,


মাদক নির্মূলে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন

মাদক নির্মূলে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন

মাদকাসক্তি একটি নীরব ঘাতক ব্যাধি । মাদক গ্রহণের ফলে একজন ব্যক্তির স্বাস্থ্য হানি ঘটে জীবনী শক্তি কমতে থাকে শরীরের ইন্দ্রিয় গুলি নিস্তেজ হয়ে যায় কর্মদক্ষতা ,কর্মক্ষমতা লোপ পায় হতাশা এবং অবশাদ তাকে ঘিরে ধরে তাকে ঠেলে দেয় অন্ধকার জগতে সে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং ধংসের দিকে এগিয়ে চলে।

মাদকাসক্তি একজন ব্যক্তির দৈহিক পরিবর্তন ,মানসিক পরিবর্তন ,আচরণগত পরিবর্তন ,বোধশক্তির পরিবর্তন ঘটায় ।একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি নেশা গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষণকালের জন্য ভীণ্ণ এক লৌকিকতায় ভীণ্ণ এক প্রশান্তির জগতে প্রবেশ করে । হতাশা, ব্যর্থতা , দুঃখ, শোক হতে ক্ষণকালের জন্য মুক্তি কিংবা প্রশান্তি পেতে মাদক গ্রহণ করে ।

শুধুমাত্র ক্ষণকালের প্রশান্তির আশায় বন্ধু বান্ধবের কু প্ররোচনায় পরে অনেকেই নেশা গ্রহণে আগ্রহী হয়ে পড়ে ।ধীরে ধীরে এর উপর নির্ভরশীল হয়ে পরে মানুষ । মাদকাসক্তি একটি জাতীয় সমস্যা মাদক বিস্তার অপব্যাবহার যেটা গোটা যুবসমাজের উপর আঘাত হানছে তার ভয়াবহতা নিয়ে ।

মাদকের ভয়াবহ নীল দংশন আমাদের যুব সমাজ কে মহামারীর মত গ্রাস করছে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে নতুন প্রজন্ম ।

জীবনকে বিভীষিকাময় করে তুলছে জীবনের সমস্ত চেতনাকে ধ্বংস করছে, জীবনের সমস্থ আশা আকাঙ্ক্ষা কে নষ্ট করে দিচ্ছে মাদক । মাদক ব্যাবহারের ফলে বারছে সামাজিক অস্থিরতা ।

মাদক কে সকল অপরাধের জননী বলা হয় কারণ অপরাধ জগতে প্রবেশের প্রথম ধাপ হল মাদক গ্রহণ। মাদকের টাকা যোগাড় করতে যুবসমাজ চুরি ,ছিনতাই ,ডাকাতি, অপহরণ সহ বহুবিধ অপরাধে জরিয়ে পড়ছে মাদকের ভয়াবহ থাবায় ভেঙে পড়ছে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ ।একজন মাদকাসক্ত ব্যাক্তি নেশার টাকা যোগাড় করতে না পেরে তার নিজের জম্মদাতা বাবা মা কে হত্যা করছে ।

অন্যদিকে মাদকাসক্ত সন্তানের অত্যাচার ,নির্যাতন সয্য না করতে পেরে পিতামাতা তার নিজ সন্তানকে পুলিশ এ দিতে বাধ্য হচ্ছে কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে তারা নিজ সন্তান কে মেরে ফেলতে চাইছে । এই বিষয় গুলো থেকে সহজেই অনুমিয় যে মাদকের ভয়াবহতা কত ? মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনের কারনে বিশেষ করে কিশোর ও তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে ।

মাদকের কারণে আমাদের দেশের যুব সমাজের জীবনী শক্তি ধংষ হচ্ছে তারা মেধা শুন্য হচ্ছে সাথে সাথে তাদের মনুষত্ব লোপ পাচ্ছে। মাদকের কারনে বিবাহ বিচ্ছেদ ও দাম্পত্য কলহ বাড়ছে ।

একজন মাদকাসক্ত ব্যাক্তি মাদক কেনার জন্য নিজ ঘড়ের আসবাপত্র বিক্রি করছে ভেঙে ফেলছে । এছারাও মাদক গ্রহণের ফলে একজন ব্যক্তি লিভার প্রদাহ ,লিভার সিরসিস ,হেপাটাইটিস ,যৌন অক্ষমতা ফুসফুস, কিডনি বিকল সহ নানাবিধ রোগে ভুগছে ।

মাদকাসক্তের কারন বহুবিধ উঠতি বয়সের তরুণ রা নেশা করে কৌতুহল বসত বন্ধুদের প্ররোচনায় পরে ।বাবা মার অসুখী দাম্পত্য, হতাশা, বেকারত্ত, একাকিত্ত, পাড়া মহল্লার আড্ডা ,অসৎ সঙ্গ ,ভ্রান্ত জীবন দর্শন , অপসংস্কৃতি ,মাদকের সহজলভ্যতা, ব্যক্তিত্ব ও নৈতিকতার অভাব, অত্যাধিক স্মার্ট হওয়া নিয়ে ভ্রান্ত ধারনা মাদক বিস্তারের প্রধান কারন।

মাদক নির্মূলে সরকারকে কঠোর হতে হবে এবং কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে । মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডের মত দেশে মাদক ভয়াবহ রুপ নিয়ে ছিল । দেশ সমূহে মাদক সেবনে মৃত্যুদণ্ড বিধান চালু।

লেখকঃ আল আমিন

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: