,


ফুলবাড়ীতে বন্যায় পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ

ফুলবাড়ীতে বন্যায় পানিবন্দী ৫০ হাজার মানুষ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এক সপ্তাহের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পানিতে সৃষ্ট প্রবল বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গোড়ক মন্ডপ, বালাটারী; শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চরপেচাই, চর শিমুলবাড়ী, জোতকৃষ্ণহরি; ফুলবাড়ী ইউনিয়নের কবির মামুদ, প্রাণকৃষ্ণ; বড়ভিটা ইউনিয়নের মেখলির চর, পশ্চিম ধনীরাম, পুর্ব ধনীরাম, ঘোগারকুটি, মাঝিপাড়া, চর বড়ভিটা, চর বড়লই; ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের খোচাবাড়ী, রাঙ্গামাটিসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে শতশত পুকুরের মাছ। তলিয়ে যাওয়ায় মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে আউশ, সবজি ক্ষেত ও বীজতলা। অনেক স্থানে রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এলাকাগুলো। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পানিবন্দী থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে মানুষগুলো। আশেপাশে কোন শুকনো জায়গা না থাকায় গবাদী পশু নিয়ে স্থানীয়দের পড়তে হচ্ছে আরো বিপদে। অনেকে গবাদী পশুসহ এসে আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে। কেউ কেউ ঝুকি নিয়ে কলাগাছের ভেলায় অথবা উঁচু করে মাচা পেতে রয়েছে নিজ বাড়ীতে। রান্না করার সুযোগ না থাকায় তৈরি খাবারের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। আত্মীয় সজনদের দিয়ে যাওয়া খাবার ও আশপাশের বাজার থেকে কিনে আনা চিড়া, মুড়ি, কলা আর পাউরুটি খেয়ে দিনাতিপাত করছে পানিবন্দী মানুষগুলো। শিশু ও বয়ষ্কদের নিয়ে তাদের পরতে হচ্ছে চরম বিপাকে। এই দুর্যোগে স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদগুলো থেকে যে ত্রাণ দেয়া হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা জানান, তার ইউনিয়নে প্রায় ৬শ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পরেছে। ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কোন বরাদ্দ নাই এবং উপজেলা পরিষদ থেকে এখন পর্যন্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় বন্যার্তদের কোন ধরণের ত্রাণ দেয়া সম্ভব হয়নি। ভাঙ্গামোড় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাবু জানান, এ ইউনিয়নে ২০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত। এখন পর্যন্ত ৫শ পরিবারের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। বড়ভিটা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান খয়বর আলী মিয়া জানান, তার ইউনিয়নে বন্যার কবলে পরেছে প্রায় ১২ হাজার মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ৮শ পরিবারের মাঝে ৮ মে: টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত বলেন, আমাদের হিসেবে বন্যা কবলিত হয়েছে ১১ হাজার ১শ ৮৩ পরিবার। এদের মধ্যে ১৩ মে: টন খাদ্যশস্য এবং ২শ প্যাকেট শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ আসলে পরবর্তীতে আরো বিতরণ করা হবে। উপজেলা মৎস্য অফিসার মাহমুদুন্নবী মিঠু বলেন, ৩শ ৬০টি পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সাড়ে ৬৬ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মাহবুবুর রশীদ জানান, ১শ ৯০ হেক্টর আউশ ধান, ৮৫ হেক্টর সবজি ক্ষেত এবং ২শ ৮০ হেক্টর বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত আছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানান যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: