,


উলিপুরের কাঁঠালবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিচারের দাবিতে ক্লাস বর্জন শিক্ষার্থীদের

উলিপুরের কাঁঠালবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিচারের দাবিতে ক্লাস বর্জন শিক্ষার্থীদের

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক প্রদীপ কুমার সাহা বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উক্তত্য করে আসছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
অভিভাবক আতিকুর রহমান রাসেল, মোস্তফাহারুল ইসলাম মুকুট ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আলী সহ বেশ কয়েকজন জানায়, ইতপূর্বেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রী উক্তত্য করার অনেক ঘটনা ঘটেছে। বিষয়গুলো নিয়ে অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকে অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেয়নি প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন।
অভিভাবকরা আরো জানায়, দীর্ঘদিন থেকে প্রধান শিক্ষক স্থানীয় প্রভাব দেখিয়ে জোরপূর্বক টাকার বিনিময়ে ছাত্রী উক্তত্য ঘটনা ধামাচাপা দিচ্ছে। বিদ্যালয়ের কোন ম্যানেজিং কমিটি নাই বলে জানায় অভিভাবকরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বিদ্যালয়ের জৈনিকা এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে সহকারি শিক্ষক প্রদীপ কুমার সাহা। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর বাবা ২০ জুলাই প্রধান শিক্ষক বরাবরে অভিযোগ করেন। পরে প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন টাকার বিনিময়ে ছাত্রীর বাবার সাথে আলোচনা করে ঘটনা ধামচাপা দিলে ছাত্রীর বাবা ২৩ জুলাই তার দেয়া অভিযোগ প্রত্যাহার করেন।
বেশ কয়েকজন ছাত্রী জানায়, সহকারি শিক্ষক প্রদীপ কুমার সাহা প্রায়ই সময় ছাত্রীদের উক্তত্য করে আসছে। এ সকল ঘটনা প্রধান শিক্ষককে জানালেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেয়নি। পরে এলাকাবাসী ও বিক্ষুব্ধ ছাত্র/ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক প্রদীপ কুমার সাহাকে বিদ্যালয়ে না পেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।
প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন টাকার বিনিময়ে ছাত্রী উক্তত্য ঘটনা ধামাচাপার বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, জৈনিকা এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার আগে ওই ছাত্রীর বাবা অভিযোগ প্রত্যাহার করে।
এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আব্দুর রব জানান, সহকারি শিক্ষক প্রদীপ কুমার সাহা জৈনিকা এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টার ঘটনা মৌখিকভাবে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তিনি আরো বলেন, কাঁঠালবাড়ি দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের কোন ম্যানেজিং কমিটি নেই। এব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: