,


ভূরুঙ্গামারীতে প্রধান শিক্ষককে নারী কেলেঙ্কারিতে ফাঁসানোর চেষ্টা

ভূরুঙ্গামারীতে প্রধান শিক্ষককে নারী কেলেঙ্কারিতে ফাঁসানোর চেষ্টা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক প্রধান শিক্ষককে ফাঁসাতে দুষ্কৃতিকারীরা কৌশলে তাঁর বাড়িতে এক নারীকে ঢুকিয়ে দিয়ে তাঁকে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়ানোর অপচেষ্টা করেছে। জানা গেছে, এক অসহায় নারীকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের শাহী বাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ওড়না টেনে ধরার অভিযোগ এনে বিচার দাবি করতে শিখিয়ে দেয় দুষ্কৃতিকারী চক্রটি।
দুষ্কৃতিকারিদের কথা মত ওই নারী গত শুক্রবার বিকালে প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে উল্টা-পাল্টা বলতে থাকে। প্রধান শিক্ষক ইউপি চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ডেকে অভিযোগকারী নারীর বক্তব্য ভাল করে শুনে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান। চেয়ারম্যান ও উপস্থিত জনতা ওই নারীকে নির্ভয়ে সত্য প্রকাশ করতে বলে। ওই নারী জানায়, ‘আমার টাকার দরকার শুনে ফুলমন ও শহিদুল আমাকে বলে, হেড মাস্টারের বাড়িতে গিয়ে বলবি মাস্টার আমার ওড়না টেনে ধরছিল, আমি বিচার চাই। বিনিময়ে তুই ১৫ হাজার টাকা পাবি।
এ কথা না বললে তারা হুমকি দিয়ে বলে তোর আগের সংসার যেভাবে ভাংছি (ভেঙেছি) সেভাবে এই স্বামীর সংসারও ভাংমু (ভাঙব)।’ মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনে প্ররোচনা দানকারীরা হলেন প্রতিবেশি শহিদুল ও ফুলমন। মিথ্যে অভিযোগ উত্থাপন কারী ওই নারী একই ইউনিয়নের পূর্ব কেদার গ্রামের জয়নালের মেয়ে। সে অন্তঃসত্তা হওয়ার কারনে এক সপ্তাহ আগে স্বামীর বাড়ি থেকে বাপের বাড়িতে আসে। ঘটনার বর্ণনা শুনে চেয়ারম্যান শহিদুল ও ফুলমনকে ডেকে আনতে চৌকিদার পাঠালে তারা গা ঢাকা দেয়। মিথ্যে অভিযোগ উত্থাপনকারী নারী ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে তাঁর বাবার নিকট হস্তান্তর করা হয়।
এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল জানান, অন্যের প্ররোচনায় মেয়েটি হেড মাস্টারের বাড়িতে গিয়েছিল, পরে ভুল বুঝতে পেরে সকলের সামনে সত্য প্রকাশ করেছে। প্রধান শিক্ষকের ভাবমূর্তি নষ্ট এবং তাঁকে হেনস্থা করার জন্য প্রতিপক্ষ এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র করেছে। প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, সরকারী জল মহাল ভইসকুড়ি বিল নিয়ে একটি পক্ষের সাথে দীর্ঘ দিন যাবৎ দ্বন্দ্ব ও মামলা চলছে। কয়েকদিন আগে চায়ের দোকানে তাদের একজনের সঙ্গে আমার তর্ক-বিতর্ক ও ধাক্কাধাক্কি হয়। তখন সে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় তারা যে আমাকে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে হেনস্তা করবে এটা ভাবতে অবাক লাগছে। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: