,


আইএমএফের কাছে ৫০০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা চায় আর্জেন্টিনা 1
অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকছে আর্জেন্টিনা। ছবি: রয়টার্স

আইএমএফের কাছে ৫০০০ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা চায় আর্জেন্টিনা

একটি বাংলাদেশ ডেস্কঃ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে পাঁচ হাজার কোটি ডলার ঋণ সহায়তা চেয়েছে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মাউরিসিও মাকরি বলেন, অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে দিশেহারা আর্জেন্টিনা। চলতি বছরে ডলারের বিপরীতে দেশটির মুদ্রা পেসোর দর কমেছে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।

গতকাল বুধবার আইএমএফ নিশ্চিত করেছে যে তারা দ্রুত ভিত্তিতে এর ব্যবস্থা নেবে এবং ঋণ প্রদানের ধাপ পরিবর্তন করবে।

এক বিবৃতিতে আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্দে বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনার এই উদ্যোগকে আমি জোরালো সমর্থন করছি এবং এই সরকারকে সহায়তার জন্য কর্মপরিকল্পনা সংশোধনে প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা।’

তবে বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, সরকারের বিপুল পরিমাণ ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হবে আর্জেন্টিনা। ঋণখেলাপিও হয়ে যেতে পারে তারা।

গত মে মাসে আইএমএফের শর্তে ঋণ নেওয়ার সম্মতি জানিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট। সে সময় মাউরিসিও মাকরি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠবে। এই ঋণের অর্থ ব্যবহারই করতে হবে না।

এমন অবস্থা হলো কী করে

বেশ কয়েক বছর ধরেই অর্থনৈতিক সংকটে ধুঁকছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বের অন্য সব দেশের চেয়ে সর্বোচ্চ সুদের হার এবং আইএমএফ থেকে সহায়তা নেওয়ায় বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণের পরও দর হারাতে থাকে পেসো।

চলতি বছরে মুদ্রার মান কমে যাওয়া সমস্যায় রয়েছে তুরস্ক ও ব্রাজিলও। তবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা আর্জেন্টিনার। জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতির হার আর্জেন্টিনায়। এ ছাড়া আইএমএফকে দেওয়া শর্ত অনুযায়ী অর্থনৈতিক সংস্কার করতে ব্যর্থ হয় সরকার। যেসব শর্তের অধিকাংশই ছিল ব্যয় সংকোচন ও ঋণ হ্রাস করাসংক্রান্ত।

এ অবস্থায় অর্থনীতিতে চাঙা ভাব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার দিয়ে নির্বাচিত হন প্রেসিডেন্ট মাকরি। তবে এখন পর্যন্ত এই সরকারের তেমন কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি।

আইএমএফের দৃষ্টিভঙ্গি

ডলারের বিপরীতে পেসোর মান রেকর্ড পরিমাণ কমায় গত মে মাসে আইএমএফের শরণাপন্ন হয় দেশটি। আইএমএফের শর্ত পূরণের জন্য ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি সংকট কাটাতে ব্যয় সংকোচন নীতি গ্রহণ করে আর্জেন্টিনা। ফলে আর্জেন্টিনার জনগণের প্রতিদিনের খরচ বেড়ে গেছে। অনেক নিত্যপণ্য ও সেবার দাম বেড়ে গেছে। মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি খরচ কমানোর অর্থ হলো জনগণের বেতন বাড়ছে না। ফলে বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ছে।

তবে গতকাল বুধবার ক্রিস্টিন লাগার্দে বলেন, এবার তারা ঋণ কর্মসূচি আর্জেন্টিনা সরকারের প্রয়োজনমতো সাজাবেন এবং সব আর্জেন্টিনার নাগরিকদের সুবিধার দিকটি তাঁরা দেখবেন।

আগে কখনো এমন হয়েছিল

এর আগে ২০০১ সালে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয় আর্জেন্টিনা সরকার। অচল হয়ে পড়ে ব্যাংকব্যবস্থা। এতে অর্থনীতির ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে। অনেকেই তাদের সম্পত্তি হারাতে দেখে। এ অবস্থায় অনেকেই প্রয়োজনমতো নিজের ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ তুলতে পারত না, যা সাধারণ জনগণের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তোলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: