,


চিকিৎসা উপকরণ হিসেবে আফিমকে বৈধ করে দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে- মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী
চিকিৎসা উপকরণ হিসেবে আফিমকে বৈধ করে দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে- মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী

চিকিৎসা উপকরণ হিসেবে আফিমকে বৈধ করে দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে- মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ ডেক্সঃ মেক্সিকোর প্রতিরক্ষামন্ত্রী সালভাদোর সিয়েনফুয়েগোজ শুক্রবার বলেছেন, চিকিৎসা উপকরণ হিসেবে আফিমকে বৈধ করে দেওয়ার কথা ভাবা যেতে পারে। আফিম এখন অবৈধ মাদক হিসেবে চিহ্নত রয়েছে বলেই মাদক কারবারীরা পপি ক্ষেত্রে দখল ও মাদক পাচারে ব্যবহৃত রুটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রবল সহিংসতার ঘটনা ঘটাচ্ছে। আফিম বৈধ করে দিলে এই সহিংসতার অনেকটাই কমে আসবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার অপরাধপ্রবণ গুয়েররেরো প্রদেশের তেলোলোয়াপান শহরে মেক্সিকান প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। যুক্তরাষ্ট্রে যত হেরোইন যায়, তার বেশিরভাগই ওই অঞ্চলে উৎপাদিত হয়।

মেক্সিকো গত এক যুগ ধরে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাছে। দেশটির সেনাবাহিনী মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূলে যে অভিযান পরিচালনা করছে তাতে বড় মাদক ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো ছোট ছোট উপদলে ভাগ হয়ে গেছে। এর ফলে দেশটিতে হত্যার সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে পৌঁছেছে। বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সিয়েনফুয়েগোজ বলেছেন, ‘আমি মনে করি, সমস্যা থেকে উত্তরণের একটি পথ হতে পারে এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু এটা এমন একটি বিষয় যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া দরকার।’ তিনি আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন কৃষকদের নিরাপত্তা নিয়ে। মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পপি বিক্রি না করে মরফিন উৎপাদনের জন্য যদি তারা সরকারের কাছে ফসল বেঁচে তাহলে তাদের জীবনের ওপর ঝুঁকি তৈরি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

সদ্য নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস মানুয়েল লোপেজ ওবরাদোরের সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার কথা ওলগা সানচেজের। তিনিও বলেছেন, সরকার কাজ করা শুরু করলে চিকিৎসা উপাদান হিসেবে আফিম উৎপাদনকে বৈধতা দিয়ে দেওয়া যায় কি না তা ভেবে দেখা হবে। গুয়েররেরোর প্রাদেশিক সরকারও প্রস্তাবটিকে ইতিবাচক হিসেব দেখছে। তারা গত আগস্ট মাসে এ বিষয়ে একটি খসড়া আইন তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারর কাছে পাঠিয়েছে।

বামপন্থী লোপেজ ওবরাদোর গত জুলাই মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছেন। ডিসেম্বরের ১ তারিখে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। মাদক বাণিজ্য ও মাদক কেন্দ্রিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তনের কথা ভাবছেন তিনি। ওবরাদোর মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় উপনীত হতে চান। সহিংসতায় জড়িত নয় এমন মাদক ব্যবসায়ী, পাচারকারী ও কৃষকদের সাধারণ ক্ষমার আওতায় আনারও পরিকল্পনা রয়েছে তার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: