,


কলেজ ছাত্রী ধর্ষন মামলা তুলে নিতে ও আদালতে স্বাক্ষ্য না দিতে ভাইকে মারপিট

কলেজ ছাত্রী ধর্ষন মামলা তুলে নিতে ও আদালতে স্বাক্ষ্য না দিতে ভাইকে মারপিট

মারুফ সরকার, সিরাজগঞ্জঃ সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষনের ঘটনায় দায়ের করা মামলা তুলে নিতে ও আদালতে স্বাক্ষ্য না দিতে ছোটভাইকে তুলে নিয়ে মারপিট করে আহত করেছেন আসামী ও তার পরিবারের লোকজনেরা। গুরুতর আহত কলেজ ছাত্রীর ছোট ভাই শুভ
কে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায়
বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই কলেজ ছাত্রীর পিতা আদিল সরকার বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ আসামী করে সিরাজগঞ্জ জুডিসিয়াল আদালতে (কামারখন্দ) মামলা
দায়ের (মামলার পিটিশন নং-৫১/১৯)। করেছেন।

আসামীরা হলেন, কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের কয়েলগাতী গ্রামের আব্দুল গণীর ছেলে মাসুদ রানা সবুজ তার ভাই শাহীন রেজা, একই গ্রামের আবু বকর মন্ডলের ছেলে বাবু শেখ ও চৌবাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলামের আব্দুল হাকিম সহ অজ্ঞাত ৪/৫ জন।

মামলার অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৩ সালের ৫ অক্টোবর কামারখন্দ উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের কয়েলগাতী গ্রামের আব্দুল গণীর ছেলে মাসুদ রানা সবুজ
বাড়ির পাশ্ববর্তী আদিল সরকারের মেয়েকে তার নিজ ঘরে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। এঘটনায় কলেজ ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে কামারখন্দ থানায় ধর্ষন মামলা দায়েরে (মামলা নং জিআর-৫৫/১৩) করেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী মাসুদ রানা সবুজকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল

করে। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। মামলাটি তুলে নিতে ও স্বাক্ষ্য দেয়া থেকে বিরত থাককে আসামী ও তারপরিবার ধর্ষিত ওই কলেজ ছাত্রীর পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকী দিয়ে আসছে। গত ৪ সেপ্টম্বর এই মামলায় আদালতে স্বাক্ষ্য গ্রহনের দিন ধার্য্য ছিলো। আসামী ও তার লোকজন
কলেজ ছাত্রী ও তার ছোট ভাই শুভকে অপহরন করে হত্যা করার উদ্দেশ্যে ওৎ পেতে থাকে। গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে শুভ ফুটবল খেলে বাড়িতে ফিরছিলো। এসময় আসামী মাসুদ রানা সবুজ ও তার লোকজন শুভকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
এব্যাপারে কলেজ ছাত্রী বলেন, বাড়ির পাশ্ববর্তী মাসুদ রানা সবুজ আমার ঘরে ঢুকে আমাকে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। তারা এতই প্রভাবশালী যে তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। ধর্ষনের ঘটনায় আমার পিতা মামলা করার পর থেকে তারা বিভিন্ন সময় আমাদের উপর নির্যাতন চালায়। মামলা তুলে নিতে হুমকী দেয়। আমি কলেজে ভর্তি হয়েছি তারা আমাকে ভয় দেখায়। তাদের কারনে আমি কলেজে যেতে পারি না।
মামলায় স্বাক্ষ্য না দিতে ভয় দেখানোর জন্য আসামীরা আমার ভাইকে তুলে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারপিট করে। আমার ভাই মারা গেছে যেনে তারা আমার ভাইকে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কলেজ ছাত্রীর পিতা আদিল সরকার জানান, আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। এঘটনায় মাসুদ রানা সবুজ, শাহীন রেজা, বাবু ও আব্দুল হাকিম সহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: