,


প্রযোজকদের বাঁচাতে হবে
প্রযোজকদের বাঁচাতে হবে

প্রযোজকদের বাঁচাতে হবে

ডেস্ক রিপোর্টারঃ ঈদে মুক্তি পাচ্ছে শাকিব খান-বুবলী অভিনীত ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’। এরই মধ্যে ছবির একটি গান শাকিব খানের ইউটিউব চ্যানেল এসকে ফিল্মসে প্রকাশিত হয়েছে। শিগগির ঈদের ছবির প্রচারে নামবেন শাকিব খান। এরই মধ্যে দেশের প্রায় ২০০ প্রেক্ষাগৃহে প্রজেকশন মেশিন বসানোর কথা বলেছেন এই নায়ক। আগামী ঈদে তাঁর অভিনীত ছবি নিজের মেশিনেই চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ঈদের ছবির প্রচারের পরিকল্পনাসহ তাঁর নিজের প্রযোজিত ছবির কাজের খবরাখবর দিয়েছেন শাকিব খান।
‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ কতগুলো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে?

সিনেপ্লেক্স, ব্লকবাস্টারসহ দেশের প্রায় সব বড় হলেই মুক্তি পাবে ছবিটি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দেশ বাংলা মাল্টিমিডিয়া সূত্রে জানতে পেরেছি, দেশের দেড় শতাধিক হলে মুক্তি পাবে ছবিটি। ছবির শুটিংয়ের সময়ই ঢাকার মধ্যে বড় হলগুলো চূড়ান্ত করেছিল।

‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ নিয়ে প্রত্যাশা কেমন?
ভালো প্রত্যাশা। কারণ এই ছবির গল্প একেবারেই আলাদা। মৌলিক গল্পের ছবি এটি। এর স্টোরি লাইন খুবই ভালো। এটি মানুষের মনের ছবি, জীবনের ছবি, সমাজের ছবি, রাষ্ট্রের ছবি। এখানে আমাকে ওই ধরনের গর্জিয়াস হিরো হিসেবে দেখানো হয়নি। গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে সাধারণ পোশাকে, সাধারণ একজন হিরো হিসেবে দেখানো হয়েছে। জাকির হোসেন রাজু এ ধরনের ছবি ভালো নির্মাণ করেন। তা ছাড়া সেন্সরের সদস্যরা ছবিটি দেখার পর যেভাবে প্রশংসা করেছেন, তাতে আরও বেশি আশাবাদী।

‘পাসওয়ার্ড’ ছবি থেকে কি এগিয়ে থাকবে এই ছবি?
‘পাসওয়ার্ড’ ছবিটি তো এখনো দেশের বেশ কয়েকটি হলে চলছে। তবে এতটুকু বলতে পারি, ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবিটি বহুকাল মানুষের মনে থাকবে। এটি আর্কাইভ হয়ে থাকবে। এর আগে ‘ভালোবাসলে ঘর বাঁধা যায় না’ নামে একটি ছবি করেছিলাম। ছবিটি সাত ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরস্কার জিতেছিল। ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবিটি সে ধরনেরই।

কিন্তু ছবির একটি গান ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে। গানটি সেভাবে আলোচনায় আসেনি। কেন?
এটি আসলে ওই ধরনের লিরিক্যাল মুভি না। এটি গল্পের ছবি, সামাজিক সচেতনতার ছবি। তার পরও ছবির প্রচার প্রচারণার বিষয়টি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আমার ঘরের ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিটির গান ইউটিউবে প্রকাশিত হওয়ার প্রথম দিনই চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। শুরু থেকে প্রচারটা ভালো ছিল।

আপনি এই ছবির নায়ক। ছবির প্রচারণায় নামবেন না?
অবশ্যই। দু-এক দিনের মধ্যেই প্রচার প্রচারণায় নামব। প্রথমে আমার ফেসবুক পেজ থেকে ছবির কথা নিয়ে লাইভে আসব। এরপর দুই-তিনটি টেলিভিশন চ্যানেলে ছবিটি নিয়ে সাক্ষাৎকার দেব।

আগামীকাল থেকে ‘আগুন’ ছবির শুটিং শুরু হচ্ছে। আপনার বিপরীতে নতুন নায়িকা জাহারা মিতু অভিনয় করবেন। তাঁকে নিয়ে কেমন আশা করছেন?

মিতু ভালো মেয়ে, চমৎকার মেয়ে। পছন্দ করেই কিন্তু তাঁকে ছবিতে নেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া সে একজন উপস্থাপক। ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর অভ্যাস তাঁর আছে। আশা করছি নায়িকা হিসেবে সফল হবেন মিতু।

আপনার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসকে ফিল্মস থেকে একাধিক ছবি তৈরির ঘোষণা দিয়েছেন। ছবিগুলোর কাজ কবে থেকে শুরু হবে?
এরই মধ্যে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘বীর’ ছবির শুটিং শুরু হয়েছে। আমার ছোটবেলার অংশের কাজ শেষ হয়েছে। ঈদের পর থেকে আমার অংশের কাজ শুরু হবে। এরপর ‘পাসওয়ার্ড ২’ করার ইচ্ছা। পর্যায়ক্রমে ‘প্রিয়তমা’ ও ‘ফাইটার’ ছবির কাজ হবে। এর বাইরে কলকাতার দুটি ছবিতে কাজ করব। একটি পরিচালনা করবেন জয়দীপ মুখার্জি। আরেকজন পরিচালকের নাম এখনো ঠিক হয়নি। ছবি দুটি এসকে ফিল্মসের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায়ও হতে পারে।
আগামী ঈদ থেকে সারা দেশে প্রায় ২০০ হলে প্রজেকশন মেশিন বসাবেন বলেছিলেন। তার খবর কী?

গত সপ্তাহ থেকে আমার নিজের মেশিনে ৭/৮টি হলে ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিটি চলছে। আশা করছি ঈদে ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ ছবিটি যে যে হলে চলবে তার সব হলেই আমার ঘরের মেশিন থাকবে। সত্যি কথা কী, মনের তাড়না থেকে হলে হলে প্রজেকশন মেশিন দিচ্ছি। কারণ সিনেমাকে বাঁচাতে হবে। সিনেমা না বাঁচলে আমার নিজেরও তো অস্তিত্ব থাকবে না। আমি এখান থেকে টাকা আয় করেছি, এখানে বিনিয়োগ করতে চাই। ছবিতে বিনিয়োগ করছি, মেশিনে বিনিয়োগ করছি। অনেকের কাছে টাকা থাকার পরও ছবি প্রযোজনা বা প্রযোজকের ছবি সহজভাবে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে এ ধরনের মেশিন বা অন্য কোনো বিষয়ে বিনিয়োগ করছেন না। খালি সরকারের ওপর দায়ভার চাপাচ্ছেন। আরে সরকার আর একা কত করবে। নিজেদেরও তো দায়িত্ব আছে।

প্রজেকশন মেশিনের ভাড়া প্রযোজকদের কাছ থেকে কীভাবে নেবেন?
আগে জাজ মাল্টিমিডিয়া যেভাবে নিয়েছে, সেভাবে নিচ্ছি না। কারণ আমি নিজেও তো প্রযোজক। প্রযোজকদের বাঁচাতে হবে। যতটুকু না নিলেও নয়, ততটুকুই নিতে চাই। মেশিনের পেছনে লোকবলের খরচটা আপাতত নেব। এরপর ই-টিকিটিং সিস্টেম শুরু হলে প্রযোজকদের কাছ থেকে মেশিন ভাড়ার কোনো টাকা নেওয়া হবে না।

প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন হয়ে গেল। সিনেমাকে ঘুরে দাঁড়াতে সমিতি কতটুকু সহায়তা করতে পারবে বলে মনে করেন?
দীর্ঘ সাত বছর পর প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন হলো। এটি প্রতীক্ষিত নির্বাচন ছিল। সিনেমার মূল খুঁটিই হলো প্রযোজক। যাঁরা যাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন, সবাই-ই সিনেমার মানুষ। তাঁদের চেষ্টা আছে। নির্বাচনের পরপরই বেশ কয়েজন বড় প্রযোজক যাঁরা দীর্ঘদিন ছবি প্রযোজনা করেননি, তাঁরা নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁরা আমাকে বলেছেন, শিগগির ছবি নির্মাণে নামবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: