,


পরাজয়কে পরাজিত করে শীর্ষে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’!
পরাজয়কে পরাজিত করে শীর্ষে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’!

পরাজয়কে পরাজিত করে শীর্ষে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’!

ডেস্ক রিপোর্টারঃ পারেনি, পারবে না—নিন্দুকদের এমন কথায় কান দেয়নি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। নিজস্ব গতিতে পথ চলেছে। এ বছর ২৬ এপ্রিল মুক্তির পর পথ চলতে চলতে ৮৬তম দিনে বিশ্বের আর সব ছবিকে পেছনে ফেলে জয়ী হয়েছে হলিউডের ছবি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’। বক্স অফিসের সব আয়ের পারদ পার করে সর্বকালের সবচেয়ে আয় করা ছবির তালিকায় শীর্ষে এখন এই ছবি।

যখন বিশ্বের সবচেয়ে আয় করা ছবি ‘অ্যাভাটার’ থেকে ১৭৮ কোটি টাকা দূরে, তখন নতুন করে মুক্তি দেওয়া হয় ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ছবিটি। ডিজনিকে দিয়ে দ্বিতীয়বার মহাসমারোহে মুক্তি দেওয়ার ফল মিলেছে এবার। দ্বিতীয়বারেও ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। পরিচালক অ্যান্টনি রুশো বিশেষ বক্তব্য দেন। ‘স্পাইডার ম্যান: ফার ফ্রম হোম’ ছবির সঙ্গে নতুন ট্রেলার যুক্ত করা হয়। ছবিতে যোগ করা হয় আরও ছয় মিনিটের দৃশ্য। ‘হাল্ক’-এর সঙ্গে একটা বিশেষ দৃশ্যও রাখা হয়। কমিক বুক লেখক স্ট্যান লিকে বিশেষ সম্মাননা জানানো হয় অতিরিক্ত সেই ছয় মিনিটে।

সফল কোনো ব্যক্তিকে যদি তাঁর সফল হওয়ার মূল মন্ত্র জিজ্ঞেস করা হয়, তখন তিনি যা যা করেছেন, যা খেয়েছেন, সবই হয়ে যায় সফলতার মন্ত্র। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ছবির সফল হওয়ার মন্ত্র জিজ্ঞেস করলেও অন্য সব কথার সঙ্গে বলতে হবে ওপরের কথাগুলো। ২০ জুলাই পর্যন্ত যে মুকুট ছিল ‘অ্যাভাটার’ ছবির মাথায়, আর আজ রাজার নাম বদলে হয়েছে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।

‘অ্যাভাটার’ ছবির বক্স অফিসের পাশে লেখা হয়েছে ২ দশমিক ৭৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ ছবির নামের পাশে রয়েছে ২ দশমিক ৭৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই যে দশমিক ০০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পার্থক্য, তাতেই রচিত হয়েছে নতুন ইতিহাস। এখন কোনো ছবিকে বিশ্বের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি হতে হলে তাকে আয় করতে হবে অন্তত ২৩ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। আগের রেকর্ড ভাঙতে সময় লেগেছে এক দশক। দেখা যাক, কত দিন শীর্ষে থাকার মুকুট ধরে রাখতে পারে ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’।

আজ তাই এই ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার খুশির দিন। সবাই নিজেদের একটা বিশাল ইতিহাসের অংশ হিসেবে দাবি করতে পারেন। দাবি করতে পারেন ডিজনির কো-চেয়ারম্যান অ্যালেন হর্ন। ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’ বিশ্বের ইতিহাসের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা ছবি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মার্ভেল স্টুডিও আর ওয়াল্ট ডিজনি স্টুডিওকে ইতিহাস গড়ার জন্য অভিনন্দন। আর যাঁরা এই ছবিকে ভালোবেসে এই ইতিহাস গড়তে সাহায্য করেছেন, তাঁদের প্রতি আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা।’

অ্যালেন হর্ন তাঁর বিবৃতিতে ‘অ্যাভাটার’ ছবির প্রসঙ্গ তুলে আনেন। বলেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। এক দশক ধরে জেমস ক্যামেরনের “অ্যাভাটার” এই ইতিহাস হয়ে রাজত্ব করেছে। আর এই দুটো ছবি প্রমাণ করে চলচ্চিত্রের শক্তি। এই ছবিগুলো মানুষকে একত্র করেছে একটা সম্মিলিত অভিজ্ঞতার সাক্ষী হতে। এই পরিচালকেরা আরও ভালো সিনেমা উপহার দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। আর সেই যাত্রায় মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স, প্যানডোরা পাশে থাকবে।’

তাহলে নতুন ইতিহাস লেখা হওয়ার পর বিশ্বের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা পাঁচ ছবি হলো—
১. ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’
২. ‘অ্যাভাটার’
৩. ‘টাইটানিক’
৪. ‘স্টার ওয়ারস: দ্য ফোর্স অ্যাওয়েকেনস’
৫. ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার’

এবার বলতেই হবে অ্যান্টনি রুশো আর জো রুশোর পরিচালনায়, কেভিন ফ্রেইজের প্রযোজনায় রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, ক্রিস হেমসওয়ার্থ, স্কারলেট জোহানসন, মার্ক রাফালোরা সবাই মিলে স্বপ্নকে সত্যি করেছেন। সবাই মিলে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: