,


রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ ভ্রমন 1

রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ ভ্রমন

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ কে ঘিরে। রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ কোথায় অবস্থিত, রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ এর ইতিহাস, রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ এর কাঠামো, কেন যাবেন রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদে, কিভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এ নিয়ে আমাদের প্রতিবেদন টি সাজানো হয়েছে। আশা করি, আমাদের মূল্যবান প্রতিবেদনটি পড়ে আপনারা উপকৃত হবেন।

রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ কোথায়?

রাজশাহী বিভাগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আন্তরভুক্ত শিবগঞ্জ উপজেলা শাহাবাজপুর ইউনিয়নে সোনামসজিদ তোহাখানা মাজার শরিফ অবস্থিত।

বিভাগ জেলা উপজেলা ইউনিয়ন 
খুলনা মাগুরা মহম্মদপুর

রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ ইতিহাস সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

রাজা সিতারাম রায় উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থ, তিনি চিত্র গুপ্তের পুত্র। বিশ্বভানুর বংশে জাত কাস্যপদাস বংশীয়। উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থের মধ্যে বাৎসসিংহ সৌকালীন ঘোষ, বিশ্বমিত্র, মৌদগল্য দাস ও কাস্যপ দেবদত্ত আদি সুরের সময় বঙ্গে আসেন;এই ৫ ঘরই প্রধান বীজ স্বরূপ বলে খ্যাত। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে রাজা মানসিংহ যখন রাজ মহলে রাজধানী স্থাপন করেন, সম্ভবতঃ তখন শ্রীরাম দাস তাঁর নিকট হতে ‘‘খাস বিশ্বাস’’ উপাধী লাভ করেন। তিনি সুবাদারের খাস সেরেস্তায় হিসাব বিভাগে বিশ্বস্ত কর্মচারী ছিলেন। তৎপুত্র হরিশচন্দ্র অল্পবয়সে পিতার সঙ্গে রাজ সরকারে কার্যারম্ভ করেন এবং রাজধানী স্থানান্তরিত হওয়ার সঙ্গে ঢাকায় যান (১৬০৯ খ্রীষ্টাব্দে)। তিনি সেখানে কর্মদক্ষতা দেখিয়ে ‘‘রায় বাঁয়া’’উপাধি পান। তৎপুত্র উদয় নারায়ণ ভূষণার ফৌজদারের অধীন সাজোয়াল বা তহশিলদার নিযুক্ত হয়ে ভূষণায় আসেন। ইনিই সীতারামের পিতা। মাগুরা জেলা শহর হতে ১০ মাইল পূর্বে মধুমতি নদীর তটে মাগুরা জেলায় অবস্থিত মহম্মদপুর উপজেলা। এই মহম্মদপুর উপজেলা শহর এলাকায় ছিল রাজা সীতারামের রাজধানী ও বাসস্থান। এটা বৃহত্তর যশোরের একটি গৌরবের স্থান। অবশ্য ফরিদপুর জেলার অন্তর্গত বোয়ালমারি উপজেলা শহর থেকেও এই স্থানে যাওয়া যায়। বোয়ালমারী বাজার হতে এই স্থান ৬/৭ মাইল পশ্চিমে। সাহিত্য সম্রাট বঙ্গিম চন্দ্রের ‘‘সিতারাম’’ নামক উপন্যাসের সহিত শিক্ষিত বাঙ্গালি মাত্রেই পরিচিত। এই মহম্মদপুরে রাজা সিতারাম রায়ের রাজধানী ছিল। সীতারামের আদিনিবাস ছিল বীরভূম জেলায় জাতিতে তিনি উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থ ছিলেন। তাঁর পিতা উদয় নারায়ণ প্রথমে রাজমহলে নবাব সরকারে কার্য্য করিতেন, পরে ভূষণা পরগণায় তহশিলদার পদে নিযুক্ত হইয়া আসেন। তাঁহার পত্নীর নাম দয়াময়ী।১৬৫৮ খ্রীষ্টাব্দে সীতারামের জন্ম হয়। উদয়ন নারায়ন ক্রমে একটি ক্ষুদ্র তালুক ক্রয় করেন এবং মধুমতি নদীর অপর পারে হরিহর নগরে বাস করিতে থাকেন।সীতারামের মাতা দয়াময়ী তেজস্বিনী নারী ছিলেন। কথিত আছে অল্প বয়সে একটি খড়েগর সাহায্যে এক দল ডাকাতকে তিনি পরাস্থ করিয়াছিলেন। মহম্মদপুরে আজও ‘‘দয়াময়ী’’ তলা নামে একটি স্থান দৃষ্ট হয়; এই স্থানে সীতারামের সময়ে বারোয়ারী উৎসব হইতো। সীতারামের অভুত্থান সর্ম্পকে নানারূপ কাহিনী প্রচলিত আছে। কেহ কেহ বলেন যে সপ্তদশ শতকের শেষভাগে বাংলার তদানিন্তন ভৌমিক রাজগণ যথাসময়ে রাজকর না দেওয়ায় দিল্লীর বাদশাহ সীতারামকে তাঁহাদের নিকট হইতে বাকী রাজকর আদায়ের জন্য সৈন্য সামন্তসহ প্রেরণ করেন। সীতারাম আসিয়া তাঁহাদিগকে যুদ্ধে পরাস্ত ও রাজ্যচ্যুত করিয়া স্বয়ং তাহাদের রাজ্য অধিকার করেন এবং পরে বাদশাহের সহিত বিবাদের ফলে তাহার পতন ঘটে। মতান্তরে সীতারাম ভূষণা পরগণার অন্তর্গত মধুমতির পূবর্বপারস্থিত হরিহর নগর নামক একটি তালুকের অধিপতি ছিলেন।

রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদের কাঠামো কেমন?

 

রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদে কেন যাবেন?

ভ্রমন পিপাসু মানুষ দের কে যদি এই কথা জিজ্ঞাসা করা হয়, তবে তারা এই কথা অহেতু হাসির ছলে উড়িয়ে দিবে । কারন, ভ্রমন পিপাসু মানুষদের কাছে এই কথা মূল্যহীন । তবুও বলি,

  • রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদে একটি দর্শনীয় স্থান ।
  • রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদের শরিফ অত্যন্ত মনোরম, যা আপনার মনকে প্রফুল্ল করে তুলবে ।
  • রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদের একটি কমপ্লেক্স রয়েছে ।
  • ভবনের দক্ষিণ পাশে রয়েছে গোসলখানা । ইত্যাদি ।

রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদে ভ্রমন করলে আপনি হতাশ হবেন না । এটি আমরা হরফ করে আপনাদের জানান দিয়ে দিতে পারি ।

কিভাবে রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদে কিভাবে যাবেন ?

যে কোন স্থান হতে বাস যোগে, ট্রেন যোগে ও বিমানের মাধ্যমে খুলনা যেতে পারেন। তারপর মাগুরা হতে রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদে যাওয়ার উপায় নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

মাগুরা বাস টার্মিনাল থেকে রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ

মাগুরা সদর হতে ২৮ কি.মি. দূরে মহম্মদপুর উপজেলায় রাজাবাড়ী নামক স্থানে রাজা সীতারাম রায়ের বাড়িটি অবস্থিত। মহম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড হতে আধা কিলোমিটার উত্তরে পাকা রাস্তার পার্শ্বে রাজবাড়ির অবস্থান। রিক্সা, ভ্যান অথবা পায়ে হেটে যাতায়াত করা যায়।

 

রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদে থাকবেন কোথায়?

দেশের নানা প্রান্ত থেকে রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ ভ্রমনে ভ্রমনযাত্রী আসতে পারে, যাদের একদিনের মধ্যে ভ্রমন করে আবার বাড়ি ফিরে যাওয়া সম্ভবপর হয়ে ওঠেনা । তাই আপনার ভ্রমনে চিন্তা কোনো প্রকার না আসে সে জন্য ক্ষুদ্র প্রয়াসে মাগুরা সদর ইউনিয়ন আশে পাশের কিছু হোটের নাম তুলে ধরছি । যেখানে, আপনি সেফলি থাকতে পারবেন । ম্যাপে মাগুরা সদর আশে পাশের কিছু হোটের নাম ও তাদের খরচ সম্পর্কে দেওয়া হলো,

  • চলন্তিকা
  • ছায়াবিথি

মন্তব্য

রাজা সীতারাম রাজপ্রাসাদ নিয়ে আমাদের প্রতিবেদনটি আশা করি আপনাদের ভালও লেগেছে । আমাদের প্রতিবেদনটি আপনাদের কেমন লাগলো তা আমাদের কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না । পরিশেষে, ধন্যবাদ আমাদের প্রতিবেদনটি পড়ার জন্য ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: