,


ডিপ্রেশন কিংবা হতাশাগ্রস্থ

ডিপ্রেশন কিংবা হতাশাগ্রস্থ

ডিপ্রেশন- একাকীত্ব বা হতাশাগ্রস্ত। বাংলাদেশে এই রোগের মাত্রা দিনে দিনে অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। আমাদের গোটা সমাজব্যাবস্থায় ইতিমধ্য এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে। ডিপ্রেশন হলো মারাত্নক রকমের একটি মানসিক রোগ যা একজন মানুষের জীবনকে অতিষ্ট করে দেয়। ডিপ্রেশনে ভোগা একজন মানুষ প্রতি নিয়ত মানসিক বিপর্যস্তের দিকে এগিয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদী এই রোগে একজন মানুষ ধীরে ধীরে অকর্মঠ,অলস,শক্তিহীন এবং হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। মানষিক চিকিৎসকরা বলছেন একজন মানুষের বারবার অপ্রাপ্তি থেকে একটি হতাশাজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকে। যা রোগীকে বার বার মানসীক পীড়া দেয়।

হতাশাজনক এই রোগটি এখন সারা পৃথিবীতেই ভয়ানক অবস্থার তৈরি করেছে। আমেরিকায় প্রতি ২০জনে একজন এই ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হন। জাপানের শতকরা ৩ জন মানুষ ভয়ানক হতাশাজনক রোগে আক্রান্ত হয়। সারা বিশ্ব জুড়ে প্রায় ৩০কোটি মানুষ এই রোগে ভুগছেন। গত বছর ২০১৭ সালের ২০ জুলাই লিনিকিন পার্ক খ্যাত ব্যান্ডের জনপ্রিয় গায়ক চেস্টার বেনিংটন শুধুমাত্র একাকীত্বতার কারনে সুইসাইড করেন। এছাড়ায় বিশ্বে আত্নহত্যা করার তালিকায় সবে চেয়ে এগিয়ে আছেন হতাশাগ্রস্ত এই মানুষগুলো। কেউ বা ব্যাবসা পাতি নিয়ে হতাশায় ভোগেন, কেউবা ভালোবাসার অপ্রাপ্তিতে হতাশায় ভোগেন, কেউ বা আবার শত কিছু থাকার পরেও ব্যাক্তিজীবনে আকস্মিক হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। ধারণা করা হয় হতাশাগ্রস্থ এই রোগটি ২০৩০ সাল নাগাত ভয়ানক মহামারিতে পরিণত হতে পারে।

বাংলাদেশের অবস্থানেও ডিপ্রেশন বা হতাশা নামক এই রোগটি ছড়িয়ে পড়ছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপে বলা হয়েছে ২০০৩ সাল থেকে ২০০৫ সালে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এবং পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। ২০১৭ সালে ঢাকা টাইমস পত্রিকার এক রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৭৪ লাখ মানুষ হতাশা জনিত নানান মানসিক রোগে আক্রান্ত। এর মধ্য ১৫-৩০ বছরের রোগীদের এই রোগের প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হতাশা নতুন কিছু নয়। বিষণ্ণতা নিয়ে কবি সাহিত্যিকরা অনেক আগে থেকেই লেখা লেখি করেছেন। কবিতা কিংবা গানের মাধ্যমেও এই চিত্রকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন তারা। বিষণ্ণতা নিয়ে কবি আল নোমান তার ভালোবাসার নীল কাব্য লিখে গেছেন ২১ লাইনের কবিতা। হতাশা শিরোনামে গান করেছেন বাংলাদেশে ব্যান্ড ওয়ারফেইজ। বিষণ্ণতা কে বোঝাতে যেয়ে কবি হেলাল হাফিজ লিখেছিলেন ”তুমি আমার নিসঙ্গতার সতীন হয়েছো” কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ লিখেছেন ”একা থাকার এই ভালো লাগায় হারিয়ে গিয়েছি, নিসঙ্গতা আমাকে আর পাবেনা’

আমাদের সমাজ ব্যাবস্থায় এখনো কুসংস্কারের বিস্তার রয়েছে। ক্লান্তিতে ভোগা একজন মানুষকে উৎসাহ দেয়ার মত, তার পাশে দাড়ানোর মত জ্ঞানী লোকে খুব অভাব। তাই আসুন আমাদের সমাজেই সময়ের চেয়ে পিছিয়ে পড়া সে সব হতাশাগ্রস্থ মানুষগুলোর পাশে আমরা দাঁড়ায়। তাদের সাথে মন খুলে কথা বলি, তাদের কথা গুলো শুনি, তাদের প্রেরণা জোগায়। আজ আমাদের সামান্য প্রেরণার অভাবে হয়ত সমাজের একজন উজ্জল নক্ষত্র পড়ে যেতে পারেন মারাত্নক রকমের মেন্টাল ডিসঅর্ডারে।

মোঃ হাবিবুর রহমান বিপুল : আর জে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: