,


জার্মানিতে রাজনৈতিক নেতা খুন ও হত্যার হুমকি
জার্মানিতে রাজনৈতিক নেতা খুন ও হত্যার হুমকি

জার্মানিতে রাজনৈতিক নেতা খুন ও হত্যার হুমকি

ডেস্ক রিপোর্টারঃ জার্মানির ক্ষমতাসীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির একজন আঞ্চলিক নেতা নব্য নাৎসিদের হাতে খুন হয়েছেন। কেসেল শহরের আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট ভালটার লুবকে-কে চলতি মাসের ২ তারিখে তাঁর বাড়ির পেছনে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। শরণার্থীদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও মানবিক প্রকৃতির এই রাজনীতিক বেশ কয়েক বছর থেকেই দক্ষিণপন্থী নব্য নাৎসি দলগুলোর কাছে ঘৃণার পাত্র ছিলেন। এ ছাড়া গতকাল বুধবার রাতে কোলন শহরের মেয়র হেনরিটে রেকার হত্যার হুমকি পেয়েছেন।

জার্মানিতে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি হত্যা, হুমকি দেওয়া ও ঘৃণা ছড়ানোর মতো ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। ২০১৫ সালে কোলন শহরের মেয়র হেনরিটে রেকারের ওপর ছুরি নিয়ে হামলার ঘটনায় তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। আলটেনা নামের একটি শহরের মেয়র আন্দ্রেয়াস হোলস্টাইনও হত্যার হুমকি পেয়েছেন। ২০১৭ সালে তাঁর ওপরও হামলা হয়েছিল।

২০১৫ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলো থেকে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী জার্মানিতে আসার পর ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ভালটার লুবকে তাঁর এলাকায় শরণার্থীদের বসবাসের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ২ জুন ভালটার লুবকে-কে তাঁর বাড়ির পেছনের বাগানে মাথায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘণ্টা পরে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে মারা যান। ঘটনার দুই সপ্তাহ পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পুলিশ স্টেফান নামের একজন নব্য নাৎসিকে আততায়ী সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তি হেসেন রাজ্যের কট্টরপন্থী এনপিডি দলের সদস্য এবং নিহত ভালটার লুবকের এলাকারই বাসিন্দা। গ্রেপ্তার স্টেফান দীর্ঘদিন থেকে কট্টরবাদী দলগুলোর সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া তিনি ভালটার লুবকের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াবার কাজে দীর্ঘদিন থেকে তৎপর ছিলেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও বর্ণবাদী নানা ঘটনার দায়ে মামলা হয়েছে। জার্মানির অ্যাটর্নি জেনারেল হত্যার ঘটনার তদন্ত করছেন।

জার্মানির হেসেন প্রদেশের কেসেল শহরের আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট ভালটার লুবকে, সেই সময় তাঁর এলাকায় শরণার্থীদের পুনর্বাসনের জন্য একটি নাগরিক সভার আয়োজন করেছিলেন। ২০১৫ সালের অক্টোবরে সেই নাগরিক সভা চলাকালে কিছু নব্য নাৎসি ওই এলাকায় শরণার্থীদের পুনর্বাসনের বিরোধিতা করেন। নব্য নাৎসি ও দক্ষিণপন্থী দলগুলোর সমর্থকেরা সেই নাগরিক সভা চলাকালে ভালটার লুবকে-কে জার্মান জাতির শত্রু ও তাঁকে জার্মানি ছেড়ে চলে যেতে বলেছিলেন।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এবং অস্ট্রিয়ার তৎকালীন চ্যান্সেলর ভের্নার ফেম্যান ও জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে হাঙ্গেরিতে থাকা শরণার্থীদের অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় জার্মানিতে প্রায় দশ লাখ শরণার্থী রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন। এসব শরণার্থীর অধিকাংশই এসেছিলেন সিরিয়া ও ইরাক থেকে। সেই সময় জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল পুরো জার্মানির স্থানীয় সরকারগুলোকে শরণার্থীদের গ্রহণ করার জন্য আবেদন করেছিলেন।

কেসেল শহরের আঞ্চলিক সরকারের প্রেসিডেন্ট ভালটার লুবকের হত্যার ঘটনায় জার্মানির প্রেসিডেন্ট ভালটার স্টাইনমায়ার ও চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: