তাড়াশে টুং টাং শব্দে মুখরিত কামারপাড়া

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। ঈদে কোরবানি ও আনুষাঙ্গিক কাজের জন্য দা, ছুরি, বটিসহ অন্যান্য উপকরণ তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কামার শিল্পীরা। দম ফেলাবারও যেন সময় পাচ্ছে না তারা। দিন রাত টুংটাং শব্দে মুখরিত হচ্ছে বিভিন্ন হাট বাজারসহ কামার বাড়িতে। তবে কয়লার দাম বেশি হওয়ায় অন্যবারের চেয়ে এবার ছুরি, দা, বটির দাম কিছুটা বেশি বলে জানা গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় কামার শিল্প প্রায় বিলুপ্ত। সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। উল্টো প্রযুক্তির দাপটে ক্রমেই মার খাচ্ছে এ শিল্প। বছরের ১১ মাস কামারশালায় তেমন একটা কাজ থাকে না বললেই চলে।

আগামী ১২ আগস্ট ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে কামারদের ব্যস্ততা। আগুনের শিখায় তাপ দেয়া ও হাতুড়ি পেটানোর টুং-টাং শব্দে তৈরি হচ্ছে ছুরি, দা, বটিসহ নানা রকমের অস্ত্র। একইভাবে চলছে মোটরচালিত মেশিনে শান দেয়ার কাজও।

সরেজমিনে উপজেলার গুল্টাবাজার ও রানীহাটে দেখা যায়, অনেকেই পরিবারের ব্যবহৃত ও অব্যবহৃত দা, বটি ও ছুরি শান দেয়ার জন্য নিয়ে আসছে কামারদের কাছে। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে কামারদের বিরামহীন ব্যস্ততা। বছরের অন্যান্য সময়ের চেয়েও দোকানে বেড়েছে মৌসুমি কর্মচারীর সংখ্যা।

রানীহাট বাজারের শ্যামল কর্মকার বলেন, সাধারণত স্প্রিং লোহা ও কাঁচা লোহা ব্যবহার করে এই দা, বটি ও ছুরি তৈরি করা হয়। স্প্রিং লোহা দিয়ে তৈরি উপকরণের মান ভালো, দামও বেশি। আর কাঁচা লোহার তৈরি উপকরণগুলোর দাম তুলনামূলকভাবে কম হয়ে থাকে। এছাড়াও লোহার মানভেদে স্প্রিং লোহা ৫০০ টাকা, নরমাল ৩০০ টাকা, পশুর চামড়া ছাড়ানো ছুরি ১০০ থেকে ২০০ টাকা, দা ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, বটি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, পশু জবাইয়ের ছুরি ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

গুল্টাবাজারের প্রশান্ত কর্মকার বলেন, বাপ-দাদার আমলে কামারশিল্পের বেশ চাহিদা ছিল। এ কারণে বংশ পরস্পরায় তিনি নিজেকে এ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলেন। কামারশালার আগের সেই স্বর্ণ যুগ আর নেই। বর্তমানে প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যন্ত্র নির্ভর হয়ে পড়েছে। এতে আমাদের তৈরি করা জিনিসপত্রের চাহিদাও একদম কমে গেছে। বছরের ১১ মাস ব্যবসা হয় এক রকমের আর কোরবানির ঈদের আগে ব্যবসা হয় আরেক রকমের। আর এতে করে অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে তাদের চলতে হয়। কিন্তু ঈদুল আজহা উপলক্ষে বেচা বিক্রি বেড়ে যায়, বেড়ে যায় ব্যস্ততাও। তিনি আরো বলেন, কোরবানিতে ব্যবহৃত দেশিয় অস্ত্রের দাম কিছুটা বাড়লেও এর প্রভাব পড়েনি ক্রেতাদের মাঝে। অনেকেই স্বাভাবিক ভাবেই নিয়েছে এই দাম বাড়ার বিষয়টিকে।

এক সময় কামারদের যে কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। স্থানীয় চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের চাহিদা মিটাতেন এবং প্রচুর অর্থ উপার্জন করতেন কিন্তু মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে ফলে কামারদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষ আকৃষ্ট হারাচ্ছে। কামার শিল্পেরা দুর্দিন জীবন যাপন করছে। হয়তো বা এক সময় এই পেশা আর থাকবে না।

সম্পাদক

Leave a Comment

Recent Posts

জিঞ্জিরা প্রাসাদ – দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি জিঞ্জিরা প্রাসাদ কে ঘিরে। জিঞ্জিরা প্রাসাদ কোথায় অবস্থিত, ইতিহাস, কাঠামো, কেন যাবেন,… Read More

21/09/2020

মুসা খান মসজিদ – ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি মুসা খান মসজিদ কে ঘিরে। মুসা খান মসজিদ কোথায় অবস্থিত, ইতিহাস, কাঠামো,… Read More

20/09/2020

রিয়েলমি সিক্স আই ফোনের দাম ও স্পেসিফিকেশন

টেক-ট্রেন্ডসেটার ব্র্যান্ড রিয়েলমি 'আনলিশ দ্য পাওয়ার' ট্যাগলাইনে সিক্স সিরিজের নতুন স্মার্টফোন 'রিয়েলমি সিক্স আই' বাংলাদেশের… Read More

20/09/2020

গ্রীন ভিউ রিসোর্ট – দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি গ্রীন ভিউ রিসোর্ট কে ঘিরে। গ্রীন ভিউ রিসোর্ট কোথায় অবস্থিত, ইতিহাস, কাঠামো,… Read More

19/09/2020

রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি – ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি কে ঘিরে। রাজা হরিশচন্দ্রের ঢিবি কোথায় অবস্থিত, ইতিহাস, কাঠামো,… Read More

18/09/2020

ভাষা শহীদ আবুল বরকত স্মৃতি জাদুঘর – দর্শনীয় স্থান

আমাদের আজকের প্রতিবেদনটি ভাষা শহীদ আবুল বরকত স্মৃতি জাদুঘর ও সংগ্রহশালা কে ঘিরে। শহীদ আবুল… Read More

18/09/2020

This website uses cookies.