,


ঝিনাইদহ (Jhenaidah)

ঝিনাইদহে ঘুষের টাকা হজম করতে পেরে ফেরত পেলো ১২৬ পরিবার

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শৈলকূপা উপজেলার এলাকা-৭ এর পরিচালক নুরুজ্জামান ঘুষের এক লাখ ৩৮ হাজার ১০০ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন। বিদ্যুৎসংযোগ দেয়ার কথা বলে এ টাকা ঘুষ হিসেবে এলাকাবাসীর কাছ থেকে নিয়েছিলেন তিনি। সে সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মো: আলতাফ হোসেন, শৈলকূপা উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার কামরুজ্জামান, সমিতি বোর্ডের সভাপতি হাফিজুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (সদস্য সেবা) মো: রেজাউল করিম রাজিব।এ বিষয়ে প্রকৌশলী আলতাফ হোসেন বলেন, শৈলকূপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিদ্যুৎলাইন সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এ সুযোগে ওই এলাকার এক শ্রেণীর দালালচক্র বিদ্যুৎসংযোগ দেয়ার কথা বলে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে বেআইনিভাবে টাকা আদায় করে আসছে। এমন খবরের ভিত্তিতে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের খুলুমবাড়িয়া গ্রামে গোপন অনুসন্ধানে নামেন তারা।জেনারেল ম্যানেজার আরো জানান, কয়েক দিনের গোপন অনুসন্ধানে এ খবরের সত্যতা বেরিয়ে আসে। ঘটনার সাথে জড়িতদের মধ্যে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শৈলকূপা ৭ নম্বর এলাকা পরিচালক নুরুজ্জামানের নাম প্রকাশ হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ মিটারসহ বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা লেনদেন করে আসছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে।তিনি আরো জানান, দেড় শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায় করা হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়। এ টাকা কৌশলে ঘুষ গ্রহীতার কাছ থেকে আদায় করে গ্রাহকদের ফেরত দেয়ার পরিকল্পনা করেন তারা। গ্রাহকরা খবর পেয়ে এলাকায় জড়ো হন। লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা ফেরত নেয়ার জন্য অপেক্ষা করেন গ্রামবাসীরা। এ সময় ঘুষ গ্রহীতা এলাকা-৭ এর পরিচালক নুরুজ্জামান নিজে গ্রাহকদের হাতে সেই টাকা তুলে দেন। ওই দিন দুর্নীতি বিরোধী ব্যানার ঝুলিয়ে ১২৬ পরিবারকে এক লাখ ৩৮ হাজার ১০০ ঘুষের টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে মর্মে জানান জেনারেল ম্যানেজার।এ দিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শৈলকূপা উপজেলার এলাকা-৭ এর পরিচালক নুরুজ্জামান গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেন।তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিন বছর আগে খুলুমবাড়িয়া গ্রামের দক্ষিণপাড়া ও বাগদিপাড়ার অন্তত ১৫০ জনের কাছ থেকে মিটারসহ বিদ্যুৎসংযোগ দেয়ার কথা বলে গড়ে ৭৫০ টাকা হারে ঘুষ নেন। চলতি বছরে এলাকায় বিদ্যুৎলাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এরপর ঘটনা জানাজানি হয়ে পড়ে এবং তিনি ফেঁসে যান। নিরুপায় হয়ে টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানান নুরুজ্জামান। অনেকেই পাওনার চেয়ে বেশি দাবি করেছে বলেও জানান তিনি। আত্মস্বীকৃত এ ঘুষখোর শৈলকূপার হাকিমপুর গ্রামের মৃত নজির উদ্দিন মোল্লার ছেলে। এলাকা পরিচালক হওয়ার আগে তিনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তালিকাভুক্ত ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: