,


কুড়িগ্রাম (Kurigram)

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ইউপি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কর্তমান সরকার জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে ব্যপক পদক্ষেপ গ্রহন করলেও কুড়িগ্রামের উলিপুরে ইউপি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা বিরাজ করছে। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অনিয়মের কারণে এ উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবা ভেঙ্গে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ডাক্তার, কম্পাউন্ডার, মাঠ সহকারি ও ভিজিটরগণ নিয়মিত কেন্দ্রে উপস্থিত না থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার দরিদ্র পরিবারের অসহায় রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার থেতরাই, বজরা, গুনাইগাছ, তবকপুর, হাতিয়া, দূর্গাপুর, পান্ডুল, বেগমগঞ্জ ও সাহেবের আলগাসহ প্রায় সব কয়টি ইউপি-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো প্রায় দিন বন্ধ থাকে। কোন কোন কেন্দ্রে ডাক্তার আসলে রোগী থাকেনা, আবার রোগী আসলে ডাক্তার না থাকা নিত্য নৈমেত্তিক ব্যাপার। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষুধ নেই এই অজুহাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ডাক্তার, কর্মচারীগণ প্রায়ই অফিস ফাঁকি দিয়ে আসছে। আবার কোন কেন্দ্রের ভিজিটরসহ ডাক্তারগণ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট চেম্বারে কাজ করে আসার কারণে বাধ্য হয়ে গর্ভবতি মা ও রোগীরা চিকিৎসকের রশিরডোরে আটকা পরে টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। অপর দিকে পরিচর্যা ও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিহীনতায় সংস্কারের অভাবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো জড়াজীর্ন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় অধিকাংশ কেন্দ্রের জায়গা-জমি,আবাসিক কোয়টার সরকারের বেদখলে চলে যাচ্ছে। রবিবার উপজেলার নদী বিচ্ছিন্ন সাহেবের আলগা ও বেগমগঞ্জ ইউপি স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র দেখতে গেলে সেখানে অফিসের অস্তিত্ব খুজে পাওয়া যায়নি। গত ১০ বছর আগে ব্র‏হ্মপুত্র নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার পর এখন পর্যন্ত সেখানে স্বাস্থ্য কেন্দ্র গড়ে উঠেনি। তবে ভ্রাম্যমান কেন্দ্রের ব্যবস্থা থাকলেও তা চালছে কর্মীদের ইচ্ছে মত। এমন এক কেন্দ্রের বারান্দায় অপেক্ষ্যমান কিছু সংখ্যক ভুক্তভোগী রোগী অভিযোগ করেন তারা বহুদূর থেকে এসে এভাবেই প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে চলে যান তবু ডাক্তারের দেখা মেলেনা। একই ভাবে দলদলিয়া স¦াস্থ্য কেন্দ্রে অপেক্ষমান গর্ভবতি মা শাহেমা খাতুন, গোলেনুর বেগম, রিতা রানী, অঞ্জনা দেবী ও আকলিমা খাতুনসহ আরো অনেকে বলেন,‘তারা পাঁচ দিন এসেও ভিজিটরের দেখা পাননি। এ কেন্দ্রের প্রধান দড়োজার উপরে ঘুর্ণীঝড়ে উপরে পরা গাছ এখনো সরিয়ে নেয়া হয়নি জন্য, এই অযুহাত দেখিয়ে ডাক্তার ও ভিজিটরগণ কেন্দ্রে আসা এক রকম বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে দু”মাস থেকে কেন্দ্রটির মূল দড়োজায় তালা ঝুলে আছে। আথচ সরকারি দপ্তরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে এ সকল এলাকার রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য সেবার এই দৈন্যদসা দূর করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: