আজ রূপা ধর্ষণ হত্যার ৩ বছর

স্টাফ রিপোর্টার: বহুল আলোচিত রূপা ধর্ষণ ও হত্যার তিন বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা শেষে বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আসানবাড়ী গ্রামের মৃত জেলহক প্রাং-এর মেয়ে মেধাবী ছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে চলন্ত বাসে গণধর্ষণ করে হত্যা করে পরিবহন শ্রমিকরা। পরে তাঁকে মধুপুর উপজেলায় পঁচিশ মাইল এলাকায় বনের মধ্যে ফেলে রেখে যায়।

এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে ২০১৭ সালে ২৮ আগস্ট ময়মনসিংহ-বগুড়া সড়কের ছোঁয়া পরিবহনের হেলপার শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) জাহাঙ্গীর (১৯) চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলীকে (৫৫) গ্রেফতার করে পুলিশ।

চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে নারী শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে রূপা হত্যার দায়ে ৪ আসামির ফাঁসি ও ১ জনের ৭ বছরের সশ্রম কারাদ- ও আর্থিক জরিমানার ঘোষণা করা হয়। এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ছোঁয়া পরিবহনের ওই বাসটি রূপার পরিবারকে দেওয়ার আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা ১৮ ফেব্রুয়ারি খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন। উচ্চ আদালতে আসামিপক্ষের আপিলের পর চাঞ্চল্যকর মামলাটি ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত শুনানিই শুরু হয়নি। দু-এক বছরের মধ্যে এই মামলার শুনানি হবে কি না তা-ও অনিশ্চিত। এদিকে অভিযুক্তদের বিচার ও তার শাস্তি নিজের জীবদ্দশায় দেখে যেতে চান রূপার মা হাসনা বেগম (৫৬)।

রূপা হত্যার পর ২০১৭ সালে ১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম দ্রুততম সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে রূপা হত্যার বিচারের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু আজও তার কোন বাস্তব প্রতিফলন না দেখে হতাশ রূপার পরিবারের সদস্যরা।