,


ব্রিজটি যেন মরণফাঁদ

ব্রিজটি যেন মরণফাঁদ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বামনের কুড়ার বিশ বছরের পুরাতন ব্রিজটি যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনের তাগিদে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেলিংবিহীন এবং পাটাতন ধ্বসে যাওয়া সরু ব্রিজটি দিয়ে দশ গ্রামের হাজারো মানুষ পারাপার হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়ভিটা বাজার থেকে মাত্র ৩শ গজ দূরে অবস্থিত বামনের কুড়ার ৮০ ফিট লম্বা ব্রিজটি। ভেঙে গেছে দুই পাশের রেলিং এবং বড় বড় গর্তে ধ্বসে পড়েছে পাটাতন। ব্রিজটির পশ্চিম দিকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদ, বড়ভিটা উচ্চ বিদ্যালয় ও বড়ভিটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
প্রতিদিন দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেলিংবিহীন ও পাটাতন ধ্বসে পড়া ব্রিজটি দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে। সেই সঙ্গে দশ গ্রামের মানুষ দৈনদিন কাজের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বড়ভিটা ইউনিয়ন পরিষদে যাচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি দিয়ে। চলাচলের সময় শিক্ষার্থীসহ অনেক পথচারী দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।
র্দীঘ পাঁচ বছর যাবৎ ব্রিজটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। গত পাঁচ বছর ধরে শিক্ষর্থীসহ এলাকাবাসীকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত চার বছরে এই ব্রিজ থেকে পড়ে শিক্ষার্থী ও পথচারীসহ দুর্ঘটনায় প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী, দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও জনগণের চরম দুর্ভোগ লাঘবে ব্রিজটির সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণের কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে।
আগে এই ব্রিজ দিয়ে ইজিবাইক, অটোরিকসা, পিকাপ ভ্যান মালামালসহ যাত্রী নিয়ে সব সময় যাতায়াত করলেও গত চার পাঁচ বছর ধরে সব ধরণের যানবাহনগুলো চলাচল বন্ধ হয়েছে। ফলে এলাকাবাসী ও দূরের অনেকে এই ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
স্থানীয় আব্দুল হক খন্দকার, জয়নাল আবেদিন, মাহাবুল ইসলাম জানান, পাঁচ বছর ধরে এই ভেঙে যাওয়ায় ঝঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে দশ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তায় চলাচল করছে। শিক্ষার্থীরা খুব দ্রুত এই ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজের দাবি জানিয়েছে।
বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খয়বর আলী জানান, গত তিন বছর ধরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে উপজেলা এলজিইডি অফিস ও মাসিক সম্বনয় মিটিংয়েও জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন সুফল পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও জানান, ইউনিয়ন পরিষদের মালামালগুলো অনেক কষ্টে নিয়ে আসা হয়। আজকালের মধ্যেই আবারও নতুন ব্রিজ নির্মাণের জন্য উপজেলা এলজিইডি অফিস বরাবরে লিখিত আবেদন করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আসিফ ইকবাল রাজিব জানান, এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের কোন জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় কেউ এ ব্যাপারে জানায়নি। তবে ব্রিজটি নতুন করে নির্মাণ করা জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃকপক্ষকে জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: