,


রাজারহাটে সাজিনা বেগম খুন, পরিবারটির এখন করুন পরিনতি

রাজারহাটে সাজিনা বেগম খুন, পরিবারটির এখন করুন পরিনতি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার খুলিয়াতারী এলাকায় গত মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চাচাতো ভাই ও ভাতিজাদের দায়ের কোপে সাজিনা বেগম (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এতে মারাত্মক আহত হয়েছেন ওই নারীর বাবা ফরহাদ হোসেন (৬০)। তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এক বছর পুর্বে পরিকল্পিত খুন হন তাজুল ইসলাম, ২০ বৎসর পুর্বে নিখোজ হন আরো এক ভাই সাজু মিয়া, রংপুর হাসপাতালে মাথাসহ পুরো শরীরে দায়ের অসংখ্য কোপ আর মারের আঘাতে চিকিৎসারত মৃতপ্রায় বাবা ফরহাদ হোসেন। যে পরিবারটির বাস্তবতা এখন মৃত্যুর মিছিল সে পরিবারে জীবিত বাকি দুই ভাইয়ের নিরাপত্তা কি দিতে পারবে রাজারহাট থানার বর্তমান পুলিশ প্রশাসন? যেখানে পরিবারের হয়ে ভাই জুয়েল রানা তাদের নিরাপত্তার জন্য হত্যাকান্ডের ঘটনার ঐ দিন সকালবেলাই রাজারহাট থানায় বিবাদীদের নাম উল্লেখপুর্বক এজাহার দেয়ার পরও বাচতে পারেনি জুয়েল রানার বড় বোন সাজিনা বেগম।

জানা যায়, গত ২০/০৮/২০১৯ইং সকালে ফরহাদ হোসেনের পুত্র জুয়েল রানা (২২) বাদী হয়ে রাজারহাট থানায় চাচাত ভাই দের নামে জমিতে হালচাষে বাধাদানের হুমকিতে লিখিত অভিযোগ করেন, ঐ দিন দুপুরে ওই এলাকার ফরহাদ তার জমিতে ধান রোপনের জন্য গেলে তার বড় ভাই ফারছেদ আলীর ছেলে ছয়ফুল তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এসময় ফরহাদের মেয়ে সাজিনা বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাদের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে এসে বাবা-মেয়েকে উদ্ধার করে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে কাউনিয়ায় সাজিনার মৃত্যু হয়।

কিন্তু বাদী ও এলাকাবসীরা এ বিষয়ে রাজারহাট থানা পুলিশ প্রশাসনের ভুমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন গত ২৯/০৬/২০১৯ইং বিবাদী ছায়ফুল, জিয়াউর গং মৃতের মা ফরহাদের স্ত্রী রাজিয়া বেগমকে মাথায় কুপিয়ে জখম করলেও তখন রাজারহাট অফিসার ইনচার্জ কৃষ্ণ কুমার সরকার অভিযোগ আমলে নেননি এবং ঘটনার দিন ডিউটি অফিসার এএসআই রুহুল সকালে বাদী পক্ষের অভিযোগ গুরুত্ব না দেয়ার অভিযোগ এনে জুয়েল রানাকে বিকেলে থানায় ডেকে ২ ঘন্টা ঘরে আটকে রাখার অভিযোগ করেন বাদীর এক আত্মীয়।

রাজারহাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদ সোহরাওয়ার্দী বাপ্পি উপজেলা পরিষদ কক্ষে মিটিং চলাকালিন সময়ে বাদী জুয়েল রানার ঐ আত্মীয় আটকের বিষয়টি জানালে তিনি তৎক্ষনাৎ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সহ কয়েকজনকে থানায় পাাঠিয়ে বাদী জুয়েল রানাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পাঠান।

শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের কাছে জানা যায়, মৃতের লাশ ফেরত আসা নিয়ে বিলম্ব হওয়ায় ও এজাহার প্রস্তুত করে তাতে স্বাক্ষর করিয়ে নিতে চাপ প্রয়োগ করেন। ঐ সময় জানা যায় সাজিনা বেগমের মৃতদেহ কাউনিয়া থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছেন।

রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ কৃষ্ণ কুমার সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, মৃতদেহ রাজারহাট না এসে কাউনিয়া থানা রংপুর যাওয়া বিষয়ে, ঐ সময় অফিসার ইনচার্জ লাশের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ঘটনার প্রায় ৮ ঘন্টা পর রাত ১১ টার দিকে রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃষ্ণ কুমার সরকার জানান, ২০/০৮/১৯ইং বাদী জুয়েল রানা ৭ জনকে আসামী করে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ বিষয়ে এজাহার করেন। জমিতে হাল চাষ করতে গেলে বিবাদী পক্ষ ধারালো অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাদী পক্ষের উপর হামলা চালালে বাদীর বোন সাজিদা বেগম ও বাবা ফরহাদ হোসেন মারাত্মক জখম হলে রাজারহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানোর পর অবস্থা অবনতি ঘটলে রংপুর রেফার্ড করেন। পথিমধ্যে আহত সাজিদা বেগমের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে সোহেল (১৮) ও সুলতানা বেগম (৩৬) নামে দু’জনকে আটক করি। বাদী বিকেলে থানায় এসে হত্যার অভিযোগ দিয়েছেন, সে প্রেক্ষিত পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এলাকাবাসী, সচেতনমহল ও বাদীপক্ষ হত্যাকান্ডসহ অতীতের নিখোজ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করেছেন। পাশাপাশি রাজারহাট থানা পুলিশ ও প্রশাসনের কোন গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে উর্দ্ধতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: