‘ছেলেধরা’ সন্দেহে কাঠুরিয়াকে মারপিট, শিক্ষক আটক

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের উলিপুরে ‘ছেলেধরা’ সন্দেহে এক কাঠুরিয়াকে মারপিট করে গুরুত্বর আহত করার অভিযোগ ওঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এলাকায় পরিচিত এবং নিরীহ মানুষকে ছেলেধরার গুজব রটিয়ে মারধরের কারণে উত্তেজিত জনতা ওই শিক্ষককে ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ রাতে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার চৌমহনী বাজার এলাকায়। এ ঘটনায় শুক্রবার পুলিশ বাদী হয়ে গুজব ছড়ানো অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের বগাপাড়া উচাভিটা গ্রামের ফুক্তুল আলীর পুত্র কাঠুরিয়া আলাউদ্দিন (৫০) প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকালে কাজ শেষে গাছ কাটার করাত, কুড়াল ও রশি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় চৌমহনী বাজার এলাকায় পল্লী উন্নয়ন রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের সামনে আসলে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষার্থী আলাউদ্দিনকে দেখে ‘ছেলেধরা’ বলে চিৎকার করতে থাকে। এ ঘটনায় কাঠুরিয়া আলাউদ্দিন রাগান্বিত হলে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে স্কুলের ভিতরে নিয়ে যান। সে সময় ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আব্দুল মমিন আলাউদ্দিনকে ধরে মারপিট করে বের করে দেন। এ সংবাদ শোনার পর কয়েকজন ওই কাঠুরিয়াকে রাস্তা থেকে ধরে রশি দিয়ে বেঁধে স্কুলের ভিতরে নিয়ে আসে। এ সময় তাকে বেধড়ক পিটুনি দিয়ে গুরুত্বর আহত করে একটি কক্ষে আটকে রাখেন।
এদিকে পরিচিত আলাউদ্দিনকে মারপিট করে আটক রাখার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা নিরীহ কাঠুরিয়াকে নির্যাতন করার প্রতিবাদে ওই স্কুলে হামলা চালিয়ে ভিতরে থাকা সকলকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ গিয়ে আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে এবং শিক্ষক আব্দুল মমিনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় গুজব ছড়িয়ে নিরীহ ব্যক্তিকে মারপিট করার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে শুক্রবার বিকালে আব্দুল মমিনসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, আলাউদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গুজব ছড়িয়ে নিরীহ ব্যক্তিকে মারপিট করার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটক মমিনকে শুক্রবার বিকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।