করা এই নায়কের পথচলা মসৃণ ছিল না। এখনো সংগ্রাম করে চলছেন, মুখোমুখি হচ্ছেন আলোচনা–সমালোচনার, পেরোচ্ছেন প্রতিকূলতা। এসব নিয়ে দুই দফায় শাকিব খানের সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। লম্বা সময় নিয়ে তিনি বলেন নানা বিষয়ে কথা। লিখেছেন মনজুর কাদের।
অভিনয়জীবনের বাঁকবদল

২০ বছরের অভিনয়জীবনে দেড় শতাধিক ছবি মুক্তি পেয়েছে শাকিব খানের। প্রতিটি ছবিই তাঁর ক্যারিয়ারে কোনো না কোনোভাবে অবদান রেখেছে বলে মনে করেন তিনি। সোহানুর রহমান সোহানের অনন্ত ভালোবাসা দিয়ে পর্দায় যখন শাকিব খানের আবির্ভাব, সেই সময়টা মোটেও ভালো ছিল না। তবু আশাবাদী শাকিব তাঁর মতো করে কাজ করে গেছেন। মনোবল হারাননি। মন খারাপ হতো। তারপরও অনন্ত ভালোবাসা, আমার স্বপ্ন তুমি, কোটি টাকার কাবিন—এসব ছবি শাকিব খানকে দেশের সিনেমা দর্শকদের কাছে চেনাতে শুরু করে।

শাকিব বলেন, ‘প্রথম ছবি মুক্তির পরই অশ্লীলতা ঢালিউডে জেঁকে বসে। চলচ্চিত্র নিয়ে দর্শকের মনেও নেতিবাচক ধারণা জন্ম নেয়। এর মধ্যে কিছু ভালো ছবিও হচ্ছিল। দর্শকেরা সেসব গ্রহণও করে। ব্যাবসায়িক সফলতা পায়। আর অশ্লীলতা বন্ধের পর আমার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরতে শুরু হতে থাকে।’

অসচ্ছল ও ভাঙাচোরা শিল্পের নায়ক

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে একটা সময় সবার গর্ব ছিল। জমজমাট ছিল এই জগৎ। এখন আর আগের মতো রমরমা অবস্থা নেই। একবাক্যে স্বীকারও করলেন নায়ক শাকিব। বললেন, ‘আমি এমন কোনো ইন্ডাস্ট্রির (শিল্প) হিরো নয়, যেটা অনেক সমৃদ্ধ, সচ্ছল। আমি অত্যন্ত অসচ্ছল ও ভাঙাচোরা ইন্ডাস্ট্রির হিরো, দুস্থও বলতে পারেন, যাকে প্রতিনিয়ত তার ন্যায্য দাবির জন্য সংগ্রাম করতে হয়। সুন্দর পরিবেশে, আধুনিক প্রযুক্তির জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছি। প্রতিটা বিষয়ে সবাইকে বলার চেষ্টা করছি, এটা সঠিক রাস্তা, এটা ভুল রাস্তা। সিনেমার উন্নয়নের জন্য হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ দরকার নেই। কয়েক শ কোটি টাকা আর ভালো চিন্তার মানুষজন হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন আর নিজেকে দুস্থ ইন্ডাস্ট্রির হিরো বলতে হবে না।’

এগিয়ে যাওয়াই জীবন

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের যত বড় ডিগ্রিই নিই না কেন, জীবনে চলার পথে মানুষই মানুষকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষা চলে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত।’ বললেন শাকিব।

জীবনে চলার পথে একটা ঘটনাই বদলে দিতে পারে অনেক কিছু। শাকিব বলেন, ‘দেখবেন, বড়সড় দুর্যোগের পর থমথমে অবস্থা বিরাজ করে। এরপর ওই জায়গাটা আবার নতুন করে গড়ে ওঠে। এসব থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে হয়।’

শাকিবের জীবনেও এমন দুর্যোগ এসেছে অনেকবার। তবে কোনো ঘটনাই পরিষ্কার করে বলতে চাননি। তিনি বললেন, ‘কতবার কত কিছু যে হয়েছে! আমি ভেবেছি, এক জনমে একজন মানুষ ২০০ বছর কিংবা ৫০০ বছর বাঁচবে না। অল্প দিনের জীবন, যে যার মতো ভালো থাকার চেষ্টা করে যেতে হবে। দুঃখ–কষ্ট থেমে গেলে মানুষ তো হতাশায় আক্রান্ত হবে। সব ভুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়াই জীবন। আমার জীবনে এটাই বড় শিক্ষা।’

চক্রান্ত শাকিবকে স্পর্শ করে না

চলচ্চিত্রজীবনে বহুবার নানা ধরনের চক্রান্তের শিকার হয়েছেন শাকিব খান। এসবে সাময়িক ক্ষতি হলেও কখনো টলাতে পারেনি তাঁকে। শাকিব বলেন, ‘অনেক সময় মনে হয়, আমি কার কথায় অকারণ মাথা গরম করছি? কী দরকার! সমালোচনা যদি সুন্দর হতো, তাহলে কথা ছিল। আমি তো হাতে গোনা কয়েকজনের জন্য সিনেমা বানাই না। দেশের সব ভালোবাসার মানুষের জন্য ছবি বানাই। প্রবাসে থাকা বাঙালি ভাইবোনদের জন্য ছবি বানাই। আমি তাঁদের জন্য ছবি বানাই, যাঁরা রোদ পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, প্রিয় দলের খেলার ফাঁকে আমার ছবি দেখতে ছুটে যান। কোটি মানুষের ভালোবাসার কাছে হাতে গোনা কয়েকজনকে নিয়ে তখন আর ভাবতে চাই না। মূল্যহীন লোকের মূল্যহীন উদ্দেশ্য—এমনটা মনে করে ক্ষমা করে দিই। ওসব চক্রান্ত আমাকে স্পর্শ করে না।’

ব্যবসায়ী শাকিব খান

দেশের বাইরে কাজ করেছেন। বিদেশের চলচ্চিত্রের খোঁজখবরও রাখেন। বিশ্বের বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্রে পৃষ্ঠপোষকতা করছে। এটা তাঁকে ভাবিয়েছে। বাংলাদেশেরও অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান চলচ্চিত্রে বিনিয়োগ করছে, তবে নিয়মিত নয়। সবাইকে নিয়মিত চলচ্চিত্রে বিনিয়োগের আহ্বান জানান এই নায়ক। নিজের অবস্থান থেকে তিনিও এগিয়ে এসেছেন। শুধু ছবি প্রযোজনা নয়, ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন তিনি। ঢাকার নিকেতনে একটি অফিস খুলে বসেছেন। শুটিংয়ের ফাঁকে সেখানে নিয়মিত সময় দিচ্ছেন। সিনেমা পরিবেশনা এবং প্রেক্ষাগৃহ ডিজিটাইজেশন প্রকল্পের জন্য আরেকটি অফিসের জায়গা খুঁজছেন। শাকিব বললেন, ‘ভারতের রিলায়েন্স, টাটা–বিড়লা, সাহারা গ্রুপ—যত প্রতিষ্ঠান আছে, বেশির ভাগই চলচ্চিত্রশিল্পের সঙ্গে আছেন। আমাদের দেশেও ইদানীং তেমন দেখা যাচ্ছে। আমি মনে করেছি, সিনেমা ব্যবসারও একটা সুন্দর পরিবেশ থাকা দরকার। একটা গোছানো ব্যবসা চাই।’

শাকিবের নায়িকারা

দুই দশকের অভিনয়জীবনে প্রথম সিনেমায় শাকিব খানের অভিষেক হয়েছিল ইরিন জামানের সঙ্গে। পর্দায় অভিষেক ইরিনের সঙ্গে হলেও শাকিব প্রথম সিনেমায় অভিনয় করেন কারিশমা শেখের বিপরীতে। ১৯৯৯ সালে চুক্তি হওয়া এই সিনেমার নাম সবাই তো সুখী হতে চায়। আফতাব খান টুলু পরিচালিত এ ছবিতেই তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অনেক নায়িকা তাঁর বিপরীতে পর্দায় এসেছেন। এখন পর্যন্ত শাকিব খানের বিপরীতে সর্বাধিক ছবির নায়িকা অপু বিশ্বাস। শাবনূরের সঙ্গেও জুটি হয়ে কয়েকটি সিনেমা করেছেন শাকিব খান। মৌসুমীর সঙ্গেও জুটি হয়ে কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর বাইরে শাকিবের নায়িকাদের মধ্যে আছেন পূর্ণিমা, মুনমুন, পপি, কেয়া, রত্না, মিম, বিন্দু, শখ, রোমানা, সিমলা, ববিসহ আরও অনেকে। বর্তমানে বুবলীর সঙ্গে শাকিবের জুটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

কলকাতার নায়িকাদের মধ্যে শাকিব যাঁদের সঙ্গে অভিনয় করেছেন, তাঁরা হলেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, শ্রাবন্তী, পাওলি দাম, শুভশ্রী, পায়েল ও সায়ন্তিকা। তাঁদের মধ্যে অনেককে জড়িয়ে বিভিন্ন সময় ছড়িয়েছে প্রেমের গুঞ্জন। কিন্তু কোনোবারই শাকিব এসব নিয়ে মন খুলে কথা বলেননি।

জমকালো আয়োজনে প্রযোজনায়

পাঁচ বছর আগে হিরো দ্য সুপারস্টার দিয়ে প্রযোজক শাকিব খানের শুরু। গত ঈদুল ফিতরে এই নায়কের প্রযোজিত দ্বিতীয় সিনেমা পাসওয়ার্ড মুক্তি পায়। প্রেক্ষাগৃহে যখন ছবিটি চলছে, তখন নতুন করে আরও চারটি ছবি প্রযোজনার ঘোষণা দেন শাকিব। বললেন, ‘আমি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সিনেমাকে দেখতে চাই। তাই এই ব্যবসার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়েছি। আমার দেখাদেখি যেন আরও অনেকে চলচ্চিত্র প্রযোজনায় আসেন।’

টাকার জন্য ছুটিনি

অসংখ্য সিনেমা, বিজ্ঞাপনচিত্র, স্টেজ শো—কম টাকা তো আয় করেননি শাকিব খান। কিন্তু শাকিব বলেন, ‘আমি যে শুধু টাকার জন্য অভিনয় করেছি, তা নয়। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা শুটিং করেছি ঠিকই। অনেক সময় অনেকবার আমার বন্ধু ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে কথা দিয়েছি, এই সময়ে আমরা সবাই মিলে কোথাও বেড়াতে যাব। ঠিক ওই সময়ই একজন প্রযোজক এসে বললেন, এই ছবি যদি করে দিতেন, ভালো হতো, উপকার হতো। তখন সেটা ভেবে আমি বছরের পর বছর ট্যুর বাতিল করে কাজ করে গেছি। ঈদের সময়ও কাজ করে গেছি।’

১৫ বছর ধরে সুযোগ খুঁজছেন

দুই দশকের অভিনয়জীবনে প্রথম পাঁচ বছর মোটামুটি পরিবার, বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি নিজেকেও সময় দিতে পারতেন শাকিব। এখন তা প্রায় অসম্ভব। টানা ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় কতবার নিজের ঘোরার পরিকল্পনা বাদ দিতে হয়েছে শাকিবকে! বললেন, ‘১৫ বছর ধরে কোথাও নিজের মতো করে ঘুরে বেড়াতে পারি না। প্রকৃতি আমায় খুব টানে। সাতটা দিন যে নিজের মতো করে থাকব, সেই সুযোগটাও নেই। পরিবার আর আত্মীয়স্বজন তো আমার এমন আচরণে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন।’

বিশ বছর পরের স্বপ্ন

‘আজ হয়তো যে স্বপ্নের কথা বলছি, ২০ বছর পর যেন শুনি সব বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন যা চাইছি, হয়তো দেখব তার চেয়েও বড় অবস্থানে আমার দেশের চলচ্চিত্রশিল্প দাঁড়িয়ে গেছে। এটাই আমার ২০ বছর পরের স্বপ্ন।’

এখনো আমার কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট নই

ঢালিউডের ‘নাম্বার ওয়ান’ শাকিব খান। সাক্ষাৎকার, ছবি তোলা আর ভিডিওর জন্য আনন্দ–কে সময় দিয়েছিলেন ১ জুলাই। স্থান হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঢাকা। বেশ কঘণ্টাজুড়ে পাওয়া গেল শাকিবকে, একান্তেই। উঠে এল নায়ক শাকিব, ব্যক্তি শাকিবের নানা কথা, নানা স্বপ্ন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাহফুজ রহমান

ঢালিউডে ২০ বছরের ক্যারিয়ারে নিজেকে ‘নাম্বার ওয়ান’ অবস্থানে নিয়ে এসেছেন। এর পেছনে নিজের কোন গুণটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব রেখেছে?

শাকিব খান: এটা আসলে আমি নিজেও জানি না। এটুকু জানি যে সৃষ্টিকর্তা, মা–বাবা বা বিশেষ কারও দোয়া আছে আমার জন্য। মানুষের ভালোবাসা আছে। আমার এই ক্যারিয়ারে ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা খুব খারাপ গেছে। হতাশায় ভেঙে পড়েছি। আবার উঠেও দাঁড়িয়েছি। এর বাইরে আর কিছুই নেই বোধ হয়।

ক্যারিয়ারের শুরুতে স্বপ্ন নিশ্চয়ই দেখেছিলেন, কিন্তু ভেবেছিলেন কি এতটা পথ পাড়ি দেবেন?

শাকিব খান: হ্যাঁ, স্বপ্ন দেখেছিলাম। কতটা পথ পাড়ি দিলাম বা কতটা উচ্চতায় উঠলাম জানি না। শুরুতে কেবল ভেবেছিলাম, একটা অবস্থানে যেতে হবে। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। অবশেষে দেশে ও দেশের বাইরে মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পেয়েছি, তারকাখ্যাতি তৈরি হয়েছে। ফলে এখন মনে হয় আন্তর্জাতিকভাবেও একটা বড় জায়গায় যাওয়া উচিত। মানুষ যাতে বলতে পারে, শাকিব খান কিছু করে তো গেছে।

আন্তর্জাতিকভাবে কিছু করার জন্য কী করা প্রয়োজন?

শাকিব খান: বলিউড বা টালিউড কিন্তু ১২–১৫ বছর আগেও আজকের অবস্থায় ছিল না। আন্তর্জাতিকভাবে ভালো কাজ করতে হলে সরকারকেই যে বিনিয়োগ করতে হবে, তা নয়। কেবল কাজের মানুষদের সুষ্ঠুভাবে কাজ করতে দিতে হবে। একজন কবিকে সুষ্ঠু পরিবেশ না দিলে কবিতা লিখতে পারবে না। কবিতা, চলচ্চিত্র—এগুলো তো সৃজনশীল কাজ। এগুলো কোনো বাঁধনে বাঁধা যায় না। এসবে কোনো নিয়ম খাটে না। যাঁরা সৃজনশীল কাজ করেন তাঁরা এমন যোদ্ধা, যাঁরা বিনা অস্ত্রে পুরো পৃথিবী জয় করেন। আমাদের অনেক মানুষ দেশের বাইরে আছেন, তাই আন্তর্জাতিকভাবে ভালো কিছু করতে চাইলে খুব বেশি পথ আর পাড়ি দিতে হবে না।

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান যেমন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলো ছড়াচ্ছেন…

শাকিব খান: হ্যাঁ, আমাদের নামের মিল আছে। এমনকি রাশিও এক। তাঁকে নিয়ে আমরা গর্ব করি। খুব ভালো বন্ধুত্ব আছে আমাদের। খুব ভালো মানুষ, খুব গোছানো মানুষ সাকিব। সব সময় চেষ্টা করেন দেশের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য। প্রচণ্ড পরিশ্রমী। এ কারণেই বললাম, যে মানুষেরা বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করছেন, তাদেরকে সরকারের সমর্থন দেওয়া উচিত। দেশের মানুষ তো সমর্থন দেয়ই। যাঁরা বৈশ্বিকভাবে ভালো কিছু করার চিন্তা করেন, তাঁদের দেখে মানুষ আশা খুঁজে পায়।

নিজের কাজ নিয়ে আপনি কতটা সন্তুষ্ট?

শাকিব খান: আমি এখনো আমার কাজ নিয়ে সন্তুষ্ট নই। মনে হয়, তেমন কিছুই করিনি। আমাকে আরও অনেক দূর যেতে হবে। আমাকে এই মানের কাজ করতে হবে, ওই মানের কাজ করতে হবে…আরও ভালো কাজ করতে হবে।

আপনার কাছে ভালো কাজ মানে কী?

শাকিব খান: এখন কিন্তু ক্ল্যাসিক্যাল সিনেমা আর কমার্শিয়াল সিনেমা বলে কিছু নেই। এখন আছে ভালো সিনেমা আর মন্দ সিনেমা। এখন সব সিনেমাই বাণিজ্যিকভাবে সফল হওয়ার জন্যই বানানো হয়। এখন একটা ভালো সিনেমা বাণিজ্যিকভাবেও হিট করে। এই সিনেমাগুলো কোটি কোটি মানুষ দেখে, উপভোগ করে, কিছু শেখে। সমালোচকেরাও ভালো বলেন। তাই দর্শক ও সমালোচক যখন একই সঙ্গে ‘ভালো’ বলে তখন সেটাকেই আমি ভালো কাজ বলে ধরে নিই।

আরও কত দিন অভিনয় করতে চান?

শাকিব খান: আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল অল্প বয়সে। অনন্ত ভালোবাসা সিনেমাটি দেখলে বোঝা যাবে। আমি তখন উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ছাত্র। দেখতে দেখতেই ২০ বছর হয়ে গেল। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আমি আরও কাজ করে যেতে চাই, ভালো কাজ করে যেতে চাই, ছাপ রেখে যেতে চাই। পরবর্তী প্রজন্ম যেন অনুপ্রাণিত হয়।

তরুণদের অনুপ্রেরণা দিতে কী করছেন বা কী করবেন বলে ভেবেছেন?

শাকিব খান: দেখুন, আমরা এখন কোটি কোটি টাকা খরচ করে আধুনিক এবং ভালো কাজ করছি। কিন্তু আমাদের প্রচারব্যবস্থা সেকেলে। তাই আমি চাই সবচেয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে যেন আমাদের সিনেমাগুলো হলে দেখাতে পারি। শিগগিরই এর জন্য কাজ শুরু করব। সময় হলেই সব জানাব।

আপনার ওপর সবচেয়ে বেশি আস্থা কে রেখেছিলেন?

শাকিব খান: আমার মা। তিনিই বাবাকে অনেক বলেকয়ে আমার অভিনয়ের ব্যাপারে রাজি করিয়েছিলেন। ফলে শুরুতেই আমার মনে হয়েছিল, আমি যদি ব্যর্থ হই আমার মা হেরে যাবেন; পরিবারের কারও কাছে মুখ দেখাতে পারবেন না।

কিন্তু এখন আপনাকে ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস নিশ্চয়ই তাঁদের গর্বিত করে?

শাকিব খান: অবশ্যই। তবে আমি ‘ভক্ত’ না বলে বলতে চাই ‘যাঁরা আমাকে ভালোবাসেন’। তো যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ দেখে আমি বিভিন্ন সময় হাউমাউ করে কেঁদেছি। একজন মানুষকে আমি চিনি না, জানি না, কোনো দিন দেখা হবে কি না, তা–ও জানি না কিন্তু তারপরও দেখি আমার জন্মদিনে বিশাল আয়োজন করে বসে আছেন। হয়তো পুরো এলাকায় আমার ছবি পোস্টারিং করছেন। কেউ হয়তো আমার সুস্থতা কামনা করে রোজা রাখছেন। এই যে মানুষের ভালোবাসা, এর চেয়ে বড় পাওয়া একজীবনে আর কী–ই বা হবে! আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।

যাঁরা আপনাকে ভালোবাসেন, তাঁদের উদ্দেশে এমন কী কথা আছে যা বলা হয়নি?

শাকিব খান: তাঁদের একটা কথাই বলতে চাই, আমার জন্য আপনাদের ভালোবাসা যেমন আছে, তেমনি কিছু শত্রুও আছে আমার। তাই চাইলেও অনেক সময় নিরাপত্তার খাতিরে আপনাদের কাছে যেতে পারি না। কিন্তু মনে রাখবেন, আমিও আপনাদের অনেক ভালোবাসি।

সব মিলিয়ে ক্লান্ত লাগে না কখনো?

শাকিব খান: প্রতিবছর পরিকল্পনা করি, এবার গ্রীষ্মে সব বন্ধ থাকবে, যেখানে ইচ্ছা সেখানে ঘুরতে যাব। কিন্তু হঠাৎ করে একটা সিনেমার কাজ চলে আসে। ‘এবার এবার’ করে যুগ পার হয়ে যাচ্ছে। আসলে পুরো জীবন এখানেই কেটে যাচ্ছে। চাইলেও হয় না। এখন তো সকালে শুটিং করে বিকেলে অফিসও করতে হচ্ছে! তবে ওপরওয়ালা তো সবাইকে এমন ব্যস্ততা দেন না। তাই দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে।

খ্যাতি, অর্থ, মানুষের ভালোবাসা তো পেয়েছেন, ‘ভেতরের শাকিব’ কী চায়?

শাকিব খান: আমাকে প্রকৃতি খুব টানে। গ্রাম ভালো লাগে। স্টেক খাওয়ার চেয়ে, মাটির চুলার রান্না পছন্দ করি। আমি চাই, আমার পা মাটি স্পর্শ করবে। আমি বিশ্বাস করি, কৃষি মহান পেশা। তাই শেষ সময়ে কৃষক হতে চাই। বড় জায়গা নিয়ে খামার গড়তে চাই। কৃষক যেমন অর্থের জন্য নয়, ভালোবেসে ফসল উৎপাদন করেন, আমাদের খাওয়ান, তেমনি আমিও যেন করি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: