,


পার্থ গোপাল ‘পুলিশ কর্মকর্তা’ নন 1

পার্থ গোপাল ‘পুলিশ কর্মকর্তা’ নন

নিজস্ব প্র্রতিবেদক: দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে গ্রেফতার সিলেট রেঞ্জের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিক ‘পুলিশ কর্মকর্তা’ নন বলে জানিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

রবিবার (২৮ জুলাই) পার্থ গোপাল গ্রেফতারের পর বিভিন্ন গণমাধ্যম তাকে ‘পুলিশ কর্মকর্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করে। পরে সোমবার (২৯ জুলাই) এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. সোহেল রানা উল্লেখ করেন, ‘ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিক বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা নন। তাকে “পুলিশের কর্মকর্তা” হিসেবে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ বা প্রচার করা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ বা প্রচারে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে বাংলাদেশ পুলিশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।’

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অবহেলায় জড়িত থাকার অভিযোগে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সোমবার পার্থ গোপাল বণিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এই আদেশ দেন।

এর আগে রবিবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় কারা বিভাগের ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিককে কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন দুদক কর্মকর্তারা। সেই জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ওইদিন দুপুর ২টার দিকে তার বাসায় অভিযান চালানো হয়।

দুদকের পরিচালক মুহাম্মদ ইউসুফ ও সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে পার্থর ধানমন্ডির নর্থ রোডের (ভূতের গলি) ২৭-২৮১ নম্বর বাসার বি/৬ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে ৮০ লক্ষ টাকাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

দুদক পরিচালক মুহাম্মদ ইউসুফ জানান, প্রায় ২ ঘণ্টা পার্থর স্ত্রী ডা. রতন মনি সাহা নানা টালবাহানা করেন। প্রথমে মুঠোফোনে বলেন, তিনি বাসায় নেই। মিরপুরে আছেন। সেখান থেকে ফিরতে ২ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে। অথচ সে সময় তিনি ফ্ল্যাটেই ছিলেন।

দুদক টিম বিকল্প পন্থায় ফ্ল্যাটে প্রবেশের কথা বললে রতন মনি সাহা নিজেই দরজা খুলে দেন। তবে ততক্ষণে ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে পার্থর আয় করা ৮০ লাখ টাকা ২টি ব্যাগে ভরে পাশের বাসার ছাদে ফেলে দেন তিনি। পরে দুদকের টিমের সদস্যরা তাকে নিয়েই ওই টাকা উদ্ধার করা হয়।

এর পর পার্থ বণিকের ঘরের আলমিরা, তোশক, ওয়ারড্রোবসহ বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি করে লুকানো অবস্থায় ৮০ লাখ টাকা পায়। এই টাকা খুঁজে বের করতে কর্মকর্তাদের এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে। টাকা উদ্ধারের পর তা গুণতে লেগেছে আরও এক ঘণ্টা। কিছু টাকা তিনি বালিশের কভারের ভেতরও রেখেছিলেন।

পার্থ ও তার পরিবারের সদস্যদের দাবি, ৮০ লাখ টাকার মধ্যে ৩০ লাখ টাকা পার্থর শাশুড়ি তাকে দিয়েছেন। আর বাকি ৫০ লাখ টাকা পার্থর বেতনের একটি অংশ। ওই টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে বাসায় রেখেছিলেন তিনি।

দুদক পরিচালক মুহাম্মদ ইউসুফ জানান, ৪ হাজার ৬০০ টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেছিলেন পার্থ। বর্তমানে সব মিলিয়ে তিনি পান ৬০ হাজার টাকার মতো। তার বাসা থেকে যে টাকা উদ্ধার হয়েছে তা অবশ্যই ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে আয় করা বলে দাবি করেন দুদক পরিচালক।

দুদক জানায়, ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক ২০০২ সালের ২০ জুন জেল সুপার হিসেবে যোগদান করেন। প্রথমে তার পোস্টিং হয় রংপুর। ২০১৪ সালে ডিআইজি (প্রিজন) হিসেবে পদোন্নতি পান। পরে তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তাকে সিলেট বদলি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: