,


এবার অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা

এবার অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে মামলা

বিনোদন ডেস্কঃ ৭ ও ১০ বছর বয়সী দুজন বালককে নাকি যৌন হয়রানি করেছিলেন পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন। তাঁর মৃত্যুর পর যুবক বয়সে তাঁরা হঠাৎ সেই অভিযোগ তুলে দাবি করেন বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ড্যান রিড নির্মাণ করেন ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’ নামে এক তথ্যচিত্র। আর এই তথ্যচিত্র নিয়ে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা।

শুরু থেকেই এই তথ্যচিত্র নিয়ে মাইকেল জ্যাকসনের পরিবার আর ভক্তরা তীব্র নিন্দা জানিয়ে আসছেন। তাঁরা বলেছেন, নিরপেক্ষতার বারোটা বাজিয়ে ওয়েড রবসন ও জিমি সেফচাকের বিবৃতিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এই তথ্যচিত্রে। মিথ্যাকে সত্যি করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। জ্যাকসন ভক্তদের মতে, এই তথ্যচিত্রের চরিত্র নাকি অনেকটা ‘ট্যাবলয়েড’ পত্রিকার মতো। আলোচনায় থাকতে আর পরিচিতি পেতে ‘যা খুশি তা-ই করা’র মতো।

এত দিন তাঁরা অভিযোগকারী রবসন ও সেফচাকের বিরুদ্ধে মৌখিক ও লিখিতভাবে তাঁদের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এবার তাঁদের মনে হয়েছে, এত দিন যেভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, সেটি যথেষ্ট নয়। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে জ্যাকসনের তত্ত্বাবধায়কেরা এই ছবির প্রযোজক এইচবিও চ্যানেলের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মামলা করেছিলেন। ৫৩ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে তাঁরা উল্লেখ করেছিলেন, তথ্যচিত্রটি অপপ্রচারমূলক ও একপেশে। এবার তাঁরা মূল অভিযোগকারী ওয়েড রবসন ও জিমি সেফচাকের বিরুদ্ধে মামলা ঠুকেছেন।

পেজ সিক্সের প্রতিবেদন অনুসারে, ফ্রান্সে মাইকেল জ্যাকসনের তত্ত্বাবধায়কদের পক্ষ থেকে এই মামলার দেখাশোনা করবেন অ্যাটর্নি ইমানুয়েল লুডট। তিনি মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও জানিয়েছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সে মাইকেল জ্যাকসনের ফ্যান ক্লাবের পক্ষ থেকে জন ব্র্যাঙ্কা বলেন, ‘মাইকেল জ্যাকসনের হয়ে ইমানুয়েল লুডটের আইনি লড়াইয়ে আমরা তাঁর সঙ্গে আছি, ফ্রান্স তাঁর সঙ্গে আছে। আশা করি, সত্যের জয় হবে। খুব শিগগির এই আইনি লড়াই একটা আন্দোলনে রূপ নেবে। আর তা ছড়িয়ে পড়বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও।’

তথ্যচিত্রটি প্রকাশের পর বিভিন্ন মহল থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। স্টারবাকস এবং লুইস ভুইটনের মতো আন্তর্জাতিক ব্যান্ডগুলো মাইকেল জ্যাকসনকে বর্জন করেছে। মাইকেল জ্যাকসনের ভক্তরা মেয়ে প্যারিস জ্যাকসনকে এই প্রামাণ্যচিত্রের বিষয়ে নীরব থাকার জন্য একাধিকবার ভর্ৎসনাও করেছেন। একবার মাত্র নীরবতা ভেঙে প্যারিস জ্যাকসন জানিয়েছিলেন, এগুলো করে কোনোভাবেই তাঁর বাবার সম্মানহানি করা সম্ভব নয়। তাঁর অবস্থান যেখানে আছে, সেখানেই থাকবে। কোনো কিছুই স্পর্শ করতে পারবে না তাঁকে, তাঁর জনপ্রিয়তা, সম্মান আর অর্জনকে।

‘মাইকেল জ্যাকসন নাকি তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন’, এক কিশোরের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০৩ সালে পুলিশ মাইকেল জ্যাকসনের ক্যালিফোর্নিয়ার খামারবাড়ি নেভারল্যান্ডে তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই বাড়ির নামেই তথ্যচিত্র ‘লিভিং নেভারল্যান্ড’। গত শতকের আশির দশকের শেষ দিকে আর নব্বই দশকের গোড়ায় মাইকেল জ্যাকসন নাকি ওয়েড রবসন ও জিমি সেফচাক নামের দুই শিশুকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। ওই শিশুরা এখন ত্রিশের কোঠায়। তাঁদের ভাষ্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্র। এই তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে, মাইকেল জ্যাকসনের যৌন নির্যাতন তাঁদের এতটাই মানসিক আঘাত করেছে যে তরুণ বয়স পর্যন্ত তাঁরা ওই ট্রমা থেকে বের হতে পারেননি।

মাইকেল জ্যাকসন যদি সত্যিই তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, তাহলে জীবদ্দশায় কেন তাঁরা মুখ খোলেননি? কেন মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর পরেই তাঁরা সরব আর প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠলেন? মূল অভিযুক্ত যদি আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য না-ই থাকেন, তাহলে সেই বিষয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র কতটা নিরপেক্ষ? এর জবাব মেলেনি। মাঝ থেকে এসব বিতর্ক ছুটে চলছে আলোর গতিতে। ঝড় তুলেছে সারা বিশ্বে। উদ্দেশ্য সফল হয়েছে নির্মাতাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: