,


বিয়ে নিয়ে সমালোচনার জবাব নুসরাতের
বিয়ে নিয়ে সমালোচনার জবাব নুসরাতের

বিয়ে নিয়ে সমালোচনার জবাব নুসরাতের

ডেস্ক রিপোর্টারঃ ‘আমি সমন্বিত ভারতের প্রতিনিধি, যা জাতপাত ও ধর্মের বাধার অনেক ঊর্ধ্বে। আমি একজন মুসলিম। আমি সব ধর্মকে সম্মান করি। আমি কী পরব বা পরব না, তা নিয়ে কারও কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়। আস্থা বিষয়টি পোশাকের অনেক ঊর্ধ্বে, পুরোটাই বিশ্বাস।’ মাইক্রোব্লগিং সাইট টুইটারে লিখেছেন নুসরাত জাহান।

গত ১৯ জুন সন্ধ্যায় তুরস্কের রোমান্টিক বন্দর শহর বোদরুমের সিক্স সেন্সেস কাপলাঙ্কায়া রিসোর্টে অগ্নিসাক্ষী রেখে নিখিল জৈনকে বিয়ে করেন ভারতের বাংলা ছবির জনপ্রিয় তারকা ও পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভার নবনির্বাচিত সদস্য নুসরাত জাহান। পরদিন একই স্থানে তাঁদের বিয়ে হয়েছে খ্রিষ্টান রীতিতে। বিয়ের পর নুসরাত জাহানের নতুন নাম হয়েছে ‘নুসরাত জাহান রুহি জৈন’।

বিয়ের পর ২৩ জুন বোদরুম থেকে স্বামী নিখিল জৈনকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় ফিরেছেন নুসরাত জাহান। বিমানবন্দরে তাঁদের স্বাগত জানান বন্ধু আর আত্মীয়স্বজন। ওই সময় নুসরাত জাহানের হাতে ছিল মেহেদি, মাথায় সিঁদুর আর গলায় মঙ্গলসূত্র।

বার্তা সংস্থা আইএএনএস জানিয়েছে, একটি মুসলিমধর্মীয় সংগঠনের মতে, ২৫ জুন সংসদে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ‘অ-ইসলামিক’ সাজে গিয়েছিলেন নুসরাত জাহান। এরপর তৃণমূল দলের এই সাংসদের বিরুদ্ধে দেওবন্দের কট্টরবাদী সুন্নি সংগঠন দার-উল-উলুমের ইমাম মুফতি আসাদ ওয়াসমি বিবৃতি দিয়েছেন।

ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, ইমাম মুফতি আসাদ ওয়াসমি বলেছেন, একজন মুসলমান শুধু মুসলমানকেই বিয়ে করতে পারেন। নুসরাত বিয়ের পর হিন্দুধর্মের রীতি মেনে সিঁদুর আর মঙ্গলসূত্র পরে ইসলামকে অসম্মান করেছেন। সেটা সংসদেও দেখা গেছে। তিনি সংসদে সিঁদুর আর মঙ্গলসূত্র পরে যান।

শপথবাক্য পাঠের সময় নুসরাত জাহান ‘বন্দে মাতরম’ বলেছেন। এ ব্যাপারে ইমাম মুফতি আসাদ ওয়াসমি বলেছেন, ‘ইসলাম ধর্মে বন্দে মাতরম বলা যায় না। সংসদে শপথের সময় নুসরাত তা-ই বলেছেন। বিষয়টি ইসলামের পরিপন্থী।’

এদিকে ইমাম মুফতি আসাদ ওয়াসমির এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন উত্তর প্রদেশের কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী নেত্রী সাধ্বী প্রাচী।

আর বিজেপিদলীয় সাংসদ এবং নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরী বলেছেন, ‘এটা পাকিস্তান নয়, ভারতবর্ষ। এখানে কোনো ফতোয়া চলে না।’

নুসরাত জাহান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘কোনো ধর্মের কট্টরপন্থীদের মন্তব্যকে গুরুত্ব দিলে বা প্রতিক্রিয়া জানালে সেটা শুধু ঘৃণা আর হিংসা ছড়ায়। ইতিহাস তার সাক্ষী।’

নুসরাত জাহান ও নিখিল জৈনের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হবে আগামী ৪ জুলাই, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায়, কলকাতায় আইটিসি রয়্যাল বেঙ্গলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: