,


বেনাপোল বন্দরে সাড়ে ১২ কোটি টাকা মুল্যের আড়াই টন ভায়াগ্রা পাউডার উদ্ধার

বেনাপোল বন্দরে সাড়ে ১২ কোটি টাকা মুল্যের আড়াই টন ভায়াগ্রা পাউডার উদ্ধার : হুমকির মুখে কাস্টমস কমিশনার

বেনাপোল প্রতিনিধিঃ  বেনাপোল বন্দরে আমদানি নিষিদ্ধ ভায়াগ্রা পাউডারের দুটি চালান আটকের পর সংঘবদ্ধ শক্তিশালী সিন্ডিকেট বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নানাভাবে হুমকি ও চাপ সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ আড়াই টন ভায়াগ্রা পাউডার উদ্ধারের ঘটনায় কাস্টমস কমিশনারসহ অন্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বেনাপোল কাস্টম হাউসে অপেক্ষমাণ একটি ট্রাকের উপকরণ দ্রুত খালাসের জন্য কাস্টম কর্তৃপক্ষের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি, এমনকি ভয়-ভীতি দেখানো হয়। এ সময় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গোপন খবরের ভিত্তিতে ওই ট্রাকে থাকা আড়াই টন পাউডার আটক করে। পরে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরীক্ষায় ওই পাউডার ভায়াগ্রার বলে প্রমাণিত হয়। এর আগে আরও ২শ’ কেজি ভায়াগ্রা পাউডার আটক করা হয়।
সূত্রটি আরো জানায়, একটি চক্র বেনাপোলকে ভায়াগ্রা পাউডার পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছিল। তারা প্রভাবশালীদের দিয়ে বৃহৎ এ চালান খালাসের জন্য তদবির করায়। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। এনিয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা আতঙ্কে আছেন। চক্রটি অন্য সংস্থাাকে দিয়ে তাদের তটস্থা রাখার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী বলেন, আমদানি কারক ঢাকা মিটফোর্ডের মেসার্স বায়েজিদ এন্টারপ্রাইজ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আইবি ট্রের্ডাসের কাছ থেকে সোডিয়াম স্টার্চ গ্লাইকোলেট আমদানি করেন। পরে পণ্য চালানটি রাসায়নিক পরীক্ষা করা হলে এগুলো ভায়াগ্রা পাউডার বলে প্রমাণিত হয়। এর ঘোষিত মূল্য সাড়ে ৩ হাজার মার্কিন ডলার হলেও প্রকৃত মূল্য বাংলাদেশি সাড়ে ১২ কোটি টাকা। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে বৈধ পণ্যের আড়ালে ভায়াগ্রা জাতীয় উত্তেজক মাদক বেনাপোল বন্দরে ঢুকছে, গোপন সূত্রে এমন খবর পেয়ে তারা আগাম সতর্কতা অবলম্বন করেন। একই সঙ্গে কেমিক্যাল বা পাউডার জাতীয় পণ্যে বিশেষ নজরদারি করা হচ্ছিল। এরপর গত ৭ আগস্ট চালানটি আটক করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে একটি চক্র তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন,আড়াই টন উত্তেজক ভায়াগ্রা পাউডার আটকের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের টিম গঠন করা হয়। তদন্তে অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ কাস্টমসের প্রিন্সিপাল কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে চোরাচালান প্রতিরোধে এবং অধিকতর নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: