,


রাঙ্গামাটি, চর বড়লই ও চর বড়ভিটা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে; স্লিপ, প্রাক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পে অনিয়ম

রাঙ্গামাটি, চর বড়লই ও চর বড়ভিটা সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে; স্লিপ, প্রাক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পে অনিয়ম

সাইফুর রহমানম শামীম, কুড়িগ্রাম: ফুলবাড়ী উপজেলার রাঙ্গামাটি, চর বড়লই ও চর বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে চলতি বছরের বরাদ্দকৃত স্লিপ, প্রাক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার রাঙ্গামাটি, চর বড়লই ও চর বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত উপস্থিতি ও অবহেলার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে ক্রমাগতভাবে ঝরে পড়ছে। স্লিপ, প্রাক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের নামমাত্র কাজ ও আসবাবপত্র, অনন্য সামগ্রী ক্রয় করে মনগড়াভাবে ভাউচার তৈরি করে শিক্ষা অফিসে জমা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রিয়াজুল ইসলামের সাথে যোগসাজশ করে ফায়দা লুটিয়ে নিচ্ছেন। এই ৩টি বিদ্যালয়ের বায়োমেট্রিক মেশিন কেনার জন্য টাকা উত্তোলন করে আগাম ভাউচার দেয়া হয়েছে। তবে এখন মেশিন ক্রয় স্থগিত থাকায় এই টাকা রয়েছে শিক্ষা অফিসের আওতায়। ফলে শিক্ষার গুণগত মান ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাঙ্গামাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাবলুর রশিদ প্রধান শিক্ষক পদে গত ০৭ আগস্ট ২০১৪ তারিখে যোগদান করে কোনমতে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক ৪ জন এবং শিক্ষার্থী ২২৪ জন। চলতি বছরের বরাদ্দকৃত স্লিপ ৭০ হাজার, প্রাক ১০ হাজার ও ক্ষুদ্র মেরামত ২ লাখ টাকার প্রকল্পে- দুই কক্ষের একটি বিল্ডিং ঘর মেরামত ও খেলাধুলা, অনন্য সামগ্রী ক্রয় করে নামমাত্র কাজ করে মনগড়াভাবে কাগজে কলমে কাজ শতভাগ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে দুপুর ১২টায় গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। সহকারী শিক্ষক খুরশিদ জাহান ও সিরাজুল ইসলামের সাথে কথা হয়। প্রধান শিক্ষকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসে ব্যস্ত আছি।

চর বড়লই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কল্পনা রানী রায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং এডহক কমিটির আহ্বায়ক ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রিয়াজুল ইসলাম। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক ৪ জন এবং শিক্ষার্থী ১৫১ জন। চলতি বছরের বরাদ্দকৃত স্লিপ ৫০ হাজার, প্রাক ১০ হাজার ও ক্ষুদ্র মেরামত ২ লাখ টাকার প্রকল্পে- বিদ্যালয়ের ৪ কক্ষের ছাদ ঢালাই বিল্ডিং ঘর মেরামত ও রং করণ নামমাত্র কাজ করে মনগড়াভাবে কাগজে কলমে কাজ শতভাগ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে দুপুর দেড়টায় গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। সহকারী শিক্ষক শিপুল হক, একরামুল হক ও সিরাজুল হকের সাথে কথা হয়। প্রধান শিক্ষকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসে।

চর বড়ভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গোপাল চন্দ্র রায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদে গত ২০১৭ তারিখে যোগদান করে কোনমতে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক ৪ জন এবং শিক্ষার্থী ১৩৫ জন। চলতি বছরের বরাদ্দকৃত স্লিপ ৫০ হাজার, প্রাক ১০ হাজার ও ক্ষুদ্র মেরামত ২ লাখ টাকার প্রকল্পে একটি বিল্ডিং ঘর দুই কক্ষের মেরামত ও রং করণ নামমাত্র কাজ করে মনগড়াভাবে কাগজে কলমে কাজ শতভাগ দেখিয়ে অর্থ আত্মসাত করেছেন। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। সহকারী শিক্ষক আইয়ুব আলী, শাহাদাত হোসেন ব্যাপারী ও মমতা খাতুনের সাথে কথা হয়। প্রধান শিক্ষকের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন আমি উপজেলা শিক্ষা অফিসে আছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রিয়াজুল ইসলাম পাশ্ববর্তী নাগেশ্বরী উপজেলার বাসিন্দা হওয়ার দাপটে ও একটি সেন্টিগেডের মাধ্যমে স্লিপ, প্রাক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পে শতকরা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ অর্থ নিয়ে ফায়দা লুটিয়ে নিচ্ছেন। ফুলবাড়ী এলজিইডি অফিসে ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের প্রত্যায়ন নিতে এসও কে মোটা অঙ্কের অর্থ দিতে হয়। যেন দেখার কেউ নেই- মগের মুল্লুক। আর এ সুবাদে প্রধান শিক্ষকরা প্রকল্পের নামমাত্র কাজ ও আসবাবপত্র, অনন্য সামগ্রী ক্রয় করে মনগড়াভাবে ভাউচার তৈরি করে শিক্ষা অফিসে জমা দিয়ে বিল তোলার অনুমতি নিয়ে ফায়দা লুটিয়ে নিচ্ছেন।

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ভারপ্রাপ্ত রিয়াজুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে সংবাদাদাতা পরিচয় দিয়ে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, স্লিপ, প্রাক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে অনিয়ম পরিলিক্ষত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রংপুর প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল ওয়াহাব বলেন, বিদ্যালয়ের স্লিপ, প্রাক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পে কোন অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: