,


ঘরে ফিরলেন ল্যাম্পার্ড-বুফন, আর রোবেনের কোনো ঘর পছন্দ হলো না

ঘরে ফিরলেন ল্যাম্পার্ড-বুফন, আর রোবেনের কোনো ঘর পছন্দ হলো না

স্পোর্টস ডেস্কঃ চেলসির ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন দলটির কিংবদন্তি মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড। আর এক বছরে পর আবারও জুভেন্টাসে ফিরলেন জিয়ানলুইজি বুফন। এ দুজনের প্রত্যাবর্তনের দিনে পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন রোবেন।

ইউরোপিয়ান ফুটবলে চলছে দলবদলের মৌসুম। আর এই সময়টাকে ঘরে ফেরার উপলক্ষ বানিয়ে নিলেন ইউরোপীয় ফুটবলের দুই কিংবদন্তি। মাত্র এক মৌসুম চেলসির ম্যানেজারের দায়িত্ব সামলে মরিসিও সারি ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়ন জুভেন্টাসে যোগ দিয়েছেন। তাঁর শূন্যতা পূরণে ফুটবল বোদ্ধা থেকে সমর্থক, সবার পছন্দের তালিকার একেবারে শীর্ষে ছিলেন ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড।

চেলসি কর্তৃপক্ষও সবার পছন্দের কথা ভেবে ল্যাম্পার্ডের হাতেই তুলে দিল ক্লাবের দায়িত্ব। আর ওদিকে আবেগঘন বিদায়ের এক বছরের মাথায় আবারও জুভেন্টাসে ফিরে আসলেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। এ দুই কিংবদন্তির এমন আবেগময় দিনকে আরও স্মরণীয় করে রাখলেন আরিয়েন রোবেন। এ মৌসুমেই বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে তাঁর। প্রিয় ক্লাবের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করে ক্যারিয়ার আর দীর্ঘায়িত করার ইচ্ছা হয়নি তাঁর। পেশাদার ফুটবলকেই বিদায় বলে দিয়েছেন আজ।

গত মৌসুমে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে ডার্বি কাউন্টির দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু ল্যাম্পার্ডের। তখন থেকেই চেলসি সমর্থকদের মনের কোণে ভাবনাটি উঁকি দিচ্ছিল, হয়তো একদিন স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ডাগ আউটে লুইজ-কান্তেদের ম্যানেজার হিসেবে দেখা যাবে তাঁকে। গত বছরের নভেম্বরে লিগ কাপের চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে ডার্বি কাউন্টির ম্যানেজার হিসেবে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে আসেন ল্যাম্পার্ড।

চেলসিকে সেদিন প্রায় হারিয়েই দিয়েছিলেন, তবে ফেব্রিগাসের গোলে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জয় পায় চেলসি। কিন্তু স্বল্প পুঁজি দিয়েও ল্যাম্পার্ডের দলের লড়াকু মানসিকতা সবার মন কেড়ে নেয়। ডার্বি কাউন্টিকে প্রিমিয়ার লিগে প্রমোশন এনেই দিয়েছিলেন প্রায়, প্লে অফ ফাইনালে অ্যাস্টন ভিলার কাছে হেরে এবারের মতো থমকে গেছে সে স্বপ্ন। তবে মাত্র এক মৌসুমে ডার্বি কাউন্টির খেলায় অভূতপূর্ব উন্নতি এনে দেওয়ার ফলে ফুটবল বোদ্ধাদের প্রশংসা পাচ্ছেন ল্যাম্পার্ড। তাই সারি চেলসি ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সবার মুখে চলে আসে ল্যাম্পার্ডের নাম।

চেলসির দায়িত্ব নিয়ে যারপরনাই উচ্ছ্বসিত ক্লাবটির রেকর্ড গোলদাতা ল্যাম্পার্ড, ‘চেলসিতে ফিরে আসতে পেরে ভালো লাগছে। আমার মনে এই ক্লাব একটি বিশেষ জায়গা দখল করে আছে।’ তবে আবেগের স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন না বরং ম্যানেজার হিসেবে গুরুদায়িত্বের বিষয়েও সচেতন, ‘একজন তরুণ ম্যানেজার হিসেবে ক্লাব আমার কাছ থেকে সেরাটাই চাইবে। আমি ক্লাবের উন্নতিতে অবদান রাখতে চাই। তরুণ খেলোয়াড়দের দলে সুযোগ করে দিতে চাই। সর্বোপরি, ক্লাবকে সাফল্য এনে দেওয়াটাই হবে আমার কাজ, আমি সেই লক্ষ্যে পরিশ্রম করে যাব।’

এদিকে ২০১৭-১৮ মৌসুম শেষে জুভেন্টাসে দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। জুভেন্টাসের হয়ে ৬৫৬ ম্যাচ খেলা বুফনের বিদায়ের সময় তুরিনের আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে আবেগঘন উপলক্ষের অবতারণা হয়। ‘ওল্ড লেডি’দের ছেড়ে দুহ বছরের চুক্তিতে ফরাসি চ্যাম্পিয়ন পিএসজিতে যোগ দেন। কিন্তু এক মৌসুম পরেই আবারও নিজের পুরোনো ক্লাবে ফিরে এলেন ৪১ বছর বয়সী এই বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক। এক বছরের চুক্তিতে এবারে জুভেন্টাসে এসেছেন। আজ ক্লাবে মেডিকেলের পর নিজেদের অফিশিয়াল টুইটার থেকে তাঁর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় জুভেন্টাস।

ওদিকে আজই দীর্ঘ ১৯ বছরের পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ডাচ উইঙ্গার আরিয়েন রোবেন। ডাচ ক্লাব এফসি গ্রোনিঙ্গেনের যুব দল হয়ে ২০০০-০১ মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে অভিষেক হয় তাঁর। বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে পিএসভি, চেলসি এবং রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন। তবে ২০০৯ সালে রিয়াল থেকে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে এসেই যেন জাদুর কাঠির ছোঁয়া পান রোবেন। ফ্রেঞ্চ উইঙ্গার ফ্রাঙ্ক রিবেরির সঙ্গে দারুণ উইঙ্গার জুটি গড়ে তুলে দীর্ঘ এক দশক ইউরোপীয় ফুটবল দাপিয়ে বেড়িয়েছেন এই ডাচ কিংবদন্তি।

মৌসুম শেষে সেই রিবেরির সঙ্গেই বায়ার্ন ক্যারিয়ার সমাপ্ত করার ঘোষণা দেন রোবেন। দেশের হয়ে ৯৬ ম্যাচ খেলে ৩৭ গোল করেছেন। ২০১০ বিশ্বকাপে হল্যান্ডকে প্রথমবার বিশ্বকাপ জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তেও নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু ফাইনালে ম্যাচের সেরা সুযোগটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন রোবেন। ম্যাচের ৬২ মিনিটে ওয়েসলি স্নাইডারের বাড়ানো বলে ইকার ক্যাসিয়াসকে একা পেয়েও জালে জড়াতে অসমর্থ হন।

পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে রোবেন বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমি বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে শেষ ম্যাচ খেলার পর আমি সময় নিয়ে, ভেবে-চিন্তে সঠিক সিদ্ধান্তটি নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমি পেশাদার ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার সমাপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: