,


নাটোরে স্কুল সংস্কারের ১৬ লাখ টাকা তুলে নিল প্রকৌশলী ও ঠিকাদার

নাটোরে স্কুল সংস্কারের ১৬ লাখ টাকা তুলে নিল প্রকৌশলী ও ঠিকাদার

নাটোর প্রতিনিধিঃ নাটোরের বড়াইগ্রামে তিনটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। নামমাত্র কাজ করেই ঠিকাদার তুলে নিয়েছে ১৬ লাখ টাকা। এই ঘটনায় সম্প্রতি নিজ কর্মক্ষেত্র থেকে অন্যত্র বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয় অভিযুক্ত এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিবকে। তার আগে অনিয়মের কথা স্বীকার করেন তিনি।
সূত্র জানায়, বড়াইগ্রামের চামটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ৫ লাখ ৫০হাজার, রামেশ্বরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং নারায়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ৬ লাখ টাকা সহ মোট ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ‘তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসুচি’ প্রকল্পের আওতায় এই টাকা বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। পরবর্তীতে ই-টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় স্থানীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আঁখি এন্টারপ্রাইজ। কিন্তু নামমাত্র কাজ করেই ২০১৮ সালের এপ্রিলে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে পুরো টাকা উত্তোলন করা হয়। আর এই কাজে সহযোগিতা করেন সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিব।
চামটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি বুলবুল আহমেদ বলেন, আমাদের বিদ্যালয় সংস্কারের জন্য সাড়ে ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকৌশলী ও ঠিকাদার মিলে কোন কাজ না করেই পুরো টাকা আত্মসাৎ করে। পরে বিষয়টি জানার পর আমি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এরপর তরিঘরি করে যত সামান্য কাজ করেছে ঠিকাদার। নিয়ম অনুযায়ী কোন কাজই ঠিকমত করেনি তারা। এছাড়া রামেশ্বরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং নারায়নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত ও সংস্কার কাজের জন্য ৬ লাখ টাকা নামমাত্র কাজ কওে তুলে নিয়েছে তারা।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, তিনটি বিদ্যালয়ে নামমাত্র সংস্কার করে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে, যেটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মকর্তার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। সরকারী টাকা যারা আত্মসাৎ করেছে তাদের বিচার দাবী করছি।
এ বিষয়ে আঁখি কন্সট্রাকশন এর ঠিকাদার আহসান হাবিব বাবুর একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। শহরের মাদ্রাসা মোড়ে তাদের অফিসের অস্থিত্বও মেলেনি। এদিকে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সম্প্রতি নিজ কর্মক্ষেত্র থেকে অন্যত্র বদলি (স্ট্যান্ড রিলিজ) করা হয় অভিযুক্ত এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিবকে। তার আগে অনিয়মের কথা স্বীকার করেন তিনি। প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, অর্থ বছর শেষ হওয়ার কারণে কিছু কাছ বাকি রেখে ঠিকাদার টাকা তুলে নিয়েছে। তবে বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে আমি ঠিকাদারকে সকল কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। নিয়ম মেনেই ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে। কোন অনিয়ম হয়নি।
তবে এবিষয়ে সরাসরি কথা বলতে রাজি হননি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সুবাস কুমার সাহা। পরে ফোনে জানান, সব কাজ নিয়ম মতোই হয়েছে। যদিও কর্মসুচির আওতায় বিদ্যালয়ের মেরামত কাজ ঠিকমতো হয়েছে কিনা তা সরেজমিনে গিয়ে জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ঠদের আগামী ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্কুল সংস্কাওে কাজের বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। আমাকে বিষয়টি জানানো হয়নি। পওে অনিয়মের খবর প্রকাশ হলে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আমাদের চিঠি পাঠিয়ে বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দিতে বলেছে। আমরা অতিদ্রুত পরিদর্শন করে সে প্রতিবেদন দাখিল করবো। তবে সংস্কার কাজে যে অনিয়ম হয়েছে এটা শতভাগ প্রমানিত। আমরা এলজিইডিকে কাজটি পুনরায় করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশের জন্য চিঠি দিবো।
অনিয়ম খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার পারভেজ । তিনি বলেন, ইষ্টিমেট অনুযায়ী বিদ্যালয় তিনটিতে কাজ হয়নি। আমি বিষয়টি জানার পর প্রকৌশলীকে ইষ্টিমেট অনুযায়ী কাজ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তাছাড়া ঠিকাদারের যে জামানত রয়েছে, সেটি বাজেয়াপ্রাপ্ত করে সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: