,


ডিমওয়ালা ও জাটকা ইলিশ ধরবো না এই হোক অঙ্গীকার - মোঃ রেজাউল ইসলাম

ডিমওয়ালা ও জাটকা ইলিশ ধরবো না এই হোক অঙ্গীকার – মোঃ রেজাউল ইসলাম

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিভাগে মাছের চাহিদা মেটানোর পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে জীবন্ত মাছ সরবরাহ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাজশাহী। গ্রীন সিটি, ক্লীন সিটি, শিক্ষানগরী, চিকিৎসা নগরী ও সিল্ক সিটি’র পর অচিরেই ” Live Fish Transport City” (জীবন্ত মাছ সরবরাহকারী সিটি) উপাধী পেতে যাচ্ছে রাজশাহী ।

‘একটি বাংলাদেশ’কে দেয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে একথা জানিয়েছেন মৎস অধিদপ্তর রাজশাহীর উপ-পরিচালক মোঃ রেজাউল ইসলাম।

বিশ্বে মৎস উৎপাদনে ৪র্থ স্থানে থাকা বাংলাদেশের অন্যতম বিভাগ রাজশাহী বর্তমানে প্রতিবছর ৪ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রক টন মাছ উৎপাদন করছে যেখানে চাহিদা ৪ লাখ ১৮ হাজার মেট্রক টন । এ সফলতার পেছনে থাকা চালিকা শক্তি মানুষটি হচ্ছেন মোঃ রেজাউল ইসলাম । যিনি ১৯৮৪ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করে আজ অবধি মৎস অধিদপ্তর, রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক পদে নিরলস ভাবে এদেশের মৎসজীবী, দেশের প্রানীজ আমিষের চাহিদা পূরণ ও মাছে-ভাতে বাঙ্গালীর অতীত ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভুমিকা রেখে চলেছেন।

পহেলা জানুয়ারী ২০১৭ তে উপ-প্রকল্প পরিচালক ও ১২ এপ্রিল ২০১৮ তে উপ-পরিচালক পদে যোগদানের পর থেকে রাজশাহী বিভাগের ৮ টি জেলার ৬৭ উপজেলা, ২২ টি মৎস্য খামার, এ ভূ-খন্ডের উন্মুক্ত জলাশয় ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে মৎস উৎপাদনকারীদের উন্নয়নে নিরলস শ্রম ও মেধা খাটিয়ে যাচ্ছেন। বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিনামা (APA-জুলাই-জুন) ও উৎপাদন লক্ষমাত্রার দিকে নজর রেখে বার্ষিক

১৪ টি নিয়মিত কার্যক্রমের শতভাগ নিশ্চতকরণের লক্ষ্যে মাসিক কর্মপরিকল্পনা তৈরী করেন। এছাড়াও জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ, জাতীয় মৎস্য সপ্তা, মৎস্য চাষী প্রশিক্ষণ, মাছের অভয়ারন্য তৈরী ও উন্মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণ, জেলেদের নিবন্ধন ও আইডি কার্ড প্রদান, ইলিশ উৎপাদন এলাকায় ভিজিএফ কর্মসূচী, ঋন কার্যক্রম ও পরামর্শ প্রদান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও মৎস্য সংরক্ষণ আইন অবহিতকরণ কর্মসূচী সহ সকল কার্যক্রম শতভাগ পালন করার চেষ্টা করেন তিনি।

বেশকিছু প্রতিবন্ধকতা যেমন সীমিত জনবল(অনুমোদিত ৫৯৮টি পদের মধ্যে ২৩৮টি শুন্য) , মৎস্য সংরক্ষণ আইন প্রয়োগে তাৎক্ষনিক ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের অপ্রাপ্যতা(মৎস্য অধিদপ্তরের আইন বাস্তবায়নেেে নিজস্ব সেল না থাকা), মাঠ পর্যায়ে ভালো মানের খাদ্য ও পোনার স্বল্পতা, অনিয়ন্ত্রিত বাজার ব্যবস্থাপনা, মৎস্য চাষীদের অপর্যাপ্ত আর্থিক সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অপর্যাপ্ততা ইত্যাদি দূর করা গেলে অচিরেই মাছে-ভাতে বাঙ্গালীর সেই চিত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, কর্মক্ষেত্রে সফল মৎস্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ রেজাউল ইসলাম নওগা জেলার মান্দা উপজেলার বানিসর গ্রামের মৃত শফি উদ্দিন মোল্লার ছেলে। তিনি ১৯৭৫ সালে নওগা কেডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৭৭ সালে রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিশারিজ এ অনার্স ও পরবর্তীতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষি সম্প্রসারণ বিষয়ে স্নাকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: