,


ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অর্থনীতি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্টারঃ ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ‘ইনিকোয়ালিট অ্যান্ড ইন্টারজেনারেশনাল মোবিলিটি ইন এডুকেশন অ্যান্ড ইনকাম ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড সিলেক্টেড কান্ট্রিজ’ শীর্ষক পাবলিক লেকচার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে এই সেমিনারের আয়োজন করে ডিপার্টমেন্ট অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড সোশাল সায়েন্স (ইএসএস)।

সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন কানাডার লরেন্টিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন ড. সাদেকুল ইসলাম। সেমিনারে প্রজন্ম পরম্পরায় বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের শিক্ষা ও আয়ের ক্ষেত্রে সামাজিক অসমতা এবং অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করেন এই অর্থনীতিবিদ।

ড. সাদেকুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাবসলিউট ইন্টারজেনারেশনাল মোবিলিটি (আইজিএম) এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে। ৬৫ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী তাদের পিতা-মাতার চেয়ে বেশি শিক্ষিত। তবে রিলেটিভ ইন্টারজেনারেশনাল মোবিলিটির ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। আমাদের এখানে সন্তানের লেখাপড়া ও সফলতার পেছনে বাবা-মার আর্থিক প্রভাব থাকে। পিতামাতা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হলে সন্তানের উচ্চ শিক্ষার হার একেবারেই কম। নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানটি বলার মতো নয়।’

প্রফেসর সাদেকুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমাদের মতো দেশের সমাজ ব্যবস্থাটা আঠালো মেঝে এবং ঘরের ছাদের মতো। যারা নিচে অবস্থান করে শিক্ষা ও আয়ে অসমতার কারণে তারা উপরে পারে না আর যার উপরে থাকে তারাও কখনো নিচে নামে না। গেটসবি সমীকরণের রেফারেন্স টেনে এই অর্থনীতিবিদ জানান, সমাজে অসমতা বাড়লে আয়ের রিলেটিভ মোবিলিটি কমে আর মাথাপিছু আয় বাড়লে মোবিলিটি বাড়ে।

কানাডা প্রবাসী এই অর্থনীতিবিদ বলেন,‘আমাদের দেশে জাতীয় বাজেটে শিক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকে মাত্র ২ শতাংশের মতো যা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের চেয়েও অনেক কম।’ প্রজন্ম পরম্পরায় শিক্ষা ও আয়ে গতিশীলতা বাড়াতে সমাজের সকল স্তরে শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

সেমিনারে সমাপনী বক্তব্যে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ভিনসেন্ট চ্যাং, পিএইড বলেন,‘শিক্ষা সমাজে সমতা আনয়নের চূড়ান্ত হাতিয়ার। শিক্ষাই পারে বিদ্যমান অসাম্য দূর করে সমাজকে গতিশীল করতে। শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে,আমাদের সমাজের একটা বড় অংশ নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রতিনিয়ত লড়ছে। বুদ্ধিমান ও কর্মঠ হওয়া সত্ত্বেও কেবল সুযোগের অভাবে তারা পেছনে পড়ে আছে। শিক্ষার্থীদের সমাজ বাস্তবতা বোঝাতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রতিটি শিক্ষার্থী কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ ব্র্যাকের সাথে কাজ করবে।’

সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য প্রফেসর মোহাম্মদ তামিম, পিএইচডি, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আহমেদ আতাউল হাকিম, ইকোনমিক্স অ্যান্ড সোশাল সায়েন্স বিভাগের চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. এটিএম নুরুল আমিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: