যেসব ভুলে ডায়েটেও ওজন কমে না

ডেস্ক রিপোর্টারঃ ওজন কমানোর জন্য স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের কায়দা-কসরতের কোনো শেষ নেই। ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে আপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়া, শুধু পানি আর ফলের রস পান করে ১৬ ঘণ্টা কাটানো থেকে শুরু করে তিন দিনে পাঁচ কেজি ওজন কমানোর মতো নানাবিধ টোটকার শরণাপন্ন হয়ে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন তারা। ভোজনরসিক বাঙালি হয়ে এই ত্যাগ স্বীকারের পরও ডায়েটের কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে অনেকের কপালেই চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়।

বিবিসি অনলাইন সম্প্রতি একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেছে, যাতে জানা গেছে কেন ডায়েট করেও অনেকের ওজন কমে না। ডায়েটের এই ভুলগুলো এড়িয়ে চললেই কার্যকরী ডায়েট পরিকল্পনায় কাঙ্ক্ষিত ওজনের অধিকারী হওয়া সম্ভব।

অন্য কারও ডায়েট মেনে চলছেন আপনি

পুষ্টিবিদ সোফি মেডলিন বলেন, ইনস্টাগ্রাম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারও পরামর্শ দেখে ডায়েট শুরু করে দেন অনেকে। ‘এই খাবার খেয়ে ওর যদি কাজ হয়, আমার কেন হবে না’- এই তত্ত্ব মেনে অন্য একজনের ডায়েট পরিকল্পনা অনুসরণ করা একেবারেই ভুল একটি সিদ্ধান্ত। প্রতিটি মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্য আলাদা, জীবনধারা আলাদা, শারীরিক গঠন আলাদা। একজনের জন্য যে রীতি কার্যকর হবে, আপনার জন্যও তা ফলপ্রসূ হবে- এটি ভুল ধারণা।

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, একই খাবার খেয়ে অভিন্ন যমজদের শারীরিক বৃদ্ধিও আলাদা হতে পারে। একই খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করে যমজদের ওজন কমার ক্ষেত্রেও ভিন্নতা থাকতে পারে। এ কারণেই পুষ্টিবিদেরা উচ্চতা, ওজনসহ নানা শারীরিক উপসর্গের কথা মাথায় রেখে প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ডায়েট পদ্ধতির পরামর্শ দেন।

আপনার জীবনযাপন রীতি এবং আপনি কী খেতে পছন্দ করেন- এ দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডায়েট পরিকল্পনা করা হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে ওজন ঠিক রাখতে সহায়তা করে বলে গবেষণাটিতে জানা গেছে। সোফি বলেন, ‘ডায়েট করছেন বলে জন্মদিনের কেক বা ভারী কোনো খাবার খাওয়াই যাবে না, এমনটা কিন্তু ঠিক নয়। মাঝেমধ্যে একটু-আধটু পছন্দের খাবার না খেলে ডায়েট আপনার জন্য বিভীষিকা হয়ে দাঁড়াবে। কাজেই নিজের পছন্দের কথা জানিয়ে, পুষ্টিবিদের পরামর্শে ডায়েটের পরিকল্পনা করুন।’

যথেষ্ট ঘুম হচ্ছে না

শুধুমাত্র কম ঘুমানোর ক্লান্তি দূর করতেই ঠিকমতো ঘুমান কারও চেয়ে প্রায় ৪০০ ক্যালরি বেশি গ্রহণ করা খুব সাধারণ একটি ঘটনা। সোফি জানান, তন্দ্রাচ্ছন্নতা থেকে শরীরে ক্ষুধার্ত হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যায়। যার ফলে শরীর চালু রাখতে ক্ষুধার্ত হরমোনের তাড়নায় আমরা শর্করা জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করে ফেলি। এ কারণে ভোর পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে ব্যায়াম করেও বিকেলের মধ্যে ভরপেট খাবার চাহিদা তৈরি হয়।

চিকিৎসক আয়শা মুহাম্মদ বলেন, মাঝে মাঝে ঘুম আসতেও অনেক দেরি হয়। ঘুম কম হওয়ার কারণের সারা দিন মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। সেই বিগড়ে যাওয়া মেজাজ বশে আনতে ডায়েটকে এক হাত দেখিয়ে অনেকেই নিজেকে সঁপে দেন উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাবারের হাতে। আর এ থেকেই বারোটা বাজে আপনার সাধের ডায়েট পরিকল্পনার। কাজেই দৈনিক ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা করা একদমই চলবে না।

আপনি মানসিকভাবে ক্লান্ত

গবেষকেরা প্রমাণ করেছেন, মানসিক অশান্তির সঙ্গে ওজনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তবে ডায়েটকারীদের মধ্যে দশজনে কেবল একজন ওজন কমানোর ক্ষেত্রে মনস্তত্ত্বকে যথাযথ গুরুত্ব দেন। ডাক্তার আয়শা বলেন, আমাদের শরীর সিংহের তাড়া খেয়ে দৌড়ানো আর দিনভর কাজের তাগিদে দৌড়ানোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। সিংহের হাত থেকে বাঁচতে হলে লুকিয়ে থাকত হবে, তার কারণে দিনের পর দিন না খেয়েও থাকতে হতে পারে- এই চিন্তা থেকে আমাদের শরীর বেশি করে খেয়ে মেদ জমিয়ে রাখতে শুরু করে। এ ধরনের মানসিক অস্থিরতার কারণে বিশেষ করে পেটের দিকে চর্বি জমে।

সোফি বলেন, দুশ্চিন্তায় থাকলে সহজপাচ্য খাবার হিসেবে চিনি এবং শর্করার প্রতি টান বেড়ে যায়। ৫ মিনিট হাঁটা বা শরীরচর্চার চেয়ে চকলেটের একটি বারকে মনে হয় দুনিয়ায় স্বর্গসুখ। শরীরকে গুহার সঙ্গে তুলনা করা হলে এ জাতীয় খাবার সেই গুহায় পুরু আস্তরণ ফেলে। বেঁচে থাকার জন্য স্নেহ বা শর্করার প্রয়োজন অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে আধুনিক সময়ে আমরা যে ধরনের কাজ করি, তাতে বেঁচে থাকার জন্য শরীরে এ জাতীয় খাবার জমিয়ে রাখার দরকার নেই।

কাজেই ওজন কমানোর জন্য দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করে শরীরকে বোঝাতে হবে- বাড়তি খাবার জমিয়ে রাখতে হবে না, তোমার দেখভালের জন্য আমি আছি।

কতটা খাচ্ছেন না তা বুঝতেই পারছেন না

গত ২০ বছর ধরে যুক্তরাজ্যের জনগণের গড় ওজন বেড়েছে। এর প্রধান কারণ, আমরা কাজের চাপে খাওয়ার কথা ভুলে যাই। আর যতক্ষণে খাওয়ার কথা মনে পড়ে, তখন মনে হয় আস্ত একটা হাতিও পেটে ঢুকে যাবে! সে তুলনায় খেতে বসে যখন দুই প্লেট ভাত সাবাড় করে উঠে আসেন, তখন নিজেকে বাহবা দিতে ইচ্ছে করতেই পারে। কিন্তু এই দুই প্লেট ভাতও যে আপনার জন্য অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে, সেটি বুঝতে পারছেন কী?

রেস্টুরেন্টে খেতে বসে পাশের জনের খাবারে পনিরের এক্সট্রা টপিং দেখে আপনার মনে হতে পারে, একদিন পনির খেলে কী-ই বা হবে? কিন্তু এই একদিন যে কেবল একদিন নয়, আর আপনার মস্তিষ্কও নেশাগ্রস্তের মতো আপনাকে ওই এক্সট্রা ক্যালরির দিকে ধাবিত করবে, তা বলাই বাহুল্য। কাজেই নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দিন, তবে পরিমাণ বুঝে।

ডায়েট করতে চাইলে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপন রীতিতেও মেনে চলতে হবে নিয়ম। নিজের যত্ন নিন। জিরো ফিগারের অধিকারী হওয়ার চেয়ে সুস্থ শরীরের অধিকারী হওয়া অনেক বেশি জরুরি।

This post was last modified on 12/07/2019 9:40 pm

ডেস্ক রিপোর্টার

একটি বাংলাদেশ - Ekti Bangladesh (ektibd.com) is a leading Online Newspaper & News Portal of Bangladesh. It covers Breaking News, Politics, National, International, Live Sports etc.

Leave a Comment

Recent Posts

জিঞ্জিরা প্রাসাদ – দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি জিঞ্জিরা প্রাসাদ কে ঘিরে। জিঞ্জিরা প্রাসাদ কোথায় অবস্থিত, ইতিহাস, কাঠামো, কেন যাবেন,… Read More

21/09/2020

মুসা খান মসজিদ – ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি মুসা খান মসজিদ কে ঘিরে। মুসা খান মসজিদ কোথায় অবস্থিত, ইতিহাস, কাঠামো,… Read More

20/09/2020

রিয়েলমি সিক্স আই ফোনের দাম ও স্পেসিফিকেশন

টেক-ট্রেন্ডসেটার ব্র্যান্ড রিয়েলমি 'আনলিশ দ্য পাওয়ার' ট্যাগলাইনে সিক্স সিরিজের নতুন স্মার্টফোন 'রিয়েলমি সিক্স আই' বাংলাদেশের… Read More

20/09/2020

গ্রীন ভিউ রিসোর্ট – দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি গ্রীন ভিউ রিসোর্ট কে ঘিরে। গ্রীন ভিউ রিসোর্ট কোথায় অবস্থিত, ইতিহাস, কাঠামো,… Read More

19/09/2020

রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি – ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি কে ঘিরে। রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি কোথায় অবস্থিত, ইতিহাস, কাঠামো,… Read More

18/09/2020

ভাষা শহীদ আবুল বরকত স্মৃতি জাদুঘর – দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি ভাষা শহীদ আবুল বরকত স্মৃতি জাদুঘর ও সংগ্রহশালা কে ঘিরে। শহীদ আবুল… Read More

18/09/2020

This website uses cookies.