,


অঙ্কিতার চোখ এখন বলিউডে
অঙ্কিতার চোখ এখন বলিউডে

অঙ্কিতার চোখ এখন বলিউডে

ডেস্ক রিপোর্টারঃ ‘আমি প্লেব্যাক সিঙ্গার হতে চাই। বলিউডের ছবিতে গান করব।’ বললেন অঙ্কিতা ভট্টাচার্য। ভারতের জি বাংলা আয়োজিত ‘সারেগামাপা’ প্রতিযোগিতায় এবার তিনি চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন দুই লাখ রুপির চেক, সোনার গয়না ও নতুন গাড়ি। সব মিলিয়ে রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে গেছেন। বললেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মা-বাবার সঙ্গে ব্যাংকে গিয়েছিলাম। সবাই চিনতে পেরেছেন। বলেছেন, “ওই দেখো, অঙ্কিতা যাচ্ছে! জি বাংলার সারেগামাপার চাম্পিয়ন।” খুব ভালো লেগেছে। এটাই তো চেয়েছিলাম।’ গত রোববার জি বাংলায় এই রিয়েলিটি শোর গ্র্যান্ড ফিনালে প্রচারিত হয়েছে। এরপর ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।

‘সারেগামাপা’ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানারআপ হয়েছেন বাংলাদেশের মাঈনুল আহসান নোবেল। প্রায় শুরু থেকেই বিচারক আর দর্শকদের তাঁর ব্যাপারে ছিল দারুণ আগ্রহ। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, নোবেল নাকি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছেন। অঙ্কিতা ভট্টাচার্য বললেন, ‘এসব নিয়ে একেবারেই ভাবিনি। এসব ভাবলে গান করব কখন? নোবেল নোবেলের মতো ছিল, আমি আমার মতো। আর দিন শেষে আমরা কিন্তু সবাই ভালো বন্ধু।’

পড়াশোনা নিয়ে অঙ্কিতা ভট্টাচার্য বললেন, ‘গোবরডাঙার ইছাপুর হাইস্কুলের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছি। আর্টস নিয়ে। সামনেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। অনেক দিন প্রতিযোগিতা আর গান নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে, পড়াশোনা থেকে দূরে ছিলাম। এখন পড়াশোনায় মন দেওয়ার চেষ্টা করছি। পড়াশোনাটা অবশ্যই চালিয়ে যাব।’

প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর ইছাপুর হাইস্কুলে যান অঙ্কিতা ভট্টাচার্য। বললেন, ‘স্কুলে পা রাখতেই হাততালিতে ফেটে পড়ে পুরো স্কুল। টিচাররা খুব আদর করেছেন। বন্ধুরা এসে জড়িয়ে ধরেছে। স্কুলের সবাই কিছু না কিছু উপহার দিয়েছে। কেউ কিনে এনেছে, কেউ বাড়ি থেকে তৈরি করে এনেছে।’

জানালেন, ‘সারেগামাপা’ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর মিউজিক অ্যালবাম আর চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার প্রস্তাব আসছে তাঁর কাছে। শো করার অনেকগুলো প্রস্তাব জমা হয়েছে। তবে সবকিছু পর তাঁর একমাত্র স্বপ্ন ‘প্লেব্যাক সিঙ্গার’ হওয়া। আরও বললেন, ‘শাস্ত্রীয় সংগীতের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন মিউজিকও শিখব, যাতে সব ধরনের গান গাইতে পারি।’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার শহর গোবরডাঙায় থাকেন অঙ্কিতা ভট্টাচার্য। বাড়ি ফিরে বইখাতা নিয়ে বসে পড়েছেন অঙ্কিতা। হাতে একদম সময় নেই। আগামী বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হবে। ইছাপুর হাইস্কুলের শিক্ষকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বললেন, ‘সবাই আমাকে ভীষণ সাহায্য করেছেন। গানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বলেছেন। স্কুলের উপস্থিতি নিয়ে ভাবতে নিষেধ করেছেন। পরীক্ষার দিন থাকতে পারিনি, কিন্তু পরে আলাদা করে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।’

গান শেখার ব্যাপারে বললেন, ‘আমি কিন্তু শুরু করেছি নাচ দিয়ে। মা চেয়েছিলেন নাচ শিখব। পাঁচ বছর বয়সে যখন গান গাইতে শুরু করি, তখন বাবা গান শিখতে বললেন। বাবা খুব ভালো গান বোঝেন। সেই থেকে শুরু। মা সব ধরনের গান করেন। মায়ের কাছেই আমার গানে হাতেখড়ি। তারপর রাধামাধব পালের কাছে শিখেছি। সাত বছর ধরে শিখছি রথীজিৎ ভট্টাচার্যের কাছে।’ মায়ের ইচ্ছাতেই ‘সারেগামাপা’ রিয়েলিটি শোতে অংশ নেন। মা-বাবার খুব ইচ্ছা ছিল, তাঁদের মেয়ে এই মঞ্চে গান করবে। অডিশনের পরের অভিজ্ঞতা অঙ্কিতা ভট্টাচার্য বললেন এভাবে, ‘অডিশনের পর যখন সিলেক্ট হলাম, ভয়ে আমার হাঁটু কাঁপছিল। এত বড় মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছি, এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে!’

মায়ের গান শুনে শুনে অঙ্কিতা ভট্টাচার্যও সব ধরনের গান করেন। তবে তামিল গান শুনতে বেশি ভালো লাগে। সংগীতে তাঁর আইডল আশা ভোসলে। ভীষণ পছন্দ করেন শ্রেয়া ঘোষালের গান। এ ছাড়া কিশোর কুমার, সনু নিগম, সুনিধি চৌহানসহ আরও অনেকের গান শোনেন।

গানের পাশাপাশি অঙ্কিতা ভট্টাচার্য আবৃত্তি করেন, নাটকে অভিনয় করতে, নাচ করেন। তিনি খেলাধুলাও করেন। স্কুলের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় কয়েকবার পুরস্কারও জিতেছেন। তিনি সাজতে খুব ভালোবাসেন। বললেন, ‘নিত্যনতুন সাজ দারুণ লাগে। “সারেগামাপা”র গ্র্যান্ড ফিনালের জন্য সাজটা আমার খুব ভালো লেগেছে। সবাই বলেছেন, তোমাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে।’

নিজের রঙিন ভবিষ্যৎ নিয়ে অঙ্কিতা ভট্টাচার্য বললেন, ‘আমি কিন্তু গ্রামের মেয়ে, এটা কখনো ভুলব না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


এই বিভাগের আরো

%d bloggers like this: