,


রাজশাহীতে স্কুল বিল্ডিং ভাড়া করে চলছে রমরমা কোচিং ব্যবসা
রাজশাহীতে স্কুল বিল্ডিং ভাড়া করে চলছে রমরমা কোচিং ব্যবসা

রাজশাহীতে স্কুল বিল্ডিং ভাড়া করে চলছে রমরমা কোচিং ব্যবসা

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী নগরীর কোর্ট একাডেমী স্কুলের ক্লাসরুম ভাড়া করে চলছে “মেরিট প্রাইভেট হোম” নামে একটি কোচিং সেন্টার।

 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাজশাহী কলেজের মাষ্টার্সে অধ্যয়নরত মোস্তাফিজুর রহমান স্বাধীন ও নওশাদ নবীন রিফাত নামে দুই পরিচালকের তত্বাবধানে আরও ৬ জন শিক্ষককে নিয়ে প্রতিদিন বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র প্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বেতনের শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে চলছে “মেরিট প্রাইভেট হোম”। 
 
এ দিকে নগরীর মহিষ বাথান এলাকার এস.এম আব্দুর রহিম নামে এক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকদের কাছে লিখিত অভিযোগে বলছেন, প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বাবু ও পিয়ন এবাইদুল ইসলাম মেরিট প্রাইভেট হোমকে মাসিক ভাড়া চুক্তিতে স্কুল ঘর গুলো ব্যবহারের ব্যবস্থা করে দীর্ঘ দিন যাবৎ নিজেদের পকেট ভরছেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, পিয়ন এবাইদুল স্কুল বাউন্ডারির মধ্যে বসবাসের জন্য নিজ খরচে পাকা বাড়ী বানিয়ে ২২ বছর যাবৎ বসবাস করছে আর স্কুলের বিদ্যুৎ লাইন থেকই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যাচ্ছেন নির্দ্বিধায়। 
 
মেরিট প্রাইভেট হোমের পরিচালক স্বাধীন ও রিফাত বললেন, এটা কোনো কোচিং সেন্টার নয়, গরীব ছাত্রদের জন্য কম পয়সায় পড়ানোর প্রাইভেট টিউটর হোম। স্কুল কর্তৃপক্ষ আর এলাকাবাসী বিনা ভাড়ায় আমাদেরকে এখানে পড়ানোর অনুমতি দিয়েছেন”।
 
শহরের বিভিন্ন স্কুল থেকে আসা প্রাইভেট হোমের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণীর আরাফাত শেখ, সপ্তম শ্রেণীর রিয়া খাতুন, অষ্টম শ্রেণীর রুপোস মওলা, নবম শ্রেণীর খাদিজা আক্তার নুপুর ও দশম শ্রেণীর তানিশা খাতুন ফাল্গুনি জানায় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা বেতনে প্রতিদিন বিকাল ৪ টা থেকে রাত্রি ৮ টা পর্যন্ত ৮ জন শিক্ষক সবগুলো বিষয়ে এখানে তাদের পড়ান। 
 
কোর্ট একাডেমী স্কুলের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, তারা পড়ানোর জন্য জায়গা খুঁজে পাচ্ছিলো না আর এলাকার অভিভাবকদের অনুরোধে তাদেরকে বিনা ভাড়ায় পড়ানোর সুযোগ দিয়েছি তবে আমি তাদেরকে আজকেই ছেড়ে দিতে বলবো। পিয়ন এবাইদুলের বিষয়ে বলেন, আমি দায়িত্ব গ্রহনের অনেক আগে থেকেই সে নিজ খরচে বাড়ি বানিয়ে এখানে বসবাস করে আর আমি বর্তমানে তার থেকে বিদ্যুৎ বিল বাবদ মাসিক ৫০০ টাকা করে আদায় করি।
 
পিয়ন এবাদুল বলেন, আমি ১৫ বছর যাবৎ নিজ খরচে বাড়ী বানিয়ে পরিবার সহ এখানেই বসবাস করি, বিদ্যুৎ বিল বাবদ আমার বেতন থেকে ৫০০ টাকা কেটে নেয়া হয়। কোচিং সেন্টার বিষয়ে তিনি বলেন, হেডস্যার আমাকে বলেছে ওরা আসলে তালা খুলে দেবে আর চলে গেলে আবার তালা লাগিয়ে দেবে, এর বাইরে আমার আর কিছু জানা নাই।
 
স্কুল গভর্নিং কমিটির সভাপতি ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামারুজ্জামান কামরু অসুস্থ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসারত থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 
 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: