,


এ কোন হৃতিক!
এ কোন হৃতিক!

এ কোন হৃতিক!

ডেস্ক রিপোর্টারঃ আহারে বেচারা! প্রথম দর্শনে আপনিও হয়তো এমনটাই বলবেন। বলার কারণও আছে। রুপসজ্জাটা যথেষ্ট মানিয়ে গেছে বটে। যেখানে অতিব্যবহারের কারণে গায়ে চেক হাফ শার্টটি মলিন। কাঁধে গামছা। চোখে মুখে যথেষ্ট ক্লান্তির ছাপ। বাসের জানায় পাঁপড় বিক্রি করছেন যুবক। এই যুবকই হলেন হৃতিক রোশন।

‘সুপার থার্টি’র শুটিংয়ের দৃশ্য ছিল এটি। আসছে ১২ জুলাই মুক্তি পাবে। তার আগে শুটিংয়ের বিশেষ মুহূর্তের ছবি নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেছেন হৃতিক রোশন। সংগত কারণে ভাইরালও হয়েছে তাঁর এ ছবিটি।

হৃতিকের এ ছবির শুরু থেকেই নানা কারণে আলোচনায় আসছে। বারবার এর মুক্তির তারিখ নির্ধারণ হয়েও পিছিয়ে গেছে। মুক্তির আগে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফ্যান্টম ফিল্মসের অভ্যন্তরীণ জটিলতা, আবার কখনো বা পরিচালক যৌন হেনস্তার ঘটনায় অভিযুক্ত হচ্ছেন। গুয়াহাটিতে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (আইআইটি) চারজন শিক্ষার্থী সিনেমাটি মুক্তির তারিখ স্থগিত চেয়ে নতুন একটি মামলা করেছেন। এ কারণে কোনোভাবেই স্বস্তি পাচ্ছিলেন না হৃতিক। অভিযোগকারীদের দাবি, সত্যিকার ঘটনার অবলম্বনে বলা হলেও সিনেমাটিতে গল্পের গরমিল রয়েছে।

ভারতীয় গণিতজ্ঞ আনন্দ কুমারের জীবনের ঘটনা অবলম্বনে তৈরি হয়েছে সুপার থার্টি। সেই আনন্দ কুমার, যিনি দুস্থ, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আআইটির প্রবেশিকায় বসার জন্য বিনা পারিশ্রমিকে অঙ্ক শেখান। আনন্দ কুমারের দাবি অনুসারে, তাঁর তত্ত্বাবধায়নে প্রায় ৩০জন শিক্ষার্থীকে আইআইটিতে ভর্তি করিয়েছেন। প্রায় আট মাস আগে এই চার শিক্ষার্থী আনন্দ কুমারের ওই ৩০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৬ শিক্ষার্থীর নাম জানতে চেয়ে গুয়াহাটি উচ্চ আদালতে একটি মামলা করেন। এর উত্তর চেয়ে আদালত আনন্দ কুমারের নামে একটি নোটিশও জারি করেন। যদিও আনন্দ কুমার আদালতে যাননি এবং মামলাটিও বর্তমানে ঝুলে আছে। এখন ওই চার শিক্ষার্থী নতুন করে এই মামলা দায়ের করেছেন। ছবিতে দেখা যায় সমাজের নিচুতলার ছেলেমেয়েদের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য প্রস্তুত করেন আনন্দ। ছবিতে হৃতিক অভিনয় করেছেন বিহারের একজন অঙ্ক শিক্ষকের ভূমিকায়। আর গল্পের প্রয়োজনে গ্ল্যামার মুখাবয়ব ছেড়ে আনন্দের চেহারার ছাঁচে নিজেকে ঢেলেছেন হৃতিক। গলার স্বর বদলেছেন।

বেশ কয়েক বছর হৃতিকের কোনো ছবি মুক্তি পায়নি বলিউডে। খানদের দাপট তো আছেই, সঙ্গে যোগ হচ্ছে হাঁটুর বয়েসি নতুন নতুন নায়কের ভিড়বাট্টা। এমন পরিস্থিতিতে ‘সুপার থার্টি’ দিয়ে নিজের করা জায়গাটা উদ্ধার করতে চাইছেন রাকেশ রোশন পুত্র। আর এ জন্য যথেষ্ট চেষ্টাও করছেন। এর মধ্যে পরিচালক বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠার কারণে হৃতিক নিজেই পরিচালক বিকাশ বহেলের নাম ছবি থেকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন। কঙ্গনা রানাউতের সঙ্গে ঝগড়া ফ্যাসাদ এড়িয়েছেন হৃতিক, মুখ বুজে সহ্য করে গেছেন। ঘোষণা দিয়েছিলেন ‘সুপার থার্টি’ মুক্তি দেবেন। কিন্তু কঙ্গনা ওই দিনই ‘মণিকর্ণিকা’র মুক্তি ঘোষণা করেন। সম্মুখ সমর এড়িয়ে হৃতিক ছবি পিছিয়ে দেন। আবার দ্বন্দ্ব তৈরি হয় কঙ্গনার ‘মেন্টাল হ্যায় কেয়া’র সঙ্গে। এবারও হৃতিক তাঁর নিজের অবস্থান বদলান। নিজের পুনঃপ্রতিষ্ঠা আর আসন্ন ছবির জন্য কোনো উটকো বিষয়কে পাত্তা দিতে চাইছেন না তিনি। সব মিলে বলা চলে অভিনেতা হৃতিকের কাছেও এ ছবি একটা পরীক্ষা। তিনি ছাড়াও এই ছবিতে অভিনয় করেছেন মৃণাল ঠাকুর, নন্দীশ সিং, অমিত সাধ, পঙ্কজ ত্রিপাঠি, বিজয় বর্মাসহ আরও অনেকে।

২০০০ সালে প্রথম ছবি ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’-এর মাধ্যমে তারকাখ্যাতি পেয়েছিলেন হৃতিক। তাঁর অভিনীত ‘ধুম টু’, ‘যোধা আকবর’, ‘মিশন কাশ্মীর’ ইত্যাদি ছবি বক্স অফিসে বাম্পার ব্যবসা করে এবং নন্দিত হয়। হৃতিকের বাবা প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক রাকেশ রোশন। ১৯৭৪ সালের ১০ জানুয়ারি মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: