,


রোহিঙ্গা সঙ্কটঃ সমাধান কোন পথে ?

রোহিঙ্গা সঙ্কটঃ সমাধান কোন পথে ?

ডেস্ক রিপোর্টারঃ রোহিঙ্গা মুসলমানদের আগে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে মিয়ানমারকে। এরপর বাংলাদেশে আশ্রিত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা একসঙ্গেই ঘরে (রাখাইনে) ফিরে যাবে। এ জন্য মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে রোহিঙ্গা নেতারা সংলাপে বসতেও রাজি। সম্প্রতি কক্সবাজারের এক মহাসমাবেশে এসব কথা বলেন রোহিঙ্গা নেতারা। তাঁরা বলেন, কোনো রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইন থেকে রোহিঙ্গা ঢল শুরু হয়। বর্তমানে টেকনাফ ও উখিয়ায় ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১১ লাখ ৫০ হাজার। সর্বশেষ গত ২২ আগস্ট দ্বিতীয় দফার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু শর্ত ছাড়া কোনো রোহিঙ্গা ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় প্রত্যাবাসন স্থগিত করা হয়।

বিদায়ী ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারে সেনা অভিযান শুরুর পর চার মাসে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। এত কম সময়ে এত বেশি শরণার্থী বিশ্বের আর কোথাও প্রবেশ করেনি। ফলে এ সংকট সামাল দিতে গিয়ে সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় হয়। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন পর্যায় থেকে মিয়ানমারের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করলে মিয়ানমার খানিকটা নড়েচড়ে বসে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে চুক্তি সই করে। বাংলাদেশের কূটনীতি মূলত আবর্তিত হয় রোহিঙ্গা সংকট ঘিরে।

রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপারে ভারতের ভূমিকা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কেননা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ও মানবাধিকার কাউন্সিলে ভারত ভোটদানে বিরত ছিল। রোহিঙ্গাদের ওপর নিষ্ঠুর নিপীড়ন চলাকালে নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফর করে অং সান সু চির সঙ্গে বৈঠক করেন। রাখাইনে নিষ্ঠুরতার কোনো নিন্দা তিনি করেননি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলিমরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। তাই বিভিন্ন সময়ে রোহিঙ্গারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রায় তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা আগে থেকেই বাংলাদেশে ছিলেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে মিয়ানমারের একটি সীমান্তচৌকিতে জঙ্গি হামলা হলে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নয়জন সদস্য নিহত হন। তারপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যে অভিযান শুরু করে। ওই সময়ে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর নিষ্ঠুর নিপীড়ন চালানো হয়। ওই সময়ে ৭৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে যেভাবে বর্বর ও নিষ্ঠুর নির্যাতন হয়েছে তাতে রোহিঙ্গাদের সেখানে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্রবৌদ্ধরা এই হামলা চালিয়েছে। শুধু হত্যাযজ্ঞই নয়, হত্যার ক্ষেত্রে নিষ্ঠুরতা চালানো হয়েছে। জাতিগত নিধনের লক্ষ্যে গণহত্যা চালানো হয়েছে বলেও অনেকে মনে করেন। অনেককে পরিবারের সদস্যদের সামনে হত্যা করা হয়েছে। আবার অনেককে ঘরের ভেতরে রেখে তালাবদ্ধ করে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। রোহিঙ্গা গ্রামগুলো একের পর এক পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। নারীদের গণধর্ষণ করা হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান এটাকে বলেছেন, জাতিগত নিধনের পাঠ্যবই দৃষ্টান্ত। এমন পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছায় মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টিও এক চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: